পাটকেলঘাটার রাঢ়ীপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান চলছে রাস্তার দু’ধারে


1018 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাটকেলঘাটার রাঢ়ীপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান চলছে রাস্তার দু’ধারে
আগস্ট ২৯, ২০১৬ Uncategorized
Print Friendly, PDF & Email

কামরুজ্জামান মোড়ল, পাটকেলঘাটা :
তালার রাঢ়ীপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান চলছে রাস্তার দু’ধারে বসে। পাঠদানের সময় গরমের ভেতর রোদে বসে আবার কখনও হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টিতে ভিজে থাকেন শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। লক্ষ্য একটাই আগামী ৩ মাস পরেই বার্ষিক পরীক্ষা।

জানা যায়, বিদ্যালয়ে যেতে কোমলমতি শিশুরা অনেক সময় কাদা পানিতে পা পিছলে পড়ে গেলে বই খাতা জামা কাপড় নষ্ট করে ফেলায়। টিউবওয়ের ও লেট্রিন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সুপেয় পানি এবং প্রয়োজন মেটানো দায় হয়ে পড়েছে। গতবছর একই চিত্র ধারণ করায় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা মুসলিম এইডের আর্থিক ও সার্বিক সহযোগিতায় বিকল্প পন্থায় অন্যের জমিতে ছাউনি দিয়ে কোনো রকমে বছর পার করা হয়।

KKKK

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি কপোতাক্ষের তীর ঘেষে একেবারে কপোতাক্ষ পাড়েই নির্মিত। বিদ্যালয়টিতে ২ টি বিল্ডিং থাকলেও পরিকল্পনা ছাড়াই নির্মাণে পানির ভেতর অবস্থান। যা বছরের ৬ টি মাস পানিতে জলাবদ্ধ থাকে। শ্রেণীকক্ষে ২/৩ ফুট পানি জমে থাকায় শিক্ষকরা বেঞ্চের উপর বেঞ্চ দিয়ে উচু মাচা করে পড়লেও বর্তমানে সেটাও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের অনাগত ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় রেখে রাস্তার দু’ধারে বসে পাঠদান করানো হচ্ছে। বিদ্যালয়ের বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা শিখা রাণী চৌধুরী জানান, প্রতি বছর আমরা হাটু কাদা পেরিয়ে বছরের ৬/৭ টি মাস জলের ভেতর ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস নিয়ে থাকি। বিদ্যালয়ে মোট ৩৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। প্রতি বছর তাদের পরীক্ষার ফলাফল অনেক ভালো। এতো কষ্টের পরে সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ পাশ সহ জিপিএ-৫ পাওয়ায় সকল দুঃখ কষ্ট নিবারণ হয়ে যায়।

সহকারী শিক্ষক ইফতেখার আলম জানান, গত বছরও মাইকেল সড়কের রাস্তার দু’ধারে ক্লাস নিলে সকল প্রিন্ট ইলেকট্রনিক্র মিডিয়া ফলাও করে আমাদের বিদ্যালয়টি দেখালেও অদ্যবধি কোনো সুফল আমরা পায়নি। বিদ্যালয়টির পরিচালনা পরিষদের সহ-সভাপতি নুর আলী গাজী জানান, কত কষ্টে আমাদের শিক্ষকগণ পানির ভেতর থেকে নিষ্টার সাথে দায়িত্ব পালন করেন তা স্বচক্ষে না দেখলে বোঝার উপায় নাই।

কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ গোলাম মোস্তফা বলেন, বিদ্যালয়টির জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে পরিত্রাণ পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যদি এখানে একটি সাইক্লোন সেন্টার স্থাপন করা যায় তবে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘব করা সম্ভব হতো। প্রতিবছর এহেন উদ্ভুত পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকবৃন্দ সহ এলাকাবাসী।