প্রতিহিংসা নয়,ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগ : প্রধানমন্ত্রী


339 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
প্রতিহিংসা নয়,ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগ : প্রধানমন্ত্রী
মার্চ ৬, ২০১৯ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

দেশ গড়ার সংগ্রামে দল-মত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। আমরা সাম্য, ভ্রাতৃত্ব এবং ঐক্যে বিশ্বাসী। এজন্য আমরা বিভিন্ন সময় জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছি। মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের মাধ্যমে ক্ষুধা-দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করে বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এজন্য আমি দল-মত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা চাই।

বুধবার একাদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামানের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের দৃষ্টিতে দেশের সব নাগরিক সমান। সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিশ্বাসী আওয়ামী লীগ সবসময়ই জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির ওপর আস্থাশীল। একটি দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য সব নাগরিকের অংশগ্রহণ জরুরি।

তিনি বলেন, আমরা ব্যক্তি হিসেবে বিভিন্ন দল ও সংগঠন করতে পারি, আমাদের মতের ভিন্নতাও থাকতে পারে। গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, প্রতিপক্ষ দলকে নিঃশেষ করার অপচেষ্টা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর আওয়ামী লীগ ও এর নেতাকর্মীরা বারবার এ ধরনের বৈরী আচরণের শিকার হয়েছেন।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সমালোচনা করে সংসদ নেতা বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের পরদিন থেকেই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং সমর্থকেরা চরম নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছিলেন। আমি ব্যক্তিগতভাবেও বারবার হামলার শিকার হয়েছি। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আমার ও আমাদের দলের নেতাকর্মীদের ওপর ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা হয়েছিল। আমার দলের ২২ জন নেতাকর্মীসহ সেদিন মোট ২৪ জন নিহত এবং ৫ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন। যারা বেঁচে আছেন তারা এখনও শরীরে স্প্লিন্টার নিয়ে দুঃসহ যন্ত্রণা ভোগ করছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়।

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিতে নিপতিত হয় দেশ। হাওয়া ভবনের নামে তারেক জিয়া চালাতে থাকেন লুটপাট। অর্থনৈতিক উন্নয়ন সূচকের প্রায় সবগুলোতেই বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়তে থাকে। ২০০৮ সালে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে আবারও দেশের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। বিগত ১০ বছর ধরে এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বচনে বিজয়ের পর আমরা টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছি। আমাদের দৃষ্টিতে দলমত নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিক সমান। আমরা সবার জন্য কাজ করব।

তিনি আরও বলেন, সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে আমরা সংসদকে সকল কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছি। সংসদের বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটি গঠন করেছি।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে উন্নয়ন, অগ্রগতি আর সমৃদ্ধির পথে হাঁটছে আজকের বাংলাদেশ। ৪২ বছর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকায় থাকার পর গত বছরের ১৭ মার্চ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে সামিল হওয়ার স্বীকৃতি পেয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে আজকের এই উত্তরণ- এক বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়ার ইতিহাস।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা অর্থনৈতিক সক্ষমতা এমন পর্যায়ে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি যে, পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প নিজেদের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছি। পদ্মা সেতুসহ আমরা ১০টি মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। এছাড়া আমার নিজস্ব চিন্তাপ্রসূত ১০টি বিশেষ উদ্যোগও বাস্তবায়ন করছি, যা ‘শেখ হাসিনার ১০ বিশেষ উদ্যোগ’ নামে পরিচিত।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের জনকল্যাণমূলক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের কারণে বাংলাদেশের এই উন্নয়ন এবং অদম্য অগ্রযাত্রা সম্ভব হয়েছে। আশির দশকের তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ কাটিয়ে বাংলাদেশ আজ ‘উন্নয়ন বিস্ময়’ হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত উন্মোচিত হচ্ছে নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, দ্রুততম সময়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রূপরেখা বাস্তবায়নে আমাদের সরকারের সক্ষমতা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। এটি শুধু আমাদের দাবি নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত সত্য। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রযাত্রা এখন বিশ্বের রোল মডেল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সমৃদ্ধ ও উন্নত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় দুঃখী ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আওয়ামী লীগ সরকারের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্য পূরণে নিরলসভাবে কাজ করতে আমি ও আমার সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।