পাইকগাছা সংবাদ ॥ শিবসা নদী ভরাট হওয়ায় করুণ অবস্থার সৃষ্টি


351 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছা সংবাদ ॥ শিবসা নদী ভরাট হওয়ায় করুণ অবস্থার সৃষ্টি
নভেম্বর ১৪, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস,এম, আলাউদ্দিন সোহাগ :
পাইকগাছায় শিবসা নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় দ্রুত নদীটি পলি জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ভাটার সময় শিবসার প্রায় ১০/১২ কিলোমিটার এলাকায় কোথাও থাকে না এতটুকু পানি মাত্র। সামান্য জলোচ্ছাস বা জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলেই পৌর সদরসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। নদীটি এখনই খনন না করা হলে আগামী বৃষ্টি মৌসুমেই পৌরসভাসহ বি¯তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা করছে এলাকাবাসী।

পাইকগাছা পৌরসভা, কচুবুনিয়া, বাইশারাবাদ, ঘোষাল এলাকা শিবসা নদীর উপকূলে অবস্থিত। মাত্র কয়েক বছর পূর্বে এ নদীতে চলত লঞ্চ, স্টীমার ছাড়াও বিভিন্ন প্রকার নৌযান। দক্ষিণ এলাকার লোকজনের খুলনা জেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র পথ ছিল এই নদী। পাইকগাছা বাজারের পাশেই ছিল যাত্রী ছাউনী আইডব্লিউ ঘাট। প্রতিদিন কয়েকটি লঞ্চ ভিড়ত উক্ত ঘাটে। লোকজন উঠা-নামা সহ ব্যবসায়িক মালপত্র উঠানামা করত। দূর-দূরন্ত থেকে স্বল্প খরচে মালামাল আনা-নেয়া করা হতো এ পথে। পৌরসভার শিববাটী ও বাজার এবং আলোকদ্বিপ, হাঁড়িয়া নামকস্থানে ছিল খেয়াঘাট। প্রতিদিন শ’শ যাত্রী পারাপার হতো খেয়া নৌকায়। ছিল জলদী নৌকা। বাস্তবতার নিরিক্ষে কোথাও কোন খেয়াঘাট আর নেই। দূর-দূরত্ব থেকে আসে না কোন নৌযান। নদীটি দ্রুত ভরাট হওয়ার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নদীর তলদেশের তুলনায় পৌর সদর ও নদীর দক্ষিণ পাশের বিলের জমি অনেক উচু হয়ে গেছে। ফলে পৌর সদর সহ এলাকার পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা হারিয়ে ফেলেছে। নদীতে সামান্য জলোচ্ছাস বা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হলে বাজার তলিয়ে যায়। সামান্য শহররক্ষা বাঁধের কারণে এলাকায় পানি সহজে প্রবেশ করে না। তবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে এবং অতি বৃষ্টি হলে পৌরসভাসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। অপেক্ষা করতে হয় ভাটার জন্য। নদীতে পলি জমার কারণে দু’ধারে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ জন্মে বনাঞ্চলে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শিববাটী ব্রীজ হতে পৌর সদরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া শিবসা নদী হাড়িয়া পর্যন্ত প্রায় ১০/১২ কিলোমিটার পলি জমে চরাঞ্চলে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে অনেক জায়গায় ভূমিদস্যুরা দখল করে বাড়ি, ঘর, দোকান-পাট করেছে। ভাটার সময় লোকজন পায়ে হেটে নদী পার হয়। শিবসা নদীর যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা দ্রুত খননের ব্যবস্থা না নেয়া হলে পাইকগাছা পৌরসভাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা পানিতে নিমজ্জিত থাকবে। এ ব্যাপারে পাইকগাছা পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর বলেন, শিবসা নদী যেভাবে ভরাট হচ্ছে তাতে দ্রুত খনন কার্য্য অপরিচার্য হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে তিনি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে এ প্রতিনিধিকে জানান। উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডঃ স.ম. বাবর আলী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে আলাপ-আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান। বৃহত্তর জনগোষ্ঠির এই এলাকার নদীটি খনন করে পূর্বের ধারায় ফিরিয়ে নিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

১৪ বছর টেকনিশিয়ান না থাকায়
পাইকগাছা উপজেলার ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিন নষ্ট
এস,এম, আলাউদ্দিন সোহাগ :
টেকনিশিয়ান না থাকায় প্রায় সাড়ে ১৪ বছর পাইকগাছা উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিনটি নষ্ট হয়ে গেছে। প্রাইভেট প্যাথলজির কমিশন ব্যবসার স্বার্থে মেরামত করা হচ্ছে না এক্স-রে ও আলট্রাসনো মেশিন। তেমনি নিয়োগও হচ্ছে না টেকনিশিয়ান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দক্ষিণাঞ্চলের চিকিৎসা সেবার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। পাইকগাছা উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কয়রা, দাকোপ, আশাশুনি, তালার অনেকেই এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকে। এ লক্ষ্যে ২০০২ সালের ১০ জুলাই একটি এক্স-রে মেশিন প্রদান করেন। প্রদানের কয়েকদিন মাত্র ব্যবহার হলেও দীর্ঘ ১৪ বছর ৪ মাস ধরে কোন টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে কোন মাথা ব্যথা না থাকায় এক্স-রে মেশিনটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এদিকে সরকার গত ১২ আগস্ট একটি আলট্রাসনো মেশিন প্রদান করলেও রোগীদের স্বার্থে তা ব্যবহার করা হচ্ছে না। আলট্রাসনোর জন্য কোন বিভাগ চালু করা হয়নি। এ ব্যাপারে উপজেলা প.প. কর্মকর্তা ডাঃ প্রভাত কুমার দাশ জানান, টেকনিশিয়ান না থাকার কারণে অদ্যাবধি এক্স-রে মেশিনটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবে মেশিনটি মেরামত করা হলে ব্যবহার উপযোগী হবে বলে তিনি ধারণা করছেন। টেকনিশিয়ান নিয়োগের ব্যাপারে সিভিল সার্জন, খুলনা ডাঃ এএসএম আব্দুর রাজ্জাক গত ৭ নভেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ বিষয়টি সহ অন্যান্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চাহিদাপত্র পাঠিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। হাসপাতালে আগত রোগী সরল গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক সানা বলেন, হাসপাতালের এক্স-রে, আলট্রাসনো মেশিন ব্যবহার হলে সাধারণ মানুষের উপকার হতো। কিন্তু ডাক্তার ও কর্মচারীদের প্যাথলজি ব্যবসা বন্ধ হওয়ার ভয়ে এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

নিরক্ষণ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন
পাইকগাছায় শহীদ জিয়া বালিকা বিদ্যালয়ে ৩ শিক্ষক, ১ কর্মচারীর বিধি বহির্ভূত নিয়োগ
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি :
পাইকগাছার শহীদ জিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ৩ শিক্ষক ও ১ কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরকারী বিধি বহির্ভুত নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে গঠিত ৩ সদস্যের নিরক্ষণ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে এটি দেখা যায়। এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগে প্রকাশ, উপজেলার গোপালপুর শহীদ জিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছে। যার মধ্যে ১ সেপ্টেম্বর’১৯৯২ সালে রেজুলেশন ও বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই সিনিয়র শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ও কণিকা ঘোষ শাখা শিক্ষকে নিয়োগ পেয়ে সহকারী শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। অপরদিকে শংকর প্রসাদ মুনি ও সহকারী কম্পিউটার অপারেটর মোমিনুল ইসলামের সনদপত্র সন্দেহজনক বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ। এ ব্যাপারে মাউশি’র আঞ্চলিক পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক ও আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষণ কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, তদন্তকালে নিয়োগ সংক্রান্ত কিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে। তা কতটুকু যথার্থ তা আরো যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ডাঃ শেখ শহিদউল্লাহ বলেন, নিরীক্ষণ কমিটির প্রতিবেদন দেখছি। কয়েকজন শিক্ষক কর্মচারীর নিয়োগে বিধি লংঘিত হয়েছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে। দ্রুত এ ব্যাপারে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে বলে তিনি জানান। সিনিয়র শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছে। আমি নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিয়োগ পেয়েছি। তবে সহকারী শিক্ষক জি,এম, শওকত হোসেন ও অঞ্জলী রায়ের নিয়োগেও ত্রুটি রয়েছে। এ ব্যাপারেও তদন্ত হওয়া উচিত।