পাটকেলঘাটা থানায় স্বর্ণের হদিস নেই, আটক দুই পুলিশ কর্মস্থল ঝিনাইদহে সোপর্দ


693 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাটকেলঘাটা থানায় স্বর্ণের হদিস নেই, আটক দুই পুলিশ কর্মস্থল ঝিনাইদহে সোপর্দ
অক্টোবর ৮, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
স্বর্ন তো নয়, বিপ্লব চ্যাটার্জি  একজন মাদক চোরাচালানি। ২১১ পিস  ইয়াবাসহ হাতেনাতে ধরা পড়েছিল সে। এই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে সাতক্ষীরা জেল হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে একই সময়ে পাটকেলঘাটা থানা পুলিশের হাতে আটক এএসআই আব্দুর রউফ পল্টু ও কনস্টেবল মারুফকে হস্তান্তর করা হয়েছে তাদের কর্মস্থল ঝিনাইদহ জেলা  পুলিশের কাছে। তাদেরকে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হতে পারে।

বহুল আলোচিত ও রহস্যজনক এ ঘটনার জন্ম শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে তালা উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের সেনপুর বাজারে। সেখানে তিনজনকেই গনপিটুনি দিয়ে উদোম গায়ে পাটকেলঘাটা থানা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, যশোরের কেশবপুরের ভাটপাড়া গ্রামের সুধীর চ্যাটার্জির ছেলে বিপ্লব একজন স্বর্ন চোরাচালানি হিসাবে পরিচিত। শুক্রবার বিপ্লব তিন কেজি স্বর্ন ভারতে পাচারের লক্ষ্যে সাতক্ষীরা অভিমুখে আসতে  খুলনার  সোনাডাঙ্গা থেকে বাসে চড়ে বসেন।  এ সময় তার  পিছু ধাওয়া করে  গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তাকে বাস থেকে নামান হরিনাকুন্ডু থানার উপসহকারি পরিদর্শক ( এএসআই) আবদুর রউফ পল্টু ও তার সহযোগী কনস্টেবল মারুফ। বিপ্লবকে তারা একটি মোটর সাইকেলের মধ্যখানে  বসিয়ে নিয়ে আসেন সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা ইউনয়নের সেনপুর বাজারে। বিপ্লবের কাছে থাকা স্বর্ন ছিনতাইয়ের লক্ষ্যে তাকে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যেতে থাকলে বিপ্লব ‘আমাকে বাঁচান, আমাকে বাঁচান’ বলে চিৎকার দেন। বাজারের লোকজন ছিনতাইকারী ডাকাত সন্দেহে  গাড়িটি থামিয়ে সাদা পোশাক পরিহিত পুলিশের দুই সদস্যকে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি মারতে থাকেন। এএসআই পল্টু ও কনস্টেবল মারুফ এ সময় নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিলে ক্ষুব্ধ জনতা তাদের ইন্ধনে বিপ্লবকে মারপিট শুরু কজরেন। গনপিটুনির পর ছিন্ন বস্ত্র ও  উদোম গায়ে তিনজনকেই  সেনপুরের বাবুর দোকানে আটকে রাখা হয়।  খবর পেয়ে পাটকেলঘাটা থানার এএসআই মুরাদ তাদের গনরোষ থেকে উদ্ধার করে আনেন ।

রাতে ওসি মহিবুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বিপ্লব স্বীকার  করেছে যে তার কাছে দুই পিস স্বর্ন ছিল’। তবে সেই স্বর্ন কোথায় তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেন নি।

এদিকে, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দিনভর সংবাদকর্মীসহ সবার কৌতুহল ছিল ঘটনাটির শেষ কোথায় কিভাবে হয় এবং কতটুকু স্বর্ন উদ্ধার হয়েছে তা জানার জন্য। এ সময় পুলিশের সাথে নানাভাবে দরকষাকষির খবরও আসে সংবাদকর্মীদের কাছে। এমনকি পুলিশ কিছু মাদকদ্রব্য খুঁজছে বলেও চাউর হয়। এ নিয়ে পুলিশও সংবাদকর্মীদের এড়িয়ে নানাভাবে লুকোচুরি খেলতে থাকে। অবশেষে বিকালে পাটকেলঘাটা থানার ওসি মহিবুল ইসলাম জানান বিপ্লবের খোয়া যাওয়া স্বর্ন উদ্ধার হয়নি। এমনকি এই সোনা তিন কেজি নাকি মাত্র দুই পিস তাও তিনি নিশ্চিত করতে পারেন নি।

তিনি জানান, বিপ্লব স্বর্ন চোরাচালানি নন। দেহ তল্লাশি করে তার কাছে পাওয়া গেছে ২১১ পিস ইয়াবা। তাকে ইয়াবা চোরাচালান মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে পুলিশ সদস্য আবদুর রউফ পল্টু ও মারুফ ছুটিতে থাকাকালে এবং বাইরের কোনো জেলায় কোনো সন্দিগ্ধ ব্যক্তির সন্ধান পেয়ে তাকে গ্রেফতার করতে চাইলে স্থানীয় থানার সহায়তা না নিয়ে ভুল করেছেন। এজন্য তারা গনপিটুনি খাওয়ায় পুলিশের ভাবমুর্তিও ক্ষুন্ন হয়েছে। এসব কারনে তাদেরকে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনার লক্ষ্যে তাদের কর্মস্থল ঝিনাইদহ জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ওসি।

আলোচিত এএসআই আবদুর রউফ পল্টু ও কনস্টেবল মারুফ  ঝিনাইদহ জেলার হরিনাকুন্ডু থানায় কর্মরত। হরিনাকুন্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহতাবউদ্দিন  জানান, এএসআই পল্টু ঢাকায় সাক্ষী দিতে ও মারুফ তার বাবার অসুস্থতার কারনে ছুটিতে গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় গিয়েছিলেন। সেখানে যেয়ে তারা এমন অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হন বলে জানান তিনি।