প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফরে গ্যাসসহ সাত দফা পুরনের দাবি খুলনাবাসীর


400 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফরে গ্যাসসহ সাত দফা পুরনের দাবি খুলনাবাসীর
সেপ্টেম্বর ২, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ওয়াহেদ-উজ-জামান, খুলনা :
প্রধানমন্ত্রী’র খুলনা সফরকে সামনে রেখে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ ও সুন্দরবন উন্নয়ন বোর্ড গঠনসহ সাত দফা দাবি তুলেছে খুলনাবাসী। এ দাবিতে বুধবার দুুপুর ১২টায় বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। আগামী রোববার প্রধানমন্ত্রী খুলনায় আসছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের কলকারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান সচলসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষে এ অঞ্চলে পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহের স্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে। এছাড়া সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের লক্ষে সুন্দরবন উন্নয়ন বোর্ড গঠন, পদ্মাসেতু নির্মাণের পর এ অঞ্চলকে ঘিরে পরিকল্পিত উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা গ্রহন, ভোমরা স্থল বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের করে তোলা, ভোমরা-মংলা, মাওয়া-ঢাকা চার লেনে উন্নীত করে এশিয়ান হাইওয়ের সাথে সংযুক্তকরণ এবং প্রতিশ্রুত আইটি পার্ক স্থাপন ও খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব শেখ মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র মতে, শিল্প শহর খুলনাকে সম্বৃদ্ধ করতে দীর্ঘদিনের দাবি পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ। গ্যাস না থাকায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও শিল্পের উৎপাদনের চাকা বন্ধ হয়েছে। গ্যাস না থাকায় নতুন করে উৎপাদনের চাকা সচল হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। গ্যাস সরবরাহ প্রকল্পের বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কিন্তু বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ছে। ১৬৫ কিলোমিটার পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে ৫৩০ কোটি টাকার পরিবর্তে ৬শ’ কোটি টাকায় বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, এডিবি’র অর্থায়নে ২০০৬ সালে শুরু হওয়া গ্যাস সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ফেজ-২ এর আওতায় খুলনা অঞ্চলে গ্যাস সঞ্চালন লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা শুরু হয়। প্রকল্পের দ্বিতীয় অংশে রয়েছে ১৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ভেড়ামারা থেকে ঝিনাইদহ-যশোর হয়ে খুলনা পর্যন্ত পাইপ লাইন নির্মাণ। এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ৫৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস নেটওয়ার্ক প্রকল্পটি ২০০৯ সালের ২২ডিসেম্বর একনেকের সভায় পাস হয়। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে প্রকল্প ব্যয় ৬০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদাহ ও কুষ্টিয়া এ পাঁচ জেলার জন্য প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ছিল ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, জমি অধিগ্রহণ, মালামাল ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্নসহ নানা কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দেয়। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেও কাজ শেষ হওয়া সম্ভব নয়। সে কারণে প্রকল্পের মেয়াদ আগামী ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে খুলনার আড়ংঘাটা পর্যন্ত পাইপ লাইনের কাজ শেষ হলেও ভেড়ামারা ও পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর মাঝ দিয়ে সঞ্চালন পাইপ লাইন স্থাপনে জটিলতা রয়েছে। বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও পদ্মা নদীর ভিতর দিয়ে সঞ্চালন লাইন ¯’াপন করতে ব্যর্থ হয় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ওইখানে ব্রিটিশ আমলে করা হার্ডিঞ্জ সেতুর দুইপাশে প্রচুর পরিমাণে পাথর ফেলা রয়েছে। এ কারণে লাইন স্থাপনের জন্য দু’বারের চেষ্টাতেও ওই পাথর ভেদ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে নদীর গভীর থেকে পাইপলাইন বসানোর জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে।
সূত্রটি আরও জানায়, খুলনার ৫টি গোডাউনে পাইপ মজুদ রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এখন বিভিন্ন ব্যাসের ৮৪৫ কিলোমিটার সরবরাহ লাইন স্থাপন করা হবে। পেট্রোবাংলার আওতায় সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (এসজিসিএল) খুলনায় গ্যাস বিতরণ করবে। নতুন গঠিত এই কোম্পানি খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়াতে গ্যাস সরবরাহ করবে। তবে এই জেলাগুলোর শুধু সদর এলাকাতেই পাইপ লাইন স্থাপন করা হবে।
সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির প্রকল্প পরিচালক এসএম রেজাউল ইসলাম বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছি। খুলনাসহ পাঁচটি জেলায় গ্যাস সরবরাহের কাজ সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। খুব শিগগিরই দক্ষিণাঞ্চলে গ্যাস আসবে। ভেড়ামারা থেকে খুলনার আড়ংঘাটা পর্যন্ত ১৬৫ কিলোমিটার গ্যাস পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বিতরণ লাইনের স্থাপনের জন্য পাইপ ও পাইপ ফিটিংসের মালামাল ক্রয় সম্পন্ন হয়েছে। দেড়শ’ কোটি টাকার পাইপ ও অন্যান্য মালামাল ক্রয় করা হয়েছে। এছাড়া চীন থেকে ফিটিংসসহ বিভিন্ন মালামাল ক্রয় সম্পন্ন হয়েছে। মালামালগুলো আসতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগবে। মালামাল আসলে চলতি বছরের অক্টোবরে বাস্তব কাজ দেখা যাবে। তবে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহের জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে। ভেড়ামারা হার্ডিঞ্জ ব্রীজের নিচ থেকে পাইপ স্থাপনের কাজের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। টেন্ডারসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী ২০১৬ সালের অক্টোবরে নদীর গভীর থেকে পাইপ স্থাপনের কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রকল্পের ধীরগতি বিষয়ে তিনি আরো বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্ক প্রকল্পটি’ একটি মাল্টি ওয়ার্কিং প্রজেক্ট। প্রকল্পের মালামাল ক্রয় প্রক্রিয়া, জমি অধিগ্রহণ, পরামর্শক নিয়োগ, নকশা প্রণয়ন, দক্ষ ও উপযুক্ত জনবলের অভাব, প্রধান কার্যালয় ও আঞ্চলিক কার্যালয় সংস্থাপনসহ নানা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্যাস বণ্টন লাইন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যে ডিজাইনের উপর ভিত্তি করে প্রণীত হয়েছিল এখন তা পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখন আগের আমদানি করা পাইপসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতির সঙ্গে পরিবর্তিত ডিজাইনের যন্ত্রাংশের সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে। প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ সম্পন্ন করতে সংশোধিত ডিপিপি প্রণয়ণের কাজ চলছে। প্রকল্পের কাজ আগামী সেপ্টেমর মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০১৭ সালে জুন পর্যন্ত সময় লাগবে। প্রাথমিকভাবে গ্যাস বিদ্যুৎ প্লান্ট ও শিল্পকলকারখানাতে দেয়া হবে। #