পানি নিষ্কাশন করে ইরিবোরো চাষের লক্ষে দিবা রাত্র চলছে ১৬টি শ্যালো মেশিন


1083 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পানি নিষ্কাশন করে ইরিবোরো চাষের লক্ষে দিবা রাত্র চলছে ১৬টি শ্যালো মেশিন
জানুয়ারি ৭, ২০১৬ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

মাহফুজুর রহমান মধু,পাটকেলঘাটা :
স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে তালা পাটকেলঘাটার  কপোতাক্ষ  অববাািহকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এর ফলে আমন ধান থেকে বঞ্চিত হয়েছে ওই এলাকার কৃষকরা। তাই আমন ধানের ঘাটতি  পুষিয়ে নিতে বোরো চাষ করতে এক সপ্তাহ ধরে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি নিষ্কাশন করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা।

তালা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ১৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি সেচের মাধ্যমে বিলগুলোর জলাবদ্ধতা দূর করা গেলে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে।

সরেজমিনে গতকাল তালা উপজেলার ইসলামকাটি, ভবানীপুর, ঘোনা, পারঘোনা, ডেমশাখোলা, বারাত, মোহনা, কলিয়া, দেওয়ানীপাড়া, শুভাষিনী, লক্ষ্মণপুর, মির্জাপুর, কেসমতঘোনা, কাজীডাঙ্গা গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে এসব এলাকার কমপক্ষে ২০টি বিলে জলাবদ্ধতার কারণে আমন চাষ হয়নি।
কপোতাক্ষ নদের উপচে পড়া পানি ও বৃষ্টির পানিতে ছয় মাস যাবৎ তিন থেকে চার ফুট পানি বিদ্যমান। বিলের উপরিভাগ অপেক্ষা মৃতপ্রায় কপোতাক্ষের তলদেশ উঁচু হওয়ায় পানি নিক্ষাশন হয় না।
সেক্ষেত্রে বর্ষা মৌসুমে ওই সব বিলে শাপলা, চেঁচো ঘাষ ভর্তি হয়ে যায়। এজন্য বোরো চাষ করতে কৃষকরা এসব বিলের পানি শ্যালো ইঞ্জিন চালিত পাম্প দিয়ে নিষ্কাশন করছেন। এ সবের মধ্যে তালা-পাটকেলঘাটা সড়কের ইসলামকাটি ব্রিজের দক্ষিণ পাশে ১৬টি শ্যালোমেশিন দিন-রাত বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছে।

গোপালপুর গ্রামের কৃষক মতিয়ার রহমান জানান, ঘোনা বিলে তার সাত বিঘে জমি রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে তিনি আমন ধান চাষ করতে পারেন নি। তাই কপোতাক্ষ নদ তাদের কাছে এখন অভিশাপ ছাড়া কিছু নয়। আগামি বোরো মৌসুমে ধান চাষ না করতে পারলে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটানো ছাড়া উপায় থাকবে না।

একই ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের নারায়ন ম-ল জানান,  প্রতি বছর ছয় মাস জল জমে থাকায় ভবানীপুর বিলে আমন ধান হয় না। তবে মাঘ মাসের শেষের দিকে বিলে জল কমে গেলে কৈ, চ্যাং, শৈল, মাগুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। তাতে আমন ধানের  ঘাটতি পোষায় না। বাধ্য হয়ে বোরো মৌসুম শুরুতেই এলাকার কয়েকিিট বিলের জমির মালিকদের  নিয়ে এবারো জল সেচের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে ইসলামকাটি ব্রীজের দক্ষিণ পাশে ১৬টি শ্যালো মেশিন বসানো হয়েছে। এভাবে চলতি মৌসুমে বোরো চাষ করতে পারলে কোন প্রকারে পিঠ বাঁচানো যাবে।

তালা সদর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, শিবপুর বিলে এখন হাঁটু সমান পানি। আমন ধান না হওয়ায় গবাদি পশুর খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। গবাদি পশু বাঁচিয়ে রাখতে দ্বিগুণ অথবা তিনগুণ দামে বিচালি কিনতে হচ্ছে। বোরো ধান না হলে শুধু গরুর খাদ্য নয়, মানুষের খাদ্য সঙ্কট দেখা দেবে। একইভাবে বোরো চাষ না করতে পারলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পথে বসতে হবে বলে জানালেন গোপালপুরের শ্যামল ম-ল, উদয় রায়, দেওয়ানীপাড়ার আব্দুল আলীম, বারাতের পঙ্কজ দাস।

তবে ঘোনা গ্রামের আজিজুল হক জানান, কয়েক বছর আগে গোপালপুর স্লুইজ গেটে উপজেলা পরিষদ ও জমির মালিকদের যৌথ উদ্যোগে বৈদ্যুতিক পাম্প মেশিন বসানো হয়। বৈদ্যুতিক বিল পরিশোধ করার সময় জমির মালিদের সমন্বয় না হওয়ায় ওই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ডিজেল চালিত পাম্প মেশিনে পানি সেচ দিতে তাদের অধিক পয়সা খরচ হচ্ছে। এতে তাদেরও বোরো উৎপাদন ব্যয় বাড়বে।

তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সামসুল আলম জানান, আমনের ঘাটতি পূরণে কপোতাক্ষ তীরবর্তী কমপক্ষে ২০ টি বিলের জমির মালিকরা নিজ উদ্যোগে পানি সেচ করে বোরো ধানের উদ্যোগ নিয়েছেন। ফলে খরচ একটু বেশি হলেও তাদের টার্গেট পূরণ হবে।
তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, তার সঙ্গে পরামর্শ করেই কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে পানি সেচের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।