পিতার ইচ্ছে ছিল ছেলে ডাক্তার হবে, কিন্তু বিশ্ব বরেণ্য ক্রিকেটার হল মোস্তাফিজুর রহমান


3635 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পিতার ইচ্ছে ছিল ছেলে ডাক্তার হবে, কিন্তু বিশ্ব বরেণ্য ক্রিকেটার হল মোস্তাফিজুর রহমান
জুলাই ১৮, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিষ্ময় বালক মুস্তাফিজের পিতার ¯^প্ন ছিলো ছেলেকে ডাক্তারি পড়াবে। সে ডাক্তার হয়ে দুস্থ, অসহায়, আর্ত মানবতার সেবায় কাজ করবে। গরীব-দুঃখী মানুষের সেবা করবে। কিন্তু সে হয়েছে ক্রিকেটার। ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমের সাথে আলাপকালে সাতক্ষীরা এক্য্রপ্রেস খ্যাত মোস্তাফিজুর রহমানের পিতা আবুল কাশেম গাজী জানালেন নানা কথা ।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিস্ময় বালক মুস্তাফিজুর রহমান। ভারতের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে ৫টি উইকেট ও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৬টি উইকেট নিয়ে গড়লেন বিশ্ব রেকর্ড। বাংলাদেশ দলের বিজয়ের নায়ক মুস্তাফিজুরের এই সাফল্যে সাতক্ষীরার মানুষ আনন্দে ভাসছে। একই সাথে তার গ্রামের বাড়ী জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে চলছে আনন্দের বন্যা। এলাকাবাসী তার পিতা-মাতা ও ভাইকে অভিনন্দন জানাতে ভিড় করছে কৃতি এই খেলোয়াড়ের বাড়ীতে। বিশেষ করে তার যে ভাই তাকে প্রশিক্ষণের জন্য ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মটরসাইকেলে করে সাতক্ষীরা গনমূখী ক্লাব মাঠে নিয়ে আসতেন, সেই মোখলেছুর রহমান পল্টু আনন্দে আত্মহারা হয়ে আছে। তার বাবা আলহাজ্ব আবুল কাসেমও ছেলের সাফল্যে আজ গর্বিত। মুস্তাফিজের সাফলে পরিবারের সদস্যদের সাথে গর্বিত সাত¶ীরা বাসীও। তার এই ক্রিকেটারের বোলিং সাফল্যের খবর পেয়ে এলাকার ক্রীড়মোদী মানুষ সোমবার গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যে সকাল থেকে ভীড় জমায় মুস্তাফিজের গ্রামের বাড়ী সাত¶ীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে। সকলেই মুস্তাফিজুরের পরিবারের লোকজনদের শুভেচ্ছা জানায়। দলের জন্য ভাল খেলায় গর্বিত তারা বাবা-মা ও ভাইবোন। দল ও দেশের জন্য আরো ভালো খেলা উপহার দেয়ার জন্য সকলের কাছে দোয়া ও আর্শিবাদ কামনা করেন তার পারিবারের সদস্যরা।
ব্যবসায়ী বাবা আলহাজ্ব আবুল কাশেম গাজী, মা মাহমুদা খাতুনের ছোট ছেলে হিসেবে তাদের কোল আলোকিত করে ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৫ সালে সাত¶ীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্ম নেয় মুস্তাফিজুর রহমান। চার ভাই ও দুই বোনের সংসারে বেড়ে উঠা দেশ কাঁপানো বর্তমান এই পেসারের। তার বড় ভাই মাহফুজার রহমান গ্রামীনফোনের টেরিটরি অফিসার হিসেবে খুলনায় কর্মরত আছেন। মেজ ভাই জাকির হোসেন ও সেজ ভাই মোকলেছুর রহমান পল্টু এলাকার ঘের ব্যবসায়ী।
স্থানীয় বরেয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেনীতে পড়া অবস্থায় ক্রিকেট খেলার প্রতি তার আগ্রহ জম্মায়। বরেয়া জিলানী হাই স্কুলে ভর্তির পর তার ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। পড়াশোনায় অতটা মন তার কখনোই ছিল না। স্কুল ফাঁকি দিয়ে সে ক্রিকেট খেলতে যেত। এরপর থেকে ক্রিকেটই তাঁর ধ্যানজ্ঞান হয়। বরেয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নেট প্রাকটিস করতেন বিস্ময় বালক। ক্রিকেটের প্রতি তার অদম্য আগ্রহের কারণে দশম শ্রেনীতে টেষ্ট পরী¶া দেয়ার পরও এসএসসি পরী¶ায় আর অংশ গ্রহণ করা হয়ে উঠেনি তার। ক্রিকেট খেলায় আসার পিছনে সেজ ভাই মোখলেসুর রহমানের অবদান অনেক বেশী।
জেলা পর্যায়ে খুব বেশি দিন অপে¶া করতে হয়নি তাঁকে । ২০১৩ সালে অনুর্দ্ধ-১৯ দলের হয়ে খুলনা বিভাগীয় দলে ও পরে ডাক পান ন্যাশন্যাল লীগে খেলার জন্য। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ফাস্ট বোলিং ক্যাম্পে ট্রায়াল দিতে এসে কোচরা আর ছাড়েননি এই প্রতিভাকে। নিয়মিতই অনুর্দ্ধ-১৯ দলে খেলেছেন। বল করতেন জাতীয় দলের নেটেও। ধারাবাহিকভাবে বোলিং এ সাফল্য পাওয়ায় ২০১৩ সালে জাতীয় অনুর্দ্ধ-১৯ দলের হয়ে দেশে শ্রীলংকার সাথে। ওই বছরই দেশের হয়ে দুবাইতে অনুর্দ্ধ-১৯ বিশ্বকাপে খেলেন মুস্তাফিজ। ৯ উইকেট নিয়ে রেকর্ড করেন তিনি। হয়েছিলেন বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। ২০১৫ সালে এ দলের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যায় কিন্তু না খেলেই দেশে চলে আসে সে। ঢাকার ওয়ারী ক্লাবের হয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট খেলে। পরে আবাহনীর হয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে অংশ নেয় এবং দলের হয়ে প্রথম ম্যাচেই ৫ উইকেট দখল করে পেসার মুস্তাফিজ সকলের নজর কাড়ে। পাকিস্থানের বিপ¶ে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অবিস্মরণীয় খেলা বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্টোল বোর্ডের আবারো নজর কাড়েন।
মুস্তাফিজ এ ডিভিশনে খেলা শুরু করেন গত বছর এপ্রিলে। তারপর  অভিষেক হয়েছিল ঘরোয়া এক দিনের ম্যাচে। অভিষেক ম্যাচের চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স বাংলাদেশ দলে ভিন্ন এক মাত্রা যোগ করবে বলেই পূর্বাভাস দিয়েছিল। সব মিলিয়ে বলা যায় নতুন বিস্ময় হিসেবে বাংলাদেশ ক্রিকেটে আবির্ভুত হয় এই ১৯ বছর বয়সী তরুণ বাহাতি পেসার।
মুস্তাফিজের পিতা আলহাজ্ব আবুল কাশেম গাজী আবেগ জড়িত কণ্ঠে ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম -এর এই প্রতিবেদকে জানান, আমার ইচ্ছে ছিলো ছোট ছেলে ডাক্তার হবে। কিন্তু সে হয়েছে ক্রিকেটার। আমার ছেলে যে জাতীয় টিমে খেলছে এটি গর্বের বিষয়। ভারতের বিপ¶ে ছেলের খেলা দেখে সত্যিই আমি অতিভূত। দীর্ঘদিনের লালিত একটি ¯^প্ন আজ পূরুন হলো। মুস্তাফিজ আমার একার ছেলে নয় গোটা জাতির হয়ে ২২ গজের রণাঙ্গনে লড়বে। জাতীয় দলের হয়ে সামনে যেন সে আরও ভাল খেলতে পারে তার জন্য তিনি সাত¶ীরাবাসীসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।