পাটকেলঘাটার মধুসড়কে নিন্মমানের ব্যাটস দিয়ে চলছে সংস্কার কাজ !


295 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাটকেলঘাটার মধুসড়কে নিন্মমানের ব্যাটস দিয়ে চলছে সংস্কার কাজ !
এপ্রিল ২১, ২০১৬ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কামরুজ্জামান মোড়ল, পাটকেলঘাটা :
পাটকেলঘাটার মধুসড়কের জনগুরুত্বপুর্ন রাস্তাটির কাজের মান নিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সাথে সাথে কতদিন পরে আবার সংস্কার করা লাগবে এমন প্রশ্নের দানা বেধেছে সচেতন বিবেকবান মানুষের মনে। তালা উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ মধু সড়ক সংস্কার কাজে প্রথম থেকেই অতি নিন্মমান ইটের খোয়া ও অনিয়মের ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া গেলেও সম্প্রতি নিন্মমানের ব্যাটস (আধলা) দিয়ে খোয়া তৈরী করে অবশেষে বালূ দিয়ে ঢেকে দিল।  সড়কটি পাটকেলঘাটার কুমিরা বাদামতলা হতে সেনপুর মোড় পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার সংস্কার সহ ৩ ফুট সাইড ওয়ারিং এ ২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বরাদ্দে কার্যাদেশ দেয়া হয়। কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানটি ৩ ফুট সাইড ওয়্যারিংয়ে নিন্মমানের খোয়া ও যেনতেন ভাবে বালূ দিয়ে পুরণ করে। সড়কটির কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার মেসার্স ইকবাল জোয়াদ্দার খামখেয়ালিপনা ভাবে নিন্মমান ইটের খোয়া ব্যবহার করায় স্থানীয়রা বারবার অভিযোগ করে আসলেও কোনো কিছুতেই কর্ণপাত করেননি। অবশেষে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ, প্রতিনিয়ত যাতায়াতকারী ব্যক্তির তোপের মুখে পড়ে কিছু নিন্মমানের ইট পুনরায় ট্রাকে করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সরেজমিনে গিয়ে আবারও দেখা যায়, সড়কের দু’পাশে স্তুপ করে রাখা সাতক্ষীরার স্টোন ব্রিকসে প্রস্তুতকৃত অত্যন্ত নিন্মমানের ব্যাটস রেখে সেগুলো শ্রমিক দিয়ে খোয়া তৈরী করতে। নিন্মমান ইটের খোয়া সংস্কার কাজে ব্যবহার না করার জন্য স্থানীয়রা বারবার দাবি তুললেও দূর্নিতি পরায়ণ ঠিকাদার ও তার সহযোগী উপজেলা প্রকৌশলী আবু সাঈদ মোঃ জসিম দেখছি, আসব বলে বারংবার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর অবশেষে সরেজমিনে এসে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। কিন্ত কি ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ তা ভাবনার মধ্য ফেলে স্থানীয় জনগণের। উল্টো কিছু নিন্মমানের ইট ফেরত নিয়ে গেলেও কয়েকদিন পরে নিয়ে আসে নিন্মমানের ব্যাটস।
স্থানীয় কুমিরা গ্রামের মোকাম আলীর পুত্র রফিকুল ইসলাম অভিযোগের আঙ্গুল উচিয়ে বলেন, অভিযোগ করব কাছে? যার কাছে বলব সেও যে অর্থের ভাগিদার। বাদামতলার দোকানী আব্দুস সামাদ, আমিনুর রহমান, আব্দুল আজিজ বলেন, টেন্ডার পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি যদি তার বাজেটের অর্ধেক টাকাও ব্যয় করে তবে কাজের মান অনেক উন্নত হতো। কিন্তু একখানা মালাই দশ জনে চুষে খাওয়ার মতো। কুমিরার ইউপি মেম্বর শফিকুল ইসলাম বলেন, জনগণের তোপের মুখে পড়ে উপজেলা কর্মকর্তারা আসলেও অবশেষে আসল নিন্ম মানের ব্যাটস। এর থেকে কেউ বুঝি অভিযোগ না করলে কাজ একটু ভালো হতো। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর’র চুক্তি অনুযায়ী সড়কটি সংস্কার কাজে উন্নতমানের ইটের খোয়া, বালূ ও বিটুমিন দ্বারা নির্মাণ কাজ করার কথা, কিন্তু কে মানে কার কথা। অনেকের অভিযোগ রক্ষকই যখন ভক্ষক, তখন ভালো কাজ কিভাবে আশা করা যায়? দূর্নিতী পরায়ণ ঠিকাদারের সহযোগীতা করার অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আবু সাঈদ মোঃ জসিম জানান, সব সময় সড়কের কাজে দেখভাল করা সম্ভব নয়। আমাদের পক্ষ থেকে একজন প্রকৌশলীকে কাজের অনিয়ম দেখভাল করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।