প্রতারিত হয়ে ৬মাস কারাভোগ : ভারত থেকে ফিরে আসলো তালার ২ দরিদ্র নারী


579 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
প্রতারিত হয়ে ৬মাস কারাভোগ : ভারত থেকে ফিরে আসলো তালার ২ দরিদ্র নারী
এপ্রিল ১১, ২০১৭ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি.এম. জুলফিকার রায়হান, তালা ::
চিকিৎসার জন্য ভারতে যেয়ে প্রতারকের খপ্পড়ে পড়ে তালা উপজেলার মুড়াগাছা গ্রামের শহিদুল সরদারের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৪৫) এবং একই উপজেলার মাছিয়াড়া গ্রামের কেসমত সরদারের স্ত্রী খাদিজা বেগম (৪০)। প্রতারক চক্রের খপ্পড়ে পড়ে টাকা ও মালামাল হানানোর পর তাঁদের ৬ মাস কারাভোগ করতে হয়।

এরপর রাতের আঁধারে দর্শনা সিমান্ত দিয়ে বিএসএফ কর্তৃত এদেশে ঠেলে দেবার পর খালি হাতে বাড়ি আসতে গিয়ে সহ্য করতে হলো অমানবিক পরিস্থিতির!

প্রায় আঠারো মাস পূর্বে ওই দুই নারী তাদের স্বামীদের সাথে চিকিৎসার জন্য ভারতের চব্বিশ পরগনা এলাকায় যান। সেখানে যেয়েই তাঁরা এদেশের দুই প্রতারকের খপ্পড়ে পড়ে টাকা ও মালামাল হারান এবং কারাভোগ করেন।

তালার মাছিয়াড়া গ্রামের কেসমত সরদার ও মুড়াগাছা গ্রামের শহিদুল সরদার জানান, দারিদ্রতার কারনে চোরাইপথে কম খরচে উন্নত চিকিৎসা নিতে শহিদুল এবং খাদিজা বেগম প্রায় দেড় বছর পূর্বে ভারতে যায়। সে সময় তাদের সাথে শহিদুলের স্ত্রী জাহানারা বেগম এবং খাদিজা বেগম’র স্বামী কেসমত সরদার ছিলেন।

সেখানে প্রায় বছরকাল ধরে তারা বিভিন্ন কাজ করে অর্থ আয় করেন এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে চিকিৎসা নিয়ে অনেকটাই সুস্থ্য হয়ে ওঠেন। এরমধ্যে জরুরী প্রয়োজনে দেশে আসার সময় চব্বিশ পরগনা এলাকায় অবস্থানকারী তালা উপজেলার খলিলনগর গ্রামের নিছার সরদারের ছেলে হাফিজুর রহমান এবং একই উপজেলার মুড়াগাছা গ্রামের রাজ্জাক সরদারের ছেলে আনিছুর রহমান সরদারের সাথে তাদের কথা হয়।

ভুক্তভোগী দুই নারী জাহানারা বেগম ও খাদিজা বেগম জানান, চোরাইপথে বাংলাদেশে নিয়ে আসার জন্য প্রতারক ও দালাল হাফিজুর এবং আনিছুর তাদের সাথে ১৫ হাজার টাকার চুক্তি করে।

সেমতে তাদের ১৫ হাজার টাকা দেবার পর দক্ষিন চব্বিশ পরগনা থেকে কিছু দূরে আনার পর দালালচক্র আরো ২০ হাজার টাকা দাবী করে। কিন্তু এই টাকা দিতে না পারায় দালালচক্র ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং কৌশলে উক্ত দুই মহিলার কাছ থেকে তাদের ব্যবহারের কাপড়-চোপড় এবং ১৫ হাজার টাকা নিয়ে সটকে পড়ে। একই সাথে উক্ত দুই মহিলাকে মহেশতলা থানা পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়া হয়।

পরে পুলিশের সাথে সেখানকার এবং এদেশের দালালচক্র হাফিজুর ও আনিছুর যোগসাজস করে আটক মহিলা জাহানারা এবং খাদিজাকে দুই দিন থানা হাযতে আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে তাদের থানা থেকে ছেড়ে দেবার কথা বলে জাহানারা এবং খাদিজার স্বামীর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবী করলে তারা ২৫ হাজার টাকা দেয়।

কিন্তু এই টাকা নিয়েও জাহানারা বেগম এবং খাদিজাকে ছেড়ে না দিয়ে পুলিশ তাদের আদালতে সোপর্দ করলে, আদালত তাদের ৬ মাসের কারাদন্ড দিয়ে জেলে প্রেরন করে। সেখানে ৬ মাস কারাভোগ করার পর গত মাসের শেষের দিকে ভারতীয় বিএসএফ তাদের রাতের আঁধারে দর্শনা সিমান্ত দিয়ে এদেশে ঠেলে পাঠায়।

তারপর বিল-খাল ও দীর্ঘ মেঠোপথ পায়ে হেটে পাড়ি দিয়ে ওই দুই নারী চুয়াডাঙ্গা জেলার একটি গ্রামে আসেন। সেখানে তারা তাদের কাছে থাকা ব্যবহারের ১টি শাড়ি মাত্র ২০টাকায় বিক্রি করে কোনও ভাবে পাশের একটি বাজারে ওঠেন। সেখান থেকে বাড়িতে ফেন করে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে টাকা নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন।
##