পানির সমস্যায় তরমুজ চাষে বিপর্যয়


165 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পানির সমস্যায় তরমুজ চাষে বিপর্যয়
এপ্রিল ১২, ২০২১ কৃষি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

বছর কয়েক শুরু হয়েছে খুলনার কয়রায় তরমুজ চাষ। এর আগে এক ফসলি জমি ধান চাষ করে পতিত অবস্থায় থাকতো। প্রথমে দু’এক জন কৃষক তরমুজ চাষ করে ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায়, এবার উপজেলায় আমাদিও বাগালি ইউনিয়নে ৫ গুন বেড়েছে তরমুজ চাষ।

কৃষক স্বপ্ন দেখছেন লাভবান হবেন, তবে দুর্যোগ প্রবণ এ উপকূলে গত কয়েক মাস অনাবৃষ্টি ও স্থানীয় পানির উৎস খালগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় খরতার প্রভাব পড়ছে তরমুজের উপর। অনাবৃষ্টির আকাশ থেকে ঝরছে খরতার তাপ। কৃষকের স্বপ্ন যেন দু:স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানির অভাবে গাছ গুলো শুকিয়ে যাওয়ায় ফল নষ্ট হচ্ছে। দুরের ডিপ ও পকুর থেকে কলসি দিয়ে পানি কিনে টেনে এনে কোন রকমে বাঁচিয়ে রেখেছে গাছগুলো, তবুও অনেকের জুটছেনা পানি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর ১৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করে কৃষক দাম ও ফলন ভালো পাওয়ায় এ বছর কৃষক উদ্বুদ্ধ হয়ে ৬৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন।

আমাদি ইউনিয়নের হরিকাটি গ্রামের শেফালী সরদার বলেন, গত বছর এলাকায় তরমুজের ফলন ভালো দেখে অন্যের কাছ থেকে বিঘা প্রতি ২ হাজার টাকা করে ২ বিঘা জমি লিজ নিয়ে এবার প্রথম তরমুজ চাষ করেছেন। তবে পানির চরম সমস্যায় ভালো ফলন পাওয়া নিয়ে চিন্তিত রয়েছে। তিনি বলেন খালে পানি না থাকায় ডিপ থেকে পানি কিনে আনতে মাত্র অতিরিক্ত খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

একই গ্রামের চন্দ্র শেখর মন্ডল এবার প্রথম ৯ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছে তার এ পর্যন্ত ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে পানির সমস্যার কারণে আসল টাকা উঠবে কিনা সংশয়ে রয়েছেন।

এলাকার গুরুত্বপূর্ণ অর্থ কারি ফসল চাষাবাদে কৃষি অফিসের উল্লেখযোগ্য কোন ভুমিকা দেখা মেলেনি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জমির ভিতরে থাকা খালগুলো খননের মাধ্যমে ও স্যালো বসানোর মাধ্যমে পানির সমস্যা সমাধান করতে পারলে, তরমুজ চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থ কারি ফসল হবে বলে সচেতন মহল জানান।

পাইকগাছা কৃষি অফিসার কয়রা উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত এসএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পানির সমস্যার নিরসনের জন্য খালগুলো খনন করে কৃষকের কাছে যাতে ইজারা দেওয়া হয় সেজন্য জেলা সমন্বয় কমিটিংয়ে আলোচনা করা হবে। পানি সমস্যার কারণে গাছগুলোতে একটা ভাইয়াস দেখা দিয়েছে তার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তবে বৃষ্টি না হলে রোগ পুরোপুরি নিরাময় হবে না।