পাইকগাছা সংবাদ ॥ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে চলছে ৫০ শয্যার কার্যক্রম


327 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছা সংবাদ ॥ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে চলছে ৫০ শয্যার কার্যক্রম
জানুয়ারি ১৯, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ,পাইকগাছা (খুলনা) :
দীর্ঘ ৬ বছরেও পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল বৃদ্ধি করা হয়নি। ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে চলছে ৫০শয্যার কার্যক্রম। তার উপর অধিকাংশ পদ শূণ্য থাকায় ডাক্তার কর্মচারীদের অতিরিক্ত রোগীদের নিয়ে প্রতিনিয়ত চিকিৎসা সেবা দিতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অনেকেরই অভিমত এ যেন নামে তাল পুকুর অথচ ঘঁটি না ডোবার অবস্থা।

১৯৯৭ সালের ২২ অক্টোবর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা নিয়ে নবনির্মিত ভবনে তার কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু বিস্তীর্ণ জনপদের ব্যাপক সংখ্যক মানুষের স্বাস্থ্য সেবার কথা চিন্তা করে সরকারের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ ২০০৯ সালের ২ ডিসেম্বর ৩১ শয্যার হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। তাৎক্ষণিক ভাবে জনপদের সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছিল তৎকালীণ সরকারকে।

কিন্তু এরপর থেকেই মূলত শুরু হয় যত বিপত্তি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি শুধুমাত্র ফাইল পত্রে ৫০ শয্যা দেখিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে পূর্বের সেই ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে। সুন্দরবন উপকূলীয় এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে শুধুমাত্র পাইকগাছা উপজেলার রোগীরাই নন, উপরন্তু পার্শবর্তী উপজেলাগুলো থেকেও বিভিন্ন পর্যায়ের শত’ শত রোগীরা জরুরী চিকিৎসা সেবা নিতে সেখানে ভীড় জমান। একেতো ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে চালানো হচ্ছে ৫০ শয্যার কার্যক্রম তার উপর ৩১ শয্যার জন্য যে জনবল প্রয়োজন পোষ্টিং রয়েছে তার প্রায় অর্ধেক।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য যেখানে ২২ জন ডাক্তারের প্রয়োজন সেখানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৬ জন ডাক্তার, ১৬জন নার্সের স্থলে কর্মরত রয়েছেন ৭ জন, ১২৬ জন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর স্থলে ৭৪ জন কর্মরত রয়েছেন, ২৭জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর স্থলে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১০ জন। প্রতিনিয়ত বিপুল সংখ্যক রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে সেখানকার অধিকাংশ ডাক্তারদের রীতিমত সার্বক্ষণিক  ব্যাপক চাপে থাকতে হয়।

যার মধ্যে রয়েছেন গাইনি ও ডেন্টাল ডাক্তারও। সূত্র জানায়, বর্তমানে উপজেলায় জনসংখ্যা ৩ লাখেরও অধিক। তার উপর পার্শবর্তী উপজেলার রোগীরা তো রয়েছেনই। যাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিই একমাত্র ভরসা।

এছাড়া চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ডাক্তার কেন্দ্রীক নানা জটিলতা তো রয়েছেই এমনটি জানালেন রোগীদের অনেকেই। হাসাপাতালে ভর্তিকৃত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রোগী এপ্রতিনিধিকে জানান, ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ ২ বারের বেশী ডাক্তারদের সাক্ষাৎ মেলা দুষ্কর। নানা সংকটের সাথে নতুন করে যুক্ত বর্তমানে ডাক্তারদের পে-স্কেল নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচীর অংশ হিসেবে কর্মবিরতি যেন রোগীদের কাছে মরার উপর খাঁড়ার ঘাঁ।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডাঃ প্রভাত কুমার দাশ জানান, হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও জনবলের প্রশাসনিক অনুমোদন পায়নি গত ৬ বছরেও। ২০০৯ সাল থেকে অদ্যবধি রোগীদের জন্য শুধুমাত্র ৫০ শয্যার খাদ্য সহায়তা ছাড়া আর কোনো কিছুই মেলেনি।

সর্বশেষ জনবল থেকে শুরু করে নানাবিধ সংকটে উপজেলার রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে ভোগান্তির যেন আজ আর অন্ত নেই। সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের নিকট অবহেলিত জনপদের বঞ্চিত মানুষের দাবি উপজেলায় স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র ভরসা হাসপাতালটিতে অচিরেই নিয়োগ দেয়া হোক ৫০ শয্যার জনবল।
##

পাইকগাছা-খুলনা মহা-সড়কের ১৫ কিঃমিঃ চলাচলের অনুপযোগী

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি :
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর খানা-খন্দকে ভরা খুলনা-পাইকগাছা সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হতে না হতেই কপিলমুনির গোলাবাড়ি মোড় থেকে পাইকগাছা বাসস্ট্যান্ড জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তা পূর্বের অবস্থায় ফিরে গেছে। পিচ, খোঁয়া উঠে তৈরী হয়েছে বড় বড় গর্তের। দীর্ঘদিন সংষ্কার কাজ না হওয়ায় ঐ সকল গর্তে প্রতিদিন শত’ শত যানবাহনের চাকা পড়ে তা প্রসারিত হয়ে বর্তমানে একেবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এমনটা চলতে থাকলে যে কোন সময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে বিচ্ছন্ন হতে পারে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এমনটাই মনে করছেন জনপদের ভূক্তভোগি লাখ লাখ মানুষ।এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোটি টাকা ব্যয়ে  রাস্তাটি সংস্কারের মাত্র মাস দু’য়েক পর থেকেই মূলত রাস্তার বেহাল দশা শুরু হয়। দক্ষিণ খুলনার অন্যতম প্রধান ব্যস্ততম সড়কটি অল্প দিনেই ফিরে যায় তার পুরনো চেহারায়।

সূত্র জানায়, স্বাধীনতা পরবর্তী আশির দশকে রান্তাটির পাকাকরণের পর থেকেই মূলত খুলনা-পাইকগাছা সড়কে যাত্রীবাহী বাসসহ প্রায় সব ধরনের ছোট-বড় যানবাহন চলাচল শুরু হয়। সুন্দরবন উপকূলীয় অবহেলিত দক্ষিণ জনপদের জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি শুরু থেকে অদ্যবধি কখনও সম্পূর্ণ সুষ্ঠুভাবে চলাচল উপযোগি হয়ে ওঠেনি। বছরের প্রায় সিংহভাগ সময়ই ভাঙ্গাচুরা রাস্তায় দূর্ভোগের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করে আসছে সকল প্রকার যানবাহন।

২০১১ সালের আগস্টের দিকে  কপোতাক্ষের পানি বৃদ্ধি ও অতি বর্ষণে সড়কের তালা থেকে পাইকগাছার কাশিমনগর পর্যন্ত এলাকায় ২/৬ ফুট পানির নীচে তলিয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় সকল প্রকার যান চলাচল। এভাবে কয়েক মাস সারাদেশের সাথে জনপদটি অলিখিত ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সড়কের কোথাও কোথাও পথযাত্রীদের চলাচলে বসানো হয় নৌকা ঘাট। এরপর মওসুম শেষে পানি কমতে থাকলে শুরু হয় সংষ্কার কাজ। তবে নির্মাণ ও সংষ্কার কাজে ব্যাপক দূর্নীতি ও অনিয়মে সড়কটি তেমন যুৎসই ও মজবুত হয়নি। এনিয়ে ঐ সময় পত্রিকান্তে ব্যাপক লেখালেখি হলেও বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়নি সড়ক বিভাগ সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের কারো। সংষ্কারের সময়ও ঠিকাদাররা সড়ক আটকে পথযাত্রীদের অবর্ণনীয় দূর্ভোগের মধ্যে ফেলে দেয়। একপর্যায়ে গত বছরের এপ্রিলের দিকে সড়কের সংস্কার কাজ শেষ করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তবে ঐ কাজে তালা থেকে কাশিমনগর পর্যন্ত সড়ক সংষ্কার মোটামুটি শেষ করলেও কপিলমুনি-পাইকগাছা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয় যেন তেন জোড়া-তালি দিয়ে।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ব্যস্ততম সড়কটিতে ১০ চাকার ভারী ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়নি। প্রায়ই পাইকগাছা-কয়রায় বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহে অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই ট্রাকগুলো হরহমেশা অবাধে চলাচল করছে। এছাড়া দেশের অন্যতম প্রধাণ রপ্তানী পণ্য হিমায়িত চিংড়ি উৎপাদণের প্রধাণ কেন্দ্র পাইকগাছা-কয়রা থেকে প্রতিদিন শত’ শত মাছবাহী ট্রাক-পিকআপ চলাচল করে সড়কে। এক কথায় সরকার তার রাজস্বের একটি বড় অংশ জনপদটি থেকে আয় করলেও এখানকার প্রধাণ সড়কটি সংষ্কারে তেমন গুরুত্বের সাথে দেখেনা বলেও অভিযোগ জনপদের লাখ লাখ মানুষের। ভুক্তভোগি ঐ সকল মানুষ জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি টেকসই ও মজবুত ভাবে সংষ্কারে সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
##

পাইকগাছায় তাঁত শিল্প প্রায় বিলুপ্ত : তাঁতিরা পদবী পরিবর্তনে ব্যস্ত

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি :
খুলনার পাইকগাছায় তাঁত শিল্প বিলুপ্ত প্রায়। ২৫-৩০ বছর পূর্বে এটা ছিল পরিপূর্ণ জৌলুসে ভরা। বর্তমানে তা কলঙ্কময়। তাঁতিরা এ শিল্পের পরাজিত করে এবং ঐতিহ্যবাহী বংশের নাম পরিবর্তে করছে অট্ট হাসি। বর্তমানে তাঁতি নামের কারিকর বংশের পরিচয় দিতে তারা লজ্জাবোধ করে।

জানা যায়, খুলনার জেলার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর, চাঁদখালীসহ কয়েকটি ইউনিয়নে হাজার হাজার তাঁতি পরিবার বসবাস করত। তারা সুঁতো দিয়ে কাপড় তৈরী করে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে সংসার পরিচালনা করত। তাদের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পের জন্য এক সময় তারা নিজেদেরকে গর্বিত মনে করত। বংশ মর্যাদায় লেখা হতো করিকর পাড়া। তাঁত বোনার সময় শোনা যেত ঠুক-ঠাক শব্দ ও ভাটিয়ালি গানের আওয়াজ। তাঁতে বোনা শাড়িতে তারা বিভিন্ন রংঙের সুঁতো ও রঙ দিয়ে শাড়িকে সৌন্দর্য্যমন্ডিত করে তুলতো। উক্ত পাড়াসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ছুটে যেতো এই ঠুক-ঠাক শব্দ ও ভাটিয়ালি গান শোনার জন্য। তাঁতিপাড়া ছিল সম্পূর্ণ জৌলুসে ভরা। বর্তমানে কালের বিবর্তনে সুঁতোর দাম বৃদ্ধির কারণে এবং এ শিল্পে ভাগ্যের উন্নয়ন না থানায় তাঁতিরা বাপ-দাদার আমলের এ পেশা ছেড়ে বেছে নিয়েছে ভিন্ন ধরণের পেশা। কুঠির শিল্পের এ পেশাটি বর্তমানে পাইকগাছায় প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তাঁড়িপাড়ায় এখন আর তাঁত বোনার ঠুক-ঠাক শব্দ বা ভাটিয়ালি গানের কোন সুর শোনা যায় না। এছাড়া বাপ-দাদার আমলের কারিকর বংশের নামও অনেকে পাল্টে ফেলে গাজী, সানা, সরদার পদবী ব্যবহারে ব্যস্ত রয়েছে। তারা মনে করছে এসকল বংশই সভ্যতার অপর সম্ভাবনাময় স্থান। তাঁতিপাড়ার আজহার জানান, প্রায় ৩০ বছর পূর্বে আমাদের তাঁত শিল্পে যে যৌলুস ছিল তাঁতিদের অভাব অনাটনের কারণে প্রায় সকলে অন্য পেশা চলে যাওয়ায় তাঁত শিল্প বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এছাড়া কারিকর বংশটি অনেকে বেমানান মনে করে নামের সাথে অন্য পদবী যোগ করছে। যা বাপ-দাদার বংশেকে রীতিমত অপমান করা হচ্ছে। চৈতন্য জানান, তাঁত শিল্পে ভাগ্যের কোন উন্নয়ন না থাকায় আমরা এ শিল্প বাদ দিয়ে অন্য শিল্প বেছে নিয়েছি।