পাইকগাছা সংবাদ ॥ ১০ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যারা নৌকা পেয়েছেন


400 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছা সংবাদ ॥ ১০ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যারা নৌকা পেয়েছেন
মার্চ ১৪, ২০২১ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::

পাইকগাছার ১০ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আওয়ামী লীগ থেকে ১০ চেয়ারম্যান প্রার্থীকে দলীয় প্রার্থী মনোনীত করে নৌকা প্রতীক প্রদান করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ১০ ইউনিয়ন থেকে ১শ জন প্রার্থী আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করে আবেদন করে। শনিবার রাতে ঢাকা থেকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও মনোনয়ন বোর্ড ১০ প্রার্থী চূড়ান্ত করে নৌকা প্রতীক প্রদান করার মাধ্যমে তালিকা প্রকাশ করে। এবারে যারা নৌকা পেয়েছেন তারা হলেন, ১নং হরিঢালী ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক শেখ বেনজীর আহমেদ বাচ্চু গতবারও তিনি মনোনয়ন পেয়েছিলেন তবে নির্বাচিত হতে পারেননি, ২নং কপিলমুনি ইউনিয়ন থেকে পুনরায় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়াদ্দার, ৩নং লতা ইউনিয়নে পেয়েছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাস, ৪নং দেলুটি ইউনিয়ন থেকে পুনরায় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল, ৫নং সোলাদানা ইউনিয়ন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল মান্নান গাজী গতবার তিনি মনোনয়ন পেলেও নির্বাচিত হতে পারেন নি, পরবর্তীতে জেলা পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন, ৬নং লস্কর ইউনিয়ন থেকে পুনরায় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান ইউপি চেয়ারমান কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন, ৭নং গদাইপুর ইউনিয়ন থেকে প্রথমবারের মত মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা শেখ জিয়াদুল ইসলাম জিয়া, ৮নং রাড়–লী ইউনিয়ন থেকে প্রথমবারের মত আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ এর আগে তিনি অত্র ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৫ বার ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন, ৯নং চাঁদখালী ইউনিয়নে এবারও দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুনছুর আলী গাজী গতবার তিনি মনোনয়ন পেলেও নির্বাচিত হতে পারেন নি ও ১০নং গড়ইখালী ইউনিয়ন থেকে পুনরায় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বিশ্বাস।

#

আদালত এলাকা থেকে ইজিবাইক ও মটর সাইকেল স্ট্যান্ড অনত্র স্থান্তর; ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::

পাইকগাছা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবার পৌর সদরের আদালত এলাকা থেকে ইজিবাইক ও মটর সাইকেল স্ট্যান্ড অনত্র স্থান্তর এবং ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। রোববার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুটি স্ট্যান্ডকে শিবসা ব্রীজের অপার প্রান্তে স্থান্তর ও আদালতের সামনের সড়কের ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডঃ জিএম আব্দুস সাত্তার ও কাউন্সিলর কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজ। উল্লেখ্য, সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ও আদালতের সামনে ইজিবাইক এবং মটরসাইকেল স্ট্যান্ড করায় অত্র সড়কে যানজটের সৃষ্টি সহ যাতায়াতে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় উত্থাপিত হলে স্ট্যান্ড দুটি অনত্র স্থান্তরের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

#

পাইকগাছার চাঁদখালীর অবৈধ কয়লা তৈরীর কারখানা বন্ধ করে দেওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি

এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::

পাইকগাছার চাঁদখালীর অবৈধ কয়লা তৈরীর কারখানা বন্ধ করে দেওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শাহরিয়ার হক’কে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় জিডি হয়েছে। প্রাপ্ত অভিযোগে জানাগেছে, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তত্ত্বাবধায়নে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শাহরিয়ার হক ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার উপজেলার মাহমুদকাটী ও চাঁদখালীতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। অবৈধভাবে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরীর কারখানা পরিচালনার মাধ্যমে এলাকার পরিবেশ দুষণ করার অভিযোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার হক চাঁদখালীতে গড়ে ওঠা ৬টি কয়লা তৈরীর কারখানা বন্ধ করে দেন। প্রশাসনের এমন অভিযানে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ সাধুবাদ জানালেও মেনে নিতে পারেনি কতিপয় ব্যক্তিরা। অভিযান শেষে ফেরার সময় পথিমধ্যে ০১৮৩৭-৫২৭২১৯ ও ০১৬৮৬-৩৯৫০০৭ নং দুটি নাম্বার থেকে শহীদ গাজী নামে জনৈক ব্যক্তি কয়লা চুল্লির মালিক পরিচয় দিয়ে কেন চুল্লি বন্ধ করা হলো মর্মে শাহরিয়ার হকের নিকট জানতে চান। এবিষয়ে কথা বলার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করার কথা বলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পরের দিন ১২ মার্চ সন্ধ্যার দিকে ০১৭১২-৮৮৫৯১৩ ও ০১৪০১-১৭৫০১৫ নং দুটি নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে এসিল্যান্ড শাহরিয়ার হকের নিকট আক্রমনাত্মক ভাষায় কেন চুল্লি নষ্ট করা হলো এবং কার নির্দেশে এটি করা হলো জানতে চায়, পাশাপাশি এলাকার সকল চুল্লি ধ্বংস করা না হলে এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে মর্মে হুমকি দেয়। এ ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শাহরিয়ার হক পাইকগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন। যার নং- ৭১২, তাং- ১২/০৩/২০২১ ইং। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী ও ওসি এজাজ শফী জানান, মোবাইল নাম্বার অনুসরণ করে হুমকি দাতাদের খোঁজা হচ্ছে। আশা করছি খুব দ্রুত গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

#

ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় বিপাকে মেম্বর প্রার্থী আবু জাফর মল্লিক

এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::

পাইকগাছায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় বিপাকে পড়েছেন গড়ইখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী আবু জাফর মল্লিক। পূর্বের ভোটার তালিকায় তার নাম থাকলেও নির্বাচন কমিশন থেকে সরবরাহকৃত ভোটার তালিকায় তার নাম নাই। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার পর বিষয়টি নজরে আসে প্রার্থী জাফর মল্লিকের। সে গড়ইখালী গ্রামের মৃত সফিজ উদ্দীন মল্লিকের ছেলে। তার জাতীয় পরিচয়পত্র নং ৪৭১১৮৭২১৬২৪০, পূর্বের ভোটার তালিকার ক্রমিক নং ছিলো ০৫৩৬। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন থেকে সরবরাহকৃত ভোটার তালিকায় কোথাও তার নাম নাই এবং ০৪৭৬ ক্রমিক নম্বরের ফাঁকা কোর্ডে কর্তন করা হয়েছে মর্মে লেখা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রার্থী আবু জাফর মল্লিক রির্টানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা সমবায় অফিসার বেনজীর আহমেদের কার্যালয় থেকে গড়ইখালী ইউনিয়নের ১নং সাধারণ ওয়ার্ড থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। বর্তমানে ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় বিষয়টি নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছে প্রার্থী জাফর মল্লিক। বিষয়টি সমাধানের লক্ষে উপজেলা নির্বাচন অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেও এখনো পর্যন্ত কোন সমাধান করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামালউদ্দীন আহমাদ জানান, বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে ২০১৯ সালে ভোটার তালিকা থেকে যে কোন কারণ দেখিয়ে তার নাম কর্তন করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে তিনি আর কোন খোঁজ খবর নেন নি। ওই সময় খোঁজ খবর নিলে বিষয়টি তখনই সমাধান করা যেত। এখনো সমাধান করা যাবে তবে সেটি এই মুহূর্তে নয়। পরবর্তী যে কোন সময়ে এ ব্যাপারে জাফর মল্লিককে সহযোগিতা করবেন বলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

পাইকগাছার ব্যবসায়ীরা প্রশিক্ষণ পেয়ে উন্নত পরিবেশে নিরাপদ মাংস বিক্রয় করছে

এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::

পাইকগাছা উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে উন্নত পরিবেশে নিরাপদ মাংস বিক্রয় করছে মাংস বিক্রেতারা। উন্নত পরিবেশে মাংস বিক্রি করতে দেখা গেছে উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন স্থানে। প্রশিক্ষণের পর এমন পরিবেশ তৈরী করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেও পৌর সদর সহ উপজেলার সবখানেই যত্রতত্র নোংরা পরিবেশে বিক্রয় করতো বিক্রেতা কিংবা কসাইদাররা। উন্নত পরিবেশে নিরাপদ মাংস বিক্রয় নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসন ও পরিচালন, স্থানীয় সরকার বিভাগ, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানের ১২০ জন কসাইদার ও মাংস বিক্রেতাকে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্যবসায়ীরা তাদের মাংস বিক্রয়ের স্থানে উন্নত পরিবেশ ও নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়। যার মধ্যে নেট নিয়ে বক্স তৈরী করেছে যেটি মাংসের টেবিলের ওপর রেখে দেয়। এর ফলে মাছি ও ময়লা আবর্জনা থেকে মাংস মুক্ত এবং নিরাপদ থাকছে। এ ছাড়াও ব্লিসিং পাউডার ব্যবহার ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। মাংস বিক্রেতা আবুল কালাম জানান, আমরা প্রশিক্ষণ নেওয়ার আগে নিরাপদ মাংসের বিষয়টি আমাদের জানা ছিলো না। প্রশিক্ষণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় জানতে পেরেছি, যেগুলো আমরা অনুসরণ করার চেষ্টা করছি। সরল বাজারের ব্যবসায়ী রাজু জানান, যে দিন প্রশিক্ষণ নিয়েছি তার পরের দিন থেকে নেটের জাল দিয়ে মাংস ঢেকে রাখি। ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক জানান, দু’একদিনের মধ্যে আমরা পানির মটর স্থাপন করছি। যাতে জবাই খানা ও মাংস বিক্রয়ের স্থানে নোংরা পরিবেশ সৃষ্টি না হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি উন্নত পরিবেশে নিরাপদ মাংস বিক্রয়ের জন্য ব্যবসায়ীরা কাজ শুরু করেছে। আমরা যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলাম সেটির মূল উদ্দেশ্যে ছিল এমনটাই। আশা করছি যারা প্রশিক্ষণ নিতে পারেনি তারাও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের অনুসরণ করে নিরাপদ মাংস বিক্রয় নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসবে।

#