‘প্রধান লক্ষ্য এলাকার উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি’


770 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘প্রধান লক্ষ্য এলাকার উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি’
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৭ তালা ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

॥ বিশেষ প্রতিনিধি ॥
——————————
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সাবেক সংসদ প্রকোশলী শেখ মুজিবুর রহমান নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বর শেখ হাসিনার মনোনীত প্রাথী হিসাবে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন এবং সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে যোগাযোগ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। সাবেক সংসদ সদস্য শেখ প্রকোশলী মুজিবুর রহমান বলেন, বিগত দিনে তিনি নিঃস্বার্থভাবে এলাকার উন্নয়ন করেছি এবং আগামীতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলে আমার নির্বাচনী এলাকাকে আধুনিক উন্নয়নে রুপকার হিসেবে গড়ে তুলবো । তিনি আরো বলেন বিগত সংসদ সদস্য থাকাকালিন অবস্থায় এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এর আগে যারা এই আসন থেকে এমপি হয়েছেন তাদের অনেকে দূনীতি’র কারনে এবং যথাযথ মনিটরিং’র অভাবে উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হয়েছে। এমপি থাকাকালিন গ্রামগজ্ঞে, রাস্তাঘাট পাকাকরন থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সেবা পৌছে দেওয়া হয়েছে। যে কারনে অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ সুষ্ঠি হয়েছে। আগামীতে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনীত হলে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রবীন জেলার এই রাজনীতিবিদ। সম্প্রতি নিজ নির্বাচনী এলাকা তালা-কলারোয়া এলাকায় আওয়ামীলীগের তৃনমূল পর্যায়ে নেতাকর্মিসহ সর্ব-সাধরনে সাথে মতবিনিময়সহ গনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি নিজ গ্রামে বাড়ীতে সাংবাদিকদের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারের শেখ মুজিবুর রহমান এসব কথা বলেন। সাবেক সংসদ সদস্য প্রবীন রাজনীতিবিদ বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র বিগত নবম সংসদ নির্বাচনে আমাকে দলীয় মনোনীত করেছিল। তখন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আমার পেশার পাশাপশি জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবা করার অঙ্গিকার করলাম । আমার এই রাজনীতি অঙ্গনে প্র্েবশ জনকল্যানে জন্য । আমি বাড়িয়ে বলতে চাইনা , আমার উদ্দেশ্য হল মানুষের সেবা করা । ২০০৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পর থেকে উন্নয়ন অবকাঠমো যথেষ্ঠ অর্থ বরাদ্ধ দিয়ে আসছে। এবং অন্যান্য উপকরণগুলোর বরাদ্ধ হারে মাধমে আমার নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমানে তালা-কলারোয়ায় তেমন উন্নয়নে ছোয়া পড়েনি।
অথচ আমি সংসদ সদস্য থাকা কালে সাতক্ষীরাসহ তার নির্বাচনী এলাকায় বহু উন্নয়ন মূলক কাজ করেছি । যার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুল আলোচিত দক্ষিন-পশ্চিম অঞ্চলের মাইকেল মধুসূদন দত্তেৃর স্বপ্নের কপোতাক্ষ নদ পূনখনন,১১৭ কোটি ব্যয়ে সাতক্ষীরা বাইপাস সড়কের কাজ ,ইতো মধ্যে কাজ শুরু হেেছ। ১৫৩ কোটি ব্যয়ে পাইক-গাছা -আশাশুনি রোডনির্মান প্রকল্পের কাজ ছাড়াও প্রায় ১৩৩ কোটি টাকার অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ করেন। এছাড়াও নিজ নির্বাচনী এলাকায় বহু সাইক্লোন সেন্টার,স্কুল কলেজ , মাদরাসা,কার্লভাট, ব্রিজ, পাকা রাস্তা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে রেখে আসছি। এবং বিভিন্ন খ্যাতে কোটি কোটি টাকা উন্নয়ন মূলক কাজ করেছি।
তিনি তার মায়ের নামে পাটকেলঘাটায় আমিরুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ,কলারোয়ায় ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান কলেজ,পিতা মরহুম শেখ মকছেদ আলীর নামে কল্যান ট্রাষ্ট,প্রতিষ্ঠা করেছেন। প্রকোশলী শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, আমি প্রথমে জানার চেষ্টা করেছি তালা-কলারোয়ার মানুষের মৌলিক চাহিদা কী। তাদের চাহিদা হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়া । দ্বিতীয় চাহিদা হচ্ছে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা । কর্মসংস্থানের আমাদের দেশে যে কালচার সেখানে সরকারী চাকরির প্রতি মানুষের একটা ঝোক থাকে । আমি দায়িত্ব থাকাকালিন চেষ্টা করেছি তালা-কলারোয়া বেকারদের চাকরির দিয়ে তাদের পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা আনার । একটা কথা মনে রাখতে হবে আজকের সত্য আমাকে অনেক দুর নিয়ে যাবে, কিন্তু মিথ্যা আমার আগামীকালের রাস্তা বন্ধ করে দেবে।
আমার সঙ্গে জনগনের সুসম্পর্ক কেন জানেন? আমি মানুষকে কোনো মিথ্যা আশ্বাস দিই না । মিথ্যা কথা বলি না আামার বড় পুজি হচ্ছে মানুষের বিশ্বাস। মানুষের বিশ্বাস অর্জন করার জন্য আমাকে যা করতে হয় তাই করবো ।
জনগনের কাজ করার পাশাপাশি আমি আমার এলাকায় দলকে সুংগঠিত করে রেখেছি। তালা উপজেলার পাটকেলঘাটার বড়কাশিপুর গ্রামে ১৯৪৩ সালে ৩রা ডিসেম্বর এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তৎকালে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শেষ করে। কুমিরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় হতে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় ১ম বিভাগ অর্জন করেন। এর পর ১৯৬২ সালে রাজশাহী সরকারী কলেজ হতে আইএসসিতে ২য় বিভাগ অর্জন করেন। পরবর্তীকালে তৎকালীন পাকিস্থান ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি (বর্তমান বুয়েট) ঢাকা হতে ১৯৬৮সালে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার (সিভিল) ২য় শেণিতে উত্তীর্ন হন। ১৯৬২ সালে ছাত্রলীগে যোগদানের মধ্য দিয়ে তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। ১৯৬৪ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বা পাকিস্থান ডেমোক্রেট মুভমেন্ট জোটের ফাতেমা জিন্নাহার সামর্থনে আওয়ামীলীগের আহবানে ইঞ্জিনিয়ার ইউনিভার্সিটি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে কাজ শুরু করেন। ১৯৬৬ সালে ছয়দফা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করেন। এছাড়া ১৯৬৬ হতে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পাকিস্থান ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি (বর্তমান বুয়েট) শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি নির্বাচিত হন এবং আওয়ামীলীগের সিনিয়র রাজনীতিবিদ শেখ মনি, সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাকসহ আরো অনেক নেতৃবৃন্দর সাথে পাকিস্থান বিরোধী আন্দোলনে নিয়োজিত হন। ১৯৬৯সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুসহ অন্য আসামিদের মুক্তির দাবিতে গড়ে তোলা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহন করেন। পূর্ব পাকিস্থানের স্বাধীকার আন্দোলনে গনঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহন করেন। ১৯৬৯ সালে সরকারী চাকুরি হওয়া সত্বেও তিনি সেখানে যোগদান না করে স্বাধীকার আন্দোলনে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন সাতক্ষীরা মহকুমার (বর্তমান সাতক্ষীরা জেলা) মুজিব বাহীনীর প্রধান হিসাবে দায়িত্ব গ্রহনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্থানী হানাদার বাহীনীর সাথে সস্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। যুদ্ধের সময় সহ-যোদ্ধাদের শহীদ হতে দেখেছেন এবং নিজ হাতে শহীদদের দাফন সম্পন্ন করেছেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর সাথে দেশ গঠনে আওয়ামীলীগের দলীয়কাজে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত হন। ১৯৮৯- ২০০০ সাল পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জেলা আওয়ামীলীগের ১নং সদস্য হিসাবে দায়িত্বে আছেন। ২০০১ সালে সাতক্ষীরা- ১ (তালা-কলারোয়া) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। নীতি আর্দশ হিসেবে তিনি একজন সৎ দক্ষ স্বচ্ছ ব্যাক্তি হিসেবে সম্পন্ন । তিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় পাঁচ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে এলাকায় উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
একই সঙ্গে আগামী ২০১৯ সালের নির্বাচনে সামনে রেখে আমি আমার নির্বাচনী এলাকায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা যে উন্নয়নে বরাদ্ধ দিয়ে থাকেন সেগুলো শুধু ঢেলে দিলেই হবে না। প্রয়োজনে পরীক্ষিত ভাবে ব্যয় করা । আরেকটা বিষয় হলো আমি মনে করি আমার নির্বাচনী এলাকায় যারা বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান করতে পারি তাহলে সব রকম অপরাধ কর্মকান্ড কমে আসবে । তরুণ-যুবকরা আতœ-মর্যাদা নিয়ে বেচে থাকার চেষ্টা করবে। তাই তালা -কলারোয়া বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান করাটাই আরেকটি প্রধান কাজ। মাদক একটা বড় সমস্যা ।প্রকোশলী শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাকে এই আসন থেকে মনোনয় দিয়ে আবারো তালা-কালারোয়া মানুষের সেবা করার সুযোগ দিবেন বলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র প্রতি আমার আকুল বিশ্বাস।