পাটকেলঘাটার লোকনাথ নার্সিং হোমে সেবার নামে গলাকাটা ব্যবসা : ১০ বেডের অনুমোদন নিয়ে চলছে ৪০ বেড !


714 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাটকেলঘাটার লোকনাথ নার্সিং হোমে সেবার নামে  গলাকাটা ব্যবসা : ১০ বেডের অনুমোদন নিয়ে চলছে ৪০ বেড !
নভেম্বর ১, ২০১৫ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

মোঃ কামরুজ্জামান মোড়ল :
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা লোকনাথ নার্সিং হোমে সেবার নামে চলছে গলাকাটা ব্যবসা। সরকারী নিয়মনীতি ও প্রাইভেট ক্লিনিক পরিচালনায় লেশমাত্র নেই এ ক্লিনিকে। ১০ বেডের অনুমোদন নিয়ে চলছে ৪০টি বেড।

সরেজমিন ঐ ক্লিনিকের নিয়োগকৃত এল.এম.এ.এফ.পি ডাক্তার মিহির কুমারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মাত্র একজন ডিপ্লোমাধারী নার্স ৪০ বেডের সেবার জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে সার্বক্ষণিক দায়িত্বরত ডাক্তারের কথা বলা হলে সাইফুজ্জামান বাচ্চু আছেন বললেও খোঁজ নিলে জানায় ছুটিতে আছেন। এ্যানেসথিয়া বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কথা বলা হলে সুদিপ্ত শেখরকে নিয়োগ দেওয়া আছে। এসময় ওটিতে অপারেশনরত রিমা নামের এক গর্ভবতী মায়ের সিজার চলছিল। কোন এ্যানেসথিয়া ডাক্তার সেখানে ছিল না, ছিল ভাড়া করা এক ডাক্তার।

তাছাড়া সরকারী নিয়ম অনুযায়ী প্রাইভেট ক্লিনিকে ১০ বেডে কমপক্ষে ৩ শিফ্টে ৩ জন এমবিবিএস ডাক্তার ও ডিপ্লোমাধারী ৬ জন নার্স থাকতে হবে। কিন্তু এ ক্লিনিকে কাগজপত্রে সব ঠিক থাকলেও ১০ বেডের অনুমোদন নিয়ে ৪০ বেডের অনুকূলে মাত্র ১ জন ডিপ্লোমাধারী নার্স, অপরদিকে দায়িত্বরত কোন এমবিবিএস ডাক্তারের খোঁজ পাওয়া যায়নি। এছাড়া অপারেশন থিয়েটার যথেষ্ঠ নোংরা ও স্যাঁতসেতে। অভিযোগ আছে এল.এম.এ.এফ.পি ডাক্তার মিহির কুমারের মাধ্যমে গরুজবাইয়ের মত গর্ভবতী মায়েদের সিজার করা হচ্ছে। পাটকেলঘাটার খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের একেবারেই পাশেই হাইস্কুল রোডের পশ্চিমপাশে ৪ তলা ভবনের ৩ তলায় এ ক্লিনিক। ক্লিনিকের বাইরে চটকদার বিল বোর্ড সেটে ১৬ এমবিবিএস ডাক্তারের নাম ব্যবহার করে সর্বপ্রকার অপারেশন করা হয়। তাছাড়া এম্বুলেন্স ব্যবস্থা আছে, থাকলেও প্রকৃতপক্ষে কোন এম্বুলেন্স নেই। ইসিজি, প্যাথলজির ব্যবস্থা থাকলেও প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কোন লোকবল নেই।

নামেমাত্র নিয়োগ দেওয়া অদক্ষ নার্স ও পল্লী চিকিৎসক দ্বারা পরিচালনা করা হয়। চোমরখালী গ্রামের এক পল্লী চিকিৎসককে ঐ ক্লিনিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঐ ডাক্তার সার্বক্ষণিক রোগী দেখভাল করলেও তিনি নাকি ঝাড়–দার বলে জানান পরিচালক। পাটকেলঘাটা থানার তৈলকূপী গ্রামের সেরআলী গাজীর পুত্র সামারুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, অজ্ঞান পার্টির কবলে তার প্রাক ১ লক্ষ টাকা খোয়া যাওয়ার পর অজ্ঞান অবস্থায় ঐ ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। মাত্র ২ দিনের ব্যবধানে তার চিকিৎসার ফি দাড়ায় ৯ হাজার টাকা। এছাড়া অজস্র গ্রামের সহজ সরল ব্যক্তিরা চিকিৎসা নিতে আসলে অপরেশনের নামে চলে গলাকাটা ব্যবসা। সাথে রাখা হয়েছে লোকনাথ মেডিকেল হল।

 

ডাক্তারদের লিখে দেওয়া মেডিসিন ঐ দোকান থেকে ছাড়া অন্য কোথাও থেকে কিনলে রোগী রাখা হবে না বলে জানান রহিমা নামের এক রোগী। এদিকে পল্লী চিকিৎসকদের সাথে চুক্তির গ্রামের অসহায় রোগীদের ঐ কসাইখানায় পাঠালে পার্সেন্টেস দেওয়া হয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পল্লী চিকিৎসক জানায়। এবিষয়ে ক্লিনিকের পরিচালনা পরিষদের পরিচালক পুলক কুমার পালের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ১০ বেডের অনুমোদন। এমন কথার প্রেক্ষিতে ৪০ বেডে ২৭ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে চোখে আঙুল দিয়ে দেখালে তিনি ২৫ রোগীর কথা স্বীকার করেন। এবিষয়ে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন সালেহ আহমেদ এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, ১০ বেডের অনুমোদন নিয়ে এত বেশি রোগী দেখা সম্পূর্ণ অবৈধ। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।