পাটকেলঘাটায় পাটের বাম্পার ফলন হলেও চাষবিমুখ কৃষক


508 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাটকেলঘাটায় পাটের বাম্পার ফলন হলেও চাষবিমুখ কৃষক
জুলাই ২৮, ২০১৬ কৃষি তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কামরুজ্জামান মোড়ল,পাটকেলঘাটা  :
পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল হলেও সময়ের পরিক্রমায় আজ তার অতীত জৌলুস হারিয়ে ম্লান হওয়ার উপক্রম। একসময়ের জগত খ্যাতি সোনালী আঁশ চাষাবাদ ছিল বাংলার প্রতিটি কৃষকের ঘরে ঘরে। উপযুক্ত পরিবেশ, বিরুপ আবহাওয়া, সঠিক দাম এবং তদারকির অভাবে মুষ্টিমেয় কৃষকের পাটের বাম্পার হলেও আজও চাষবিমুখ কৃষক।
কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সচেতন মহলের সাথে কথা বলে জানা যায়, আশির দশকের সেই জগৎ বিখ্যাত সোনালী আশ পাট ছিল গ্রাম বাংলার প্রতিটি কৃষকের সময়োপযোগী ফসল। অর্থ, পরিশ্রম ব্যয় করে একসময় পাট যখন ঘরে উঠত কৃষকের বুকটা তখন সমস্থ গ্লানি মুছে আনন্দে ভরে উঠত। বেশি দাম পাওয়ার আশায় অনেকে গুদামজাত করে রাখত। পাট ছিল বৈদেশিক আয়ের এক অন্যতম হাতিয়ার। কালের বিবর্তনে সোনালী আঁশ নামে পরিচিত পাট তার অতীত ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অনুকুল পরিবেশের অভাবে মুলত আজকে কৃষকরা পাট চাষ বিমুখ। তালা উপজেলা বন্যা কবলিত অঞ্চল হওয়ায় পাট চাষের মাঝামাঝি সময়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানি সহনশীল না হওয়ায় জলাবদ্ধতার কারণে সমস্থ পাট নষ্ট হয়ে যায়। এমনই একজন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক পাটকেলঘাটার রাঢ়ীপাড়া গ্রামের আয়ুব আলী গাজী। তিনি জানান, প্রায় ২ বিঘা জমিতে আমি পর পর গত দুই বছর পাট চাষ করি। কপোতাক্ষ নদের পাড়ে অবস্থিত হওয়ায় হঠাৎ বৃষ্টির পানি আর কপোতাক্ষের উপচে পড়া পানিতে পুরো পাটক্ষেতে প্রায় ৪/৫ ফুট পানিতে তলিয়ে যায়। তলিয়ে যাওয়ার পূর্বে ক্ষেতে ২-৩ ফুট লম্বা পাটের চেহারা দেখে মনটা জুড়িয়ে যেতো। কিন্তু প্রকৃতির নির্মম পরিহাসের কাছে আমরা যে সকলেই অসহায়। কিন্তু এ বছর কপোতাক্ষের দু’পাশ বেড়িবাধের কারণে উপচে পড়া পানি বেরিয়ে আসতে পারেনি। ফলে এবছর আমার পাটের অবস্থা অনেক ভালো।

জানা যায়, আবহাওয়া পরিবর্তন এবং উপযুক্ত দাম না পাওয়ার কারণেও আজকে কৃষকরা চাষ বিমুখ হয়ে পড়েছে। যে পরিমাণ খরচ আর পরিশ্রম করতে হয় তাতে কৃষকের লাভের পরিমাণ তুলনামুলক কম। কুমিরা কদমতলা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল বারি মোড়ল জানালেন, বর্তমানে পাটের মণ প্রতি দাম ১৫’শ টাকা দিচ্ছি। বাজারের কথা তো বলা যায় না। এর চেয়ে দাম বাড়তেও পারে আবার কমতেও পারে। কুমিরা গ্রামের কৃষক আব্দুস সালামের পুত্র শহিদুল ইসলাম  আক্ষেপ করে জানালেন, ২২’শ এবং তার উর্দ্ধে আমি পাটের দাম পেয়েছি। অথচ গতকাল ছিল ১৬’শ আজকে তা নেমে ১৫’শ দাড়িয়েছে। অনেকে জানালেন, সঠিক বাজার মুল্য, কৃষকদের প্রক্ষিণের ব্যবস্থা এবং ঋণের মাধ্যমে যদি কৃষকদের সার ও কীটনাশক ঔষধ প্রয়োগ করা হয় তবেই পাটের সেই অতীত ঐতিহ্য আবারও ফিরে পাওয়া যেতে পারে। তালা উপজেলা উপ-সহকারী কৃষিকর্মকর্তা ইসহাক মোল্ল্যা এক প্রশ্নের জবাবে জানালেন, এবছর পাট চাষ জলাবদ্ধ অঞ্চল হওয়ায় তুলনামুলক কম। যে কারণে আশানুরুপ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। তবে যে সকল কৃষকরা এবার পাট চাষ করেছেন তাদের প্রায় প্রত্যেকেরই বাম্পার ফলন হয়েছে। কপোতাক্ষের দু’পাড়ের বেড়িবাধের মাটির কারণেই এবছর এখনও প্লাবিত হয়নি।