প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবী : বন্ধকৃত কলকারখানা চালু করে শিল্প নগরী খুলনার প্রকৃত রূপে ফিরিয়ে দিন


404 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবী : বন্ধকৃত কলকারখানা চালু করে শিল্প নগরী খুলনার প্রকৃত রূপে ফিরিয়ে দিন
সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৫ খুলনা বিভাগ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ওয়াহেদ-উজ-জামান, খুলনা :
দাদা ম্যাচসহ খুলনার বন্ধ কল-কারখানা চালু করে মৃত শিল্প নগরীকে সচল করে তুলুন। অবহেলিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগণকে এগিয়ে নিতে যেসকল প্রকল্প চলছে তার দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য  মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ, সুন্দরবন উন্নয়ন বোর্ড গঠন, খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ভোমরা-মংলা-মাওয়া-ঢাকা চার লেন করার পাশাপাশি এশিয়ান হাইওয়ের সাথে সংযুক্ত করার করতে হবে। এভাবে বললেন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ।

শনিবার  নগরীর দোলখোরাস্থ এনজিও কনসেন্স অফিসে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে খুলনার প্রাপ্তী ও প্রত্যাশা-শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উন্নয়ন কমিটির প্রবীণ সদস্য ভাষা সৈনিক আলহাজ্ব লোকমান হাকিম। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব এস এম সোহরাব হোসেন। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক খালিদ হোসেন, সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ আলহাজ্ব মহিউদ্দিন আহমেদ, কবি রুহুল আমিন সিদ্দিকি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রসু আক্তার, স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতা শেখ ফেরদৌস ,খানজাহান আলী ফাউন্ডেশনের সভাপতি এ্যাড: মামুনর রশীদ, ব্যবসায়ী নেতা আলহাজ্ব শেখ মো: আবু সুফিয়ান, শেখ আব্দুল হালিম, যুবজোটের হুমায়ুন কবির, মো:আইনুল হক, মহেন্দ্র নাথ সেন, নুরুল ইসলাম প্রমুখ। বক্তারা বলেন, খুলনায় গ্যাস সরবরাহের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা, পাশাপাশি গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে নতুন কূপ খননের জন্য পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কারের লক্ষ্যে ত্রি-মাত্রিক ও দ্বিমাত্রিক ভূ-কম্পন জরিপে খুলনা ও গোপালগঞ্জকে ২০১৯ সাল নির্ধারন করা হয়েছে। যেহেতু এ অঞ্চলে আবিষ্কৃত গ্যাস ক্ষেত্র নেই সেহেতু আমাদের দাবি ভূ-কম্পন জরিপে খুলনা-গোপালগঞ্জ অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেয়া অর্থাৎ ২০১৬ সাল থেকে দ্বি-মাত্রিক ভূ-কম্পন জরিপের কাজ শুরুর করার জোর দাবি জানানো হয়।

সুন্দরবনকে ঘিরে এ অঞ্চলে যে পর্যটন শিল্প গড়ে উঠবে এজন্য সুন্দরবনকে রক্ষা করতে সব ধরনের আহরন বন্ধ রেখে সুন্দরবনকে সুরক্ষিত করতে যা যা করা দরকার সে ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সুন্দরবন উন্নয়ন বোর্ড গঠনের দাবি জানানো হয়। পদ্মা সেতু নির্মিত হওয়ার পর খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সকল সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে আগামী ৫০ বছরের জন্য এ অঞ্চলের পরিকল্পিত উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা গ্রহনেরও দাবি জানানো হয়।

ভোমরা বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণসহ ভোমরা-মংলা-মাওয়া-ঢাকা চার লেন করার পাশাপাশি এশিয়ান হাইওয়ের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। প্রতিশ্রুত আই টি পার্ক স্থাপন ও খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জানানো হয়। নেতুবুন্দ বলেন, খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের জনগণের প্রত্যাশা খুলনা-মংলা রেললাইন দ্রুত বাস্তবায়ন, শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গরূপে চালু, খুলনা বিমান বন্দরের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা, আধুনিক রেল ষ্টেশন নির্মান কাজ দ্রুত সম্পন্ন, খুলনা-দর্শনা ডাবল রেল লাইন নির্মান কাজ শুরু, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, দৌলতপুর মহসীন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ফুলতলা রি-ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ ঘোষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বাস্তবে সরকারীকরণসহ যেসব প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন আছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন ও একই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত বন্ধ মিল কল কারখানা চালুর দাবি জানানো হয়। সভায় সংগঠনের সাধারণ সভা প্রস্তত করার জন্য আলহাজ্ব লোকমান হাকিমকে আহবায়ক খালিদ হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম সবুজ, আলহাজ্ব মহিউদ্দিন আহমেদ,রসু আক্তারকে যুগ্ম আহবায়ক ও এসএম সোহরাব হোসেনকে সদস্য সচিব করে ২১ সদস্যবিশিষ্ঠ কমিটি গঠন করা হয়।