প্রতিরক্ষাসহ ৪৯ সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি প্রস্তুত


343 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
প্রতিরক্ষাসহ ৪৯ সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি প্রস্তুত
মার্চ ২৪, ২০১৭ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের আলোচ্যসূচির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। আলোচিত এজেন্ডাগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকসহ ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৩২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ে দু’পক্ষ একমত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ৪৯টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। এ তালিকার অন্তর্ভুক্ত না হলেও তিস্তার পানি বণ্টন ও গঙ্গা ব্যারাজ সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে এখনও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে সূত্র। বিশেষ করে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ দুটি চুক্তির ব্যাপারে ভারতের ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টিতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে। সূত্র জানায়, বাংলাদেশ এখনই এ দুটি চুক্তির বিষয়ে হাল ছাড়তে রাজি নয়। শেষ সময় পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

দিলি্লর একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বর্তমানে গঙ্গা ব্যারাজ সহযোগিতা চুক্তির বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ, বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির চেয়ে গঙ্গা ব্যারাজ সহযোগিতা চুক্তি হলে সেটা দেশের জন্য অনেক বেশি লাভজনক হবে। গঙ্গা ব্যারাজের বিষয়ে দিলি্লর নীতিনির্ধারকদের মনোভাবও ইতিবাচক। সূত্র আরও জানায়, যেহেতু বাংলাদেশ ভারতের প্রস্তাবে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সমঝোতা স্বাক্ষরে সম্মত হয়েছে, সে কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের দিলি্ল সফরে শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্যও নাটকীয় সুসংবাদ আসতে পারে। ভারতের সংবাদমাধ্যম আউটলুক অতি সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে চুক্তি না হলেও একটি খসড়া তৈরি হতে পারে।

একাধিক দফায় পেছানোর পর ৭ এপ্রিল চার দিনের সরকারি সফরে দিলি্ল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৮ এপ্রিল তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া দিলি্লতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠানেরও চেষ্টা চলছে।

খসড়া আলোচ্যসূচিতে যা থাকছে :সূত্র জানায়, ৪৯টি চুুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে দু’পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য চূড়ান্ত হয়েছে। এ তালিকায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক ৯টি সমঝোতা স্মারকও রয়েছে। এগুলো হচ্ছে_ প্রতিরক্ষা খাতের প্রশিক্ষণ, সামরিক শিক্ষা পাঠ্যক্রম ও তথ্য বিনিময়, সামরিক বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক ও পর্যবেক্ষক বিনিময়, সামরিক সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণে পারস্পরিক সহযোগিতা, পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় উভয়পক্ষের সমন্বি্বত টহল ও যৌথ মহড়া, উভয়পক্ষের সমুদ্রগামী জাহাজ ও উড়োজাহাজ সফর বিনিময়, প্রতিরক্ষা শিল্পের সহযোগিতার প্রয়োজনে যৌথ বিনিয়োগ, মহাকাশ প্রযুক্তিতে সহায়তা এবং দুর্যোগ ও ত্রাণবিষয়ক প্রশিক্ষণ সহযোগিতা। এর বাইরে

উভয় দেশের সেনা, নৌ ও

বিমানবাহিনীর মধ্যে নিয়মিত আলোচনা অনুষ্ঠানের ব্যাপারেও একটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

সূত্র জানায়, অন্যান্য

যেসব বিষয়ে চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে তার মধ্যে রয়েছে সড়ক ও রেল যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা উন্নতকরণ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত বিষয়, দক্ষিণ এশিয়া স্যাটেলাইট ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়, পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ নৌপথ ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়াদি। এর বাইরে শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক উন্নয়ন বিষয়েও একাধিক সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

তিস্তা ও গঙ্গা ব্যারাজ চুক্তি অনিশ্চিত : সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদনে বিভিন্ন পর্যায়ে দিলি্লর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ঢাকা। তবে এ ক্ষেত্রে এখনও বাধা হয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। তদের অভিযোগ, উৎপত্তিস্থল সিকিম থেকে আসার পথে তিস্তায় একাধিক জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কারণে পশ্চিমবঙ্গে পানিপ্রবাহ কমে গেছে। পশ্চিমবঙ্গে পানিপ্রবাহ পর্যাপ্ত হলেই কেবল রাজ্য সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিতে আগ্রহী।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে সব জট কাটিয়ে তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে ইতিবাচক অগ্রগতির জন্য নানাভাবেই চেষ্টা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত আশাবাদী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কারণ তিস্তার পানি নিয়ে সিকিম-পশ্চিমবঙ্গ টানাপড়েনের নিরসন না হলে এ নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চুুক্তিতে রাজি নয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্য সরকার।

এ অবস্থায় বাস্তবতা বিবেচনা করলে গঙ্গা ব্যারাজ সহযোগিতা চুুক্তিতে ভারতকে রাজি করাতে পারলে তা দেশের জন্য অনেক বেশি লাভজনক হবে। এরই মধ্যে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে এ ব্যারাজের পূর্ণাঙ্গ কারিগরি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এ ব্যারাজ নির্মাণ হলে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানি প্রবাহ অনেক বাড়ানো যাবে, যা পাবনা, রাজশাহী ছাড়াও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সেচ ব্যবস্থায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এ ব্যারাজের বিষয়ে দিলি্লর কর্মকর্তারাও এর আগে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। এ প্রকল্পে ভারতকেও অংশীদার করতে চায় বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৫ সালে ভারতের কাছে এ প্রকল্পের প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনসহ বিস্তারিত তথ্য ভারতের কাছে পাঠানো হয়। সে সময় ভারত জানায়, তাদের বিশেষজ্ঞরা মূল্যায়ন করে দেখবেন, এ ব্যারাজ নির্মাণের ফলে ভারতের অংশে কি ধরনের প্রভাব পড়বে।

পরে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে এ নিয়ে ভারতের মিজোরামে একটি সেমিনার হয়। সেখানে বিস্তারিত আলোচনার পর ভারতীয় বিশেষজ্ঞরাও মত দেন বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যেগে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে পারে। ফলে ভারতের অংশে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না। পরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা অনেকটাই ইতিবাচক।

তবে গঙ্গা ব্যারাজ নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কথা সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক সংবাদমাধ্যমে এসেছে। গঙ্গা ব্যারাজের বিষয়টিও চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত তালিকায় নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে।