পেশা বদলে ‘একদিনের কসাই’


577 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পেশা বদলে ‘একদিনের কসাই’
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
নয়াবাজার পুলিশ বক্সের কাছে নিয়মিত চা-পান-সিগারেট বিক্রি করেন চল্লিশ বছর বয়সী বাবুল। আয়-রোজগারও খারাপ না। তবে কোরবানির ঈদে তাকে খুঁজে পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য।

রাজধানীতে কোরবানির ঈদে এমন অনেক বাবুলেরই পরিচয়ই যায় বদলে; এদের কেউ পেশায় ওষুধ দোকানি, কেউ গরু নিয়ে ঢাকায় এসেছেন, আবার কেউ রিকশাচালক।

শুক্রবার বাবুলকে খুঁজে পাওয়া গেল কোন এক পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় মাংস কাটায় ব্যস্ত সময় কাটাতে।

মোহাম্মদপুর নূরজাহান রোডে মাংস কাটতে কাটতেই বাবুল এই প্রতিবেদককে জানান, চারবছর ধরে তিনি ঈদের দিনগুলোতে এই কাজ করে আসছেন। এতে ঈদের দিনের দোকানদারি থেকে বেশি আয় হয়।

মৌসুমি কসাইদের চুক্তিভিত্তিক কাজের মজুরির পদ্ধতিও বেশ অভিনব। গরুর দামের উপর শতাংশ হারে তারা চুক্তিতে এ কাজ করেন বলে কথা বলে জানা গেছে।

বাবুলও জানালেন একই তথ্য। বললেন, গরুর দামের দশ শতাংশ চুক্তিতে তিনি এবং নয়াবাজার এলাকার দিনমজুর জব্বার, ফেরদৌস, খোকন ও বিল্লাল ঈদের তিন দিন গরু জবাই ও মাংস ‘বানানোর’ কাজ করবেন।

“তবে কেউ যদি খুশি হয়ে কিছু মাংস দেয় সেটা অন্য বিষয়,” যোগ করেন তিনি।

সারাদিন কেমন আয় হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তিন-চারটি গরু বানাবো। বড়-ছোট মিলিয়ে আয় হাজার বিশেক হবে।”

বাবুলের মতোই আজাহার নামেও এক ‘কসাই’কে পাওয়া গেল, যিনি পুরান ঢাকার এক ওষুধের দোকানে কাজ করেন। তার সঙ্গে ওষুধের দোকানের আরও তিন কর্মচারীও দোকান মালিক ইমাম হোসেনের গরু বানিয়ে দিচ্ছেন।

গোড়ান এলাকায় তিতাস রোড়ের একটি চৌ-রাস্তার ওপরেই পশু জবাই করেছেন স্থানীয়রা
আজাহার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রতিবছর এটা করে থাকি। এতে মালিকের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আলও ভাল হয়। তাছাড়া বাড়তি আয়ও আসে।”

মোহাম্মদপুর নুরজাহান রোডের অন্য এক বাড়িতে গরু জবাই ও বানানোর কাজ করছেন ভোলার জয়নাল (৪২), সঙ্গী রাসেলসহ আরও তিন জন।

পাঁচ বছর ধরে ঈদের এই সময়ে কসাইয়ের কাজ করেন জানিয়ে জয়নাল বলেন, “আমরা পাঁচ জন আছি। কেউ সবজি বিক্রি করেন, কেউ রিকশাচালক, কেউবা দিনমজুর।

“কোববানির ঈদের আশায় সারা বছর অপেক্ষা করি। এই তিন দিন বাড়তি আয় করতে পারি।”

বৃহস্পতিবার বাড্ডা গরু হাটে দেখা মেলে এরকম আরও পাঁচ মৌসুমি কসাইয়ের সঙ্গে। মেহেরপুর থেকে তারা গরু বিক্রি করতে ঢাকায় এলেও কোরবানির মৌসুমে কসাইয়ের কাজ শেষ করেই বাড়ি ফিরবেন।

এদের একজন ফেরদৌস বলেন, “মহাজনের ১৫টি গরু নিয়ে এসেছি। গরু বানিয়ে দিতে বিক্রির সময়ই ছয় জনের সঙ্গে কথা হয়েছে। দুদিন পর বাড়ি যেতে কোনো ঝামেলাও হবে না।”

কামরাঙ্গীর চরের মাদবর বাজারের সাইদুল মাদবর জানান, ঈদে সবসময় জাত কসাই পাওয়া যায় না। তাই এরকম মৌসুমি কসাইদের কদর বাড়ে।

“অনেক আগে থেকে কসাইদের সঙ্গে কথা না বলে রাখলে কসাই পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য।”
চামড়া ব্যবসায়ীদের হিসেব অনুয়ায়ী, এ বছর কোরবানির ঈদে প্রায় আশি লাখ গরু জবাই হবে। তাদের লক্ষ্যমাত্রা ৬৫ লাখ গরুর চামড়া।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আফতাব খান জানান, গরম ও ঠিকমত সংরক্ষণের অভাবে গত বছর ৩৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়েছিল।

তিনি গরু জবাইয়ের পর লবণ দিয়ে যথাযথভাবে চামড়া সংরক্ষণ করার অনুরোধ জানান।