পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর বেহাল দশা


262 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর বেহাল দশা
জানুয়ারি ১৪, ২০১৯ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস,এম,আলাউদ্দিন সোহাগ ::

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না বলে রোগীরা অভিযোগ করেছেন। ডাক্তার ও নার্সদের অনীহার কারণে একদিকে যেমন সেবা পাচ্ছেন না, অপরদিকে, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে রোগী সুস্থ না হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেশির ভাগ রোগীরা এমন অভিযোগ করলেও কর্তৃপক্ষ দাবী করেছে, পূর্বের চেয়ে সেবার মান এখন অনেক ভাল। তবে একটি সংস্থার প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পরিচ্ছন্ন কর্মীর সংকট রয়েছে। ফলে, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, উপজেলা সদরের ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের সামনে অবস্থিত ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হাসপাতালটি উপজেলার ৩ লাখ জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার একমাত্র বৃহৎ প্রতিষ্ঠান। এক সময় হাসপাতালের সেবার মান যথেষ্ঠ ভাল ছিল। হাসপাতালের সুনাম দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশংসিত হয়েছে। জনবল সংকট সহ নানা কারণে গত কয়েক বছর হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি, ডাক্তার ও নার্স সহ বিভিন্ন বিভাগে জনবল বৃদ্ধি হলেও সেবার মান বাড়েনি বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ। ৫০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে ২১ জন ডাক্তারের স্থলে রয়েছে ১০ জন ডাক্তার। ২০জন নার্সের সবকটি পদে নার্স বহাল রয়েছে। ৪জন মিডওয়াইফ নার্সের বিপরীতে ৪জন রয়েছে। ২টি ফার্মাসিস্ট, ৩টি এমপি ল্যাব, ১টি রেডিও গ্রাফার, ৩টি ওয়ার্ডবয় ও ২টি আয়া পদ দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে। এমএলএসএস ৪টি পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ২টি পদ। ২জন প্রহরীর বিপরীতে রয়েছে ১জন ও ৫জন সুইপারের বিপরীতে ১জন সুইপার কর্মরত রয়েছে। বর্তমানে নার্স ও ডাক্তার বৃদ্ধি পেলেও সেবার মান বাড়েনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী শামছুল হুদা খোকন বলেন, হাসপাতালে এখন সেবা নেই বললেই চলে। ২৪ ঘণ্টায় ডাক্তার একবার রাউন্ডে আসলেও দায়সারা দেখে চলে যান। নার্সদের তো প্রয়োজনের সময় ডেকেই পাওয়া যায় না। রহিমা বেগম জানান, হাসপাতাল এত বেশি অপরিচ্ছন্ন থাকে রোগীরা সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ময়লা আবর্জনার পাশাপাশি রয়েছে বিড়ালের উপদ্রপ। মাসুম বিল্লাহ জানান, বাথরুমে সব সময় নোংরা পরিবেশ থাকে। ফলে সব সময় দুর্গন্ধ ছড়ায়। জানালা, দরজা ভাল না থাকায় শীতের সময় শীতল হাওয়া হাসপাতালের মধ্যেই চলে আসে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেশির ভাগ রোগীরা সেবার মান নিয়ে এ ধরণের অভিযোগ করেন। যদিও রোগীদের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের অর্থপেডিক্স কনসালট্যান্ট ডাঃ মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে সেবার মান আগের চেয়ে অনেক ভাল। তবে কর্মচারীর যথেষ্ঠ সংকট রয়েছে। বিশেষ করে, একটি সংস্থার প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ঐ প্রকল্পের সকল কর্মচারী চলে গেছে। যার ফলে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আমাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুজন কুমার সরকার জানান, অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে সেবার মান এখন অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে, এক সময় হাসপাতালে তেমন কোন ডেলিভারী হতো না। এ্যানেস্থেশিয়া ডাক্তার আসার পর প্রতি মাসে ৫০-৬০ জন গর্ভবতী মহিলার ডেলিভারী হচ্ছে। প্রত্যেকদিন আমরা ৭/৮জন ডাক্তার নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছি। অনেক সময় আমরা ২৪ ঘণ্টায় দায়িত্ব পালন করি। ডেলিভারীর এই পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায়, হাসপাতালে এখন সেবার মান কেমন। সেবার মান বৃদ্ধি করার লক্ষে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডাঃ এএসএম মারুফ হাসান জানিয়েছেন।

#