প্রধান শিক্ষককে চাকুরী খতম করে ভারতে পাঠানোর হুমকি দিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা !


612 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
প্রধান শিক্ষককে চাকুরী খতম করে ভারতে পাঠানোর হুমকি দিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা !
মার্চ ৫, ২০১৯ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি ::

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বনামধন্য এক প্রধান শিক্ষককে চাকুরী খতম করে ভারতে পাঠানোর দম্ভোক্তি দেখালেন উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গাজী সাইফুল ইসলাম। শুধু তাই নয়, ঐ বয়:বৃদ্ধ প্রধান শিক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ পেনশন বন্দ করারও হুমকি দিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় এলাকার শিক্ষক ও সূধী মহল ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, পাইকগাছা উপজেলার ২৩ নং মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মিলি জিয়াসমিনের সমাপনি পরীক্ষা পরিচালনায় ব্যাপক স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, শিক্ষকদের সাথে র্দুব্যবহার, আসন বিন্যাস ও প্রধান পরীক্ষক হিসাবে প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ে উত্তর পত্র মূল্যায়নে নম্বর প্রদানে অনিয়মের জন্য ২০১৮ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব না দেয়ার জন্য উপজেলার ১৪০ নং সরল দীঘিরপাড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশুতোষ কুমার মন্ডলসহ আরও একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাইকগাছা পৌরসভার ৬ টি কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা গত ০১/১১/২০১৮ তারিখে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট প্রধান শিক্ষীকা মিলি জিয়াসমিনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে আরও জানানো হয় প্রধান শিক্ষিকা মিলি জিয়াসমিনকে ২০১৮ এর সমাপনী পরীক্ষায় সচিব পদে রাখলে তার নিজের স্কুল বাদে অন্য সব স্কুলের পরীক্ষার্থীদের ফলাফল বিপর্যয় ঘটিয়ে দেবার আশংকাও করা হয়। এ দিকে মিলি জিয়াসমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গাজী সাইফুল ইসলাম উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ ইসলামুল হকের মুঠো ফোনের মাধ্যমে তাঁর অফিসে ডেকে আনেন। অফিসে যথারীতি হাজির হলে মিলি জিয়াসমিনের সামনে বয়ো:বৃদ্ধ ঐ প্রধান শিক্ষককে তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, এবং বলতে থাকেন আমার অনুমতি না নিয়ে কেন আপনি মিলি জিয়াসমিনের বিরুদ্ধে জেলায় অভিযোগ করেছেন।
এ সময় প্রধান শিক্ষক আশুতোষ কুমার মন্ডল বলেন, ‘অভিযোগ করতে আপনার অনুমতির প্রয়োজন এটা আমার জানা ছিলনা।’ এমনি ভাবে স্বীকার করলেও রক্তচক্ষু আর আস্ফালন দেখান ঐ শিক্ষা কর্মকর্তা। এক পর্যায়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গাজী সাইফুল ইসলাম প্রধান শিক্ষক আশুতোষ কুমার মন্ডলকে চিৎকার করে বলেন, ‘চাকুরী খতম করে পেনশন বন্দ করে আপনাকে ভারতে পাঠিয়ে দেব।’ অভিযোগপত্রে আশুতোষ আরো বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকার মানহানীর মামলাও দিতে মিলি জিয়াসমিনকে নির্দেশ দেন শিক্ষা কর্মকর্তা।’
এদিকে ওই ঘটনায় উচ্চ রক্তচাপের রুগী ঐ প্রধান শিক্ষক চরম অপমান বোধ সহ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া শিক্ষা কর্মকর্তার হুমকিতে তাঁর পরিবার মানষিক হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। তবে এই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার এমন হুমকি ও আচারনের বিরুদ্ধে স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিভাগীয় উপপরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা, খুলনা বরাবর ০৪/০৩/২০১৯ তারিখে দরখাস্ত প্রেরণ করেছেন। এ ছাড়া তিনি প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রনালয় সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক সহ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট এর অনুলিপিও প্রেরন করেছেন বলে তিনি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গাজী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঐ প্রধান শিক্ষক একজন দালাল, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

#