প্রযুক্তির দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে বেত ও বাঁশের তৈরী প্রাচীন ঐতিহ্য চারুশিল্প


223 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
প্রযুক্তির দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে বেত ও বাঁশের তৈরী প্রাচীন ঐতিহ্য চারুশিল্প
ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২২ ইতিহাস ঐতিহ্য ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং প্রযুক্তির দাপটে চারু শিল্পের বিকল্প হিসাবে নিত্য-নতুন প্লাস্টিক সামগ্রী বাজারজাত করণে হারিয়ে যেতে বসেছে বেত ও বাাঁশের তৈরী চারুশিল্প। তাই যশোরের কেশবপুরে প্রসিদ্ধ বাঁশ শিল্পীরা তাদের ভাগ্যের উন্নয়ের জন্য বাপদাদার রেখে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী পেশা ছেড়ে বেছে নিচ্ছে অন্য পেশা। আর এসব পেশায় তাদের উপযুক্ত দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ না থাকায় তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটাতে পারছে না।

ফলে তাদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। বাহারি ও মন কাড়া রকমারী প্লাস্টিক সামগ্রী বাজার দখল করার কারণে বেত ও বাঁশের তৈরী জিনিসের প্রতি মানুষ দিন দিন আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এক সময় কেশবপুরের বেত ও বাঁশ শিল্পের সুনাম দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে ছিলো। কিন্তু এই শিল্প আজ আধুনিক ও যান্ত্রিক যুগের সাথে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই দিনদিন চারুশিল্পের বিশ্বজোড়া খ্যাতি যশ ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে অলাভজনক শিল্পে পরিনত হয়ে যাচ্ছে।

যে কারণে চারুশিল্পীরা বাপদাদার রেখে যাওয়া পেশা ছেড়ে বেছে নিচ্ছে নতুন পেশা। যে পেশায় তারা একেবারে আনাড়ী। ফলে কেশবপুরের বেত ও বাঁশ শিল্পীরা এখন মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। উপজেলার সাগরদাঁড়ী, কোমরপোল, ভেরচী, শেখপুরা, গোপসেনা, ধর্মপুর, বালিয়াডাঙ্গা, দেউলি, শ্রীরামপুরও খতিয়াখালি গ্রামের প্রায় এক হাজার পরিবার বেত ও বাঁশ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। যারা বাঁশ দিয়ে তৈরী চাটাই, কুলা,ঝুড়ি, ডালা, চালুন, খাঁচা, খারই, মোড়া, ডরি, ধামা, পেলেসহ বিভিন্ন ধরনের টুকরি-সাজিসহ হরেক রকম দ্রব্যসামগ্রী তৈরী করে স্থানীয় বাজার সহ সারা দেশের চাহিদা মিটাতো। কিন্তু বর্তমানে এ পেশায় সরকারি পৃষ্টপোষকতা না থাকা, বাঁশ ও বেতের যোগান না থাকা এবং প্লাস্টিক সামগ্রীর দাপটে চারু শিল্পের চাহিদা প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

এ পেশার সাঙ্গে জড়িত মান্দার দাশ, সুকুমার দাশ, দুলাল দাশ, স্বপন দাশ ও বিপুল দাশ বলেন, প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহ ও সরকারী পৃষ্টপোষকতা না থাকায় এবং বাজারে বাহারী প্লাষ্টিক সামগ্রীর দাপটে চারুশিল্পের ভগ্ন দশা। তারা আরো বলেন আমাদের খবর কেউ রাখেনা। শ্রীরামপুরের পাচু দাশ বলেন আমাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চার জনের সংসার আমার কখনো কখনো এক বেলা না খেয়ে থাকতে হচ্ছে, অথচ আমাদের খবর কেউ রাখেনা। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, বেত ও বাাঁশের তৈরী চারুশিল্প আমাদের দেশের প্রাচীন ঐতিহ্য এই শিল্পকে রক্ষা করতে সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত সংগঠন সহযোগিতা চাইলে তাদেরকে সহযোগিতা করা যেতে পারে।