পাটকেলঘাটার বিভিন্ন মৎস্য ঘেরে ব্যবহার হচ্ছে রসায়নিক সার


659 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাটকেলঘাটার বিভিন্ন মৎস্য ঘেরে ব্যবহার হচ্ছে রসায়নিক সার
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৫ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

মাহফুজুর রহমান মধু, পাটকেলঘাটা:
মৎস্য কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণে পাটকেলঘাটাসহ উপজেলার বিভিন্ন মাছের ঘেরে বেড়ে গেছে রসায়নিক সারের ব্যবহার।
বিভিন্ন সূত্র মতে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকার কারণে কৃষকরা ধানচাষ করতে না পেরে তাদের জমি মাছ চাষের জন্য লীজ হিসেবে ব্যবহার হয়। অতি মুনাফালোভী ঘের মালিকরা রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার লোভে এমন কোন রসায়নিক সার নেই যা তারা ঘেরে প্রয়োগ করছে না। শুধু রসায়নিক সার না, তার সাথে আছে গরুর বিষ্টা, পোল্ট্রির বিষ্টা, এমনকি মানুষের পায়খানাও তারা ঘেরে ব্যবহার করছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ আছে যে আমরা কি খাচ্ছি? আমরা কোন দেশে বাস করছি? বাংলাদেশ মানে মাছে ভাতে বাঙ্গালী। আমরা কি সেই বাঙ্গালী? আমরা মাছ খায় মানব দেহে পুষ্টি জোগানোর জন্য। আর সেই মাছ খেয়ে আমরা অপুষ্টিতে ভুগছি এবং দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধী। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য মরণ ব্যাধী ক্যান্সার।

কৃষি জমিতে সার যে পরিমাণ ব্যবহার হয় তার চেয়ে অধিক পরিমাণ ব্যবহার হয় মাছের ঘেরে। আর পরিমাণটা বোঝা যাবে, পাটকেলঘাটা বাজারের বিভিন্ন সারের দোকানের মালিকদের কাছে অথবা সরকারি সার উত্তোলনের রেজিষ্টার দেখলে। আর গরুর বিষ্টাতো সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন জায়গায় স্তুপ করে রাখতে দেখা যায়।
মৎস্য ঘের মালিক শাঁকদহা গ্রামের মোস্তফা মোড়ল অভিযোগ করে বলেন, আমি দীর্ঘ ১৫ বছর এই মৎস্য চাষ করে আসছি। আজ পর্যন্ত কোন মৎস্য অফিসার বা কোন কর্মকর্তা আমার ঘেরে পরিদর্শন বা কোন পরামর্শও দিতে আসেননি।
এ ব্যাপারে স্যানিটারী অফিসার আশরাফুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, গরুর বিষ্টা মাছের ঘেরে দেওয়া যাবে এবং এটা মাছের খাবার হিসেবে খুবই উপযোগী।

তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, মানুষের খাদ্য তালিকায় মাছ প্রধান। সেই মাছে যদি কেহ অতি মুনাফালোভে অতিরিক্ত রসায়নিক সার ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নিব। আর গবাদী পশু ও হাঁস-মুরগীর বিষ্টাতো একেবারেই নিষিদ্ধ। ব্যবহার করা যাবে না। দরকার হলে আমরা ঘেরে ঘেরে যেয়ে মাছ পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নিব।

এদিকে বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তর একটি পোস্টার ছেপেছে তাহাতে লেখা আছে, রসায়নিক সার, হাঁস-মুরগীর বিষ্টা, পোল্ট্রী ফিড ও হরমন জাতীয় কোন খাদ্য মাছ চাষে ব্যবহার করা যাবে না।