পাটকেলঘাটায় জলাবদ্ধতার কবলে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান


414 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাটকেলঘাটায় জলাবদ্ধতার কবলে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
আগস্ট ২৩, ২০১৬ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কামরুজ্জামান মোড়ল,পাটকেলঘাটা  :
পাটকেলঘাটার কুমিরা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় এবং রাঢ়ীপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে দেড় থেকে ২ ফুট পানিতে নিমজ্জিত থাকায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবি কার্যক্রম চালানো দুরুহ হয়ে পড়েছে। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা করার তেমন কোন পরিবেশ নেই। এতে শিক্ষকদের পাঠদানে বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হচ্ছে। সামনে বার্ষিক পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে ক্লাস নিলেও সঠিক পাঠদান না পাওয়াতে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে অভিভাবক সহ সচেতন মহল।

সরেজমিনে কুমিরা পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সম্মুখে মাঠে পানি জমে আছে। যাতায়াতের রাস্তাটিও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম বিড়ম্বনার স্বীকার হচ্ছেন শিক্ষকবৃৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা। ময়লা আবর্জনা পানিতে পচে বিষাক্ত সৃষ্টি হয়ে রোগাক্রান্তের ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে। কুমিরা পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দাশ জানান, গত কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিতে আমাদের বিদ্যালয় সহ আশেপাশে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ইতোপূর্বে একটি ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও সেটির পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাষিত হচ্ছে না। যদি মাইকেল সড়কের উপর রাস্তা হতে ঐ ড্রেনেজ ব্যবস্থাটি পুনরায় চালু করা হয় তবে পানি নিষ্কাষিত হলে আমরা জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্তি পাব।

ZZZZZ
এদিকে রাঢ়ীপাড়া স্কুলের ভেতর দেড় থেকে ২ ফুট পানি উঠে যাওয়ায় পাঠদান চরম আকার ধারণ করেছে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এবং শিক্ষার্থীদের অনাগত ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় রেখে স্কুলের ভেতর বেঞ্চ দিয়ে মাচা বানিয়ে তার উপর ক্লাস নিচ্ছেন। ছেলেমেয়েরা যাতায়াতের সময়কালীন পড়ে গিয়ে আবার কখনও পা পিছলে পড়ে কাদা পানি মেখে বই খাতা নষ্ট করে ফেলছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শিখা রানী চৌধুরা জানান, প্রতি বছর রোদ, বৃষ্টি, দূর্যোগকে হার মানিয়ে ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যতের কথা মাথা রেখে ক্লাস নিয়ে থাকি। বছরের প্রায় ৬ মাসের অধিক সময় পানিতে নিমজ্জিত থাকে। গেল বছর রাস্তার দু’ধারে রোদ বৃষ্টির মধ্যে ক্লাস নিলেও অদ্যবধি সরকার আমাদের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সহকারী শিক্ষক মনজুর আলম জানান, প্রতি বছর হাটুর উপরে পানি থাকে বিদ্যালয়ে। অনেক আশার বাণী পেলেও আজও কোনো ফল পায়নি। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, তালা উপজেলায় ১৫ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে নিমজ্জিত থাকায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সম্ভব হলে শিক্ষকগণ বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অন্যত্র ক্লাস নিবে।