পাইকগাছা সংবাদ ॥ ৪৩ বছরেও জাতির জনকের আস্থাভাজন সাবেক এমএনএ এম,এ গফুর হত্যার বিচার হয়নি


343 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছা সংবাদ ॥ ৪৩ বছরেও জাতির জনকের আস্থাভাজন সাবেক এমএনএ এম,এ গফুর হত্যার বিচার হয়নি
জানুয়ারি ১৮, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস,এম, আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা (খুলনা) :
দীর্ঘ ৪৩ বছর অতিবাহিত হলেও পাইকগাছার রূপকার, ভাষা সৈনিক, স্বাধীনতার অন্যতম সংগঠক, সাবেক এমএনএ গফুর হত্যার বিচার হয়নি। জাতির জনকের একান্ত কাছের লোকের হত্যার বিচার না হওয়ায় দক্ষিণ বঙ্গের মানুষ হতাস। সর্বমহলে একটায় আর্তনাদ করে এই মহান নেতার বিচার হবে? খুনিরা কবে সাজা পাবে? এলাকাবাসী এ মহান নেতার হত্যার বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তথ্যে প্রকাশ, খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার হরিনগর গ্রামে (বর্তমান কয়রা হড্ডা) হত দরিদ্র জনাব আলী সানার ঘরে বাংলা ১৩৩২ সালের ২৬ বৈশাখ জন্ম নেন এই দেশ বরেণ্য নেতা এম,এ গফুর। মাতা সোনাবান বিবি অতি কষ্টে লালন পালন করে গড়ে তোলেন এই শিশুকে। মৌখালী খাসমহল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শুরু। এরপর স্থানীয় বিভিন্ন বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে ১৯৪৪ সালে আশাশুনির বুধহাটা স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাশ করেন। ভর্তি হন খুলনা বি.এল কলেজে।  যোগদেন নয়া সাংস্কৃতিক সংসদ সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রী দলের খুলনা জেলা সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত হন। শুরু হয় ভাষা আন্দোলন। এম,এ গফুর ভাষা সংগ্রাম কমিটির খুলনা জেলা আহবায়কের দায়িত্ব নিয়ে ছাত্র ও যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। পাল্টে যায় তার রাজনৈতিক জীবনের প্রেক্ষাপট। বনে যান শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বে। ১৯৫৭ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হলে তিনি জেলা সম্পাদের দায়িত্ব পান এবং প্রবল গতিতে রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম করে রাখেন। নজর কেড়ে নেয় তৎকালীন বাঙ্গালীয় ধারক বাহক ও পথ প্রদর্শক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের। ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক সরকার নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর আশির্বাদ পুষ্ট হয়ে পাইকগাছা ও আশাশুনি হতে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে এম,এ গফুর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বিপ্রার্থী ছিলেন মুসলিমলীগের প্রভাবশালীনেতা খান এ সবুর। বাংলাদেশের পাঁচটি আসন মুসলিমলীগের  হিসাব থাকলেও খান এ সবুর ছিল জয়ের তালিকায়। কিন্তু প্রেক্ষাপট পাল্টে “খাবো দাবো সবুরের, ভোট দিব গফুরের” এই শ্লোগানে মুখরিত করে অভাবনীয় জয় এনে দিল এম,এ গফুর। অকল্পনীয়ভাবে এতদাঞ্চলের মানুষ গফুরকে জয়ী করে এমএনএ পদে বসালেন। তিনি নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নে মনোনিবেশ করেন। শুরু করেন ভেড়িবাঁধ, খাল কাটাসহ রাস্তাঘাটের উন্নয়নমূলক কাজ। এরই মধ্যে স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং দেশ স্বাধীন। তিনি স্বাধীনতাযুদ্ধের একজন অন্যতম সংগঠক ছিলেন। এমএনএ পদে থাকাকালীন ১৯৭২ সালের ২২ ফেব্র“য়ারী তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান পাইকগাছার আলমতলা নামক স্থারেন আসেন ভেড়িবাঁধের উদ্বোধন করতে। সেখানে তিনি এম,এ গফুরকে মন্ত্রীত্বের মত লোভনীয় প্রস্তাব দিলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে এলাকার উন্নয়নের গতি ধারা অব্যহত রাখার কথা বলেন। চলে আসে নির্মম সেই দেন ১৯৭২ সালের ৫ জুন এম,এ গফুর নদী পথে নৌকাযোগে বিভিন্ন খালের বাঁধ ও ভেড়ি বাঁধ পরিদর্শন করে তের আলিয়া নদীর বাঁধ দেখে সন্ধ্যায় পাইকগাছায় উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পাইকগাছার সাহাপাড়া নামকস্থানে পৌছালে পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা সন্ত্রাসী অস্ত্রধারী গুলিবর্ষন করে। তাদের বুলেটের আঘাতে এম,এ গফুর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। একই সাথে তার সঙ্গী চাঁদখালীর রিয়াজউদ্দীন ও হড্ডার কামাল হোসেনেরও মৃত্যু হয়। পাইকগাছা-আশাশুনির মানুষ কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এই মহান নেতার মৃত্যুর খবরে। আজও এই কলঙ্ক বয়ে বেড়াতে হচ্ছে এই জনপদে। এ ঘটনায় ঐ সময় ৬জনকে গ্রেপ্তার করে বলে জানা যায়। তারপর মামলাটি হেমাগারে চলে যায়। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে এই হত্যার বিচার হয়নি। জাতির জনকের এত নিকটতম শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার হত্যার বিচার দীর্ঘ ৪৩ বছরে না হওয়ায় হতাশা বিরাজ করছেন দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের মাঝে। সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করছেন। কিন্তু গফুর হত্যার বিচার না হলে দক্ষিণ অঞ্চল কলঙ্কমুক্ত হবে না বলে বিজ্ঞ জনেরা অভিমত দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে এম,এ গফুরের জৈষ্ঠপুত্র উপজেলা আওয়ামীলীগনেতা মোঃ আনোয়ার ইকবাল মন্টু জানান, আমার পিতা জাতির জনকের অত্যন্ত আস্থাভাজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি এলাকার উন্নয়নে জীবনকে বাজী রেখেছিলেন। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার পিতার হত্যার বিচার অবশ্যই করবেন। এলাকার সচেতন জনগোষ্ঠি এই হত্যার বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
##

পাইকগাছায় ডাকাতি মামলার ৫ আসামীর ২দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি :
পাইকগাছায় ডাকাতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ আসামীর দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে গতকাল পাইকগাছা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে শুনানী অন্তে বিজ্ঞ বিচারক দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ পর্যন্ত পুলিশ এ মামলায় ৫ জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলো, মামুন, আসাদুল, আল-আমিন বিশ্বাস, সলেমান ও মুজিবর মল্লিক। এদের বাড়ী গদাইপুর, কপিলমুনিসহ বিভিন্ন এলাকায়। ওসি আশরাফ হোসেন জানিয়েছেন, এ মামলার বেশ কিছু তথ্য উদঘাটন হয়েছে। অচিরেই এ ঘটনার সকল তথ্য উদঘাটন হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি।  উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার গদাইপুর ইউপির গোপালপুরের ঔষধ ব্যাবসায়ী অশোক ঘোষের বাড়িতে ১০/১২ জনের মুখোশধারী ডাকাত দল বারান্দার গ্রীল কেটে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় ব্যবসায়ীর ছেলে সমীর ঘোষ ও দোকান কর্মচারী আনন্দ মল্লিককে চোখ বেঁধে রড দিয়ে মারপিট শুরু করে তাদের কাছে থাকা দুটি মোবাইল সেট, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ডাকাতি করে পালিয়ে যায়।