প্রাকৃতিক দুর্যোগে পঞ্চম ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র বাংলাদেশ


363 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
প্রাকৃতিক দুর্যোগে পঞ্চম ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র বাংলাদেশ
আগস্ট ২৭, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক :
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিশ্ব ঝুঁকি সূচকে (ওয়ার্ল্ড রিস্ক ইনডেক্স) এ তথ্য জানা গেছে। এতে বিশ্বের ১৭১টি দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সামাজিক ঝুঁকি প্রবণতার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান সিকিউরিটি (ইউএনইউ-ইএইচএস) এবং বান্দনিস এনটুইকলাং হিলফট বৃহস্পতিবার ওয়ার্ল্ড রিস্ক রিপোর্ট-২০১৬ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ঝুঁকি সূচক এরই একটি অংশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে ঘূর্ণিঝড়, খরা, ভূমিকম্প, বন্যা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি।

সূচক অনুযায়ী প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর শীর্ষে রয়েছে দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতু। এর পরের দেশগুলো হচ্ছে টঙ্গো, ফিলিপাইন, গুয়াতেমালা ও বাংলাদেশ। সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো হচ্ছে কাতার, মাল্টা, সৌদি আরব, বার্বাডোজ ও গ্রানাডা। বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারত ৭৭ এবং পাকিস্তানের অবস্থান ৭২তম। ঝুঁকিপূর্ণ শীর্ষ ১৫টি দেশের ১০টিই হচ্ছে আফ্রিকা মহাদেশের। ২০১১ সাল থেকে বিশ্ব ঝুঁকি সূচক প্রকাশিত হচ্ছে। তখন থেকেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ‘হট স্পট’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য আমেরিকা ও আফ্রিকার দক্ষিণের সাহেল অঞ্চল। চলতি সূচকে এ অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতি ও জরুরি উপকরণের দুর্বল ব্যবস্থাপনা প্রাকৃতিক যেকোনো দুর্যোগকে বিপর্যয়ে পরিণত করার ঝুঁকিকে বাড়িয়ে তোলে। এর ব্যাখ্যায় বলা হয়, কোনো দুর্যোগে যখন ত্রাণ সহায়তার প্রয়োজন হয়, তখন লজিস্টিক চেইনের শেষ পর্যায়ে গিয়েই আসল চ্যালেঞ্জটি দেখা যায়। যেমন_ রাস্তাঘাট ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা; খাদ্য বা আশ্রয়ের প্রয়োজন এমন মানুষদের মধ্যে যথাযথ বণ্টন নিশ্চিত করা ইত্যাদি। এতে আরও বলা হয়, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, বিদ্যুৎ বিপর্যয়, ভবন ধসই শুধু মানবিক ত্রাণ সহায়তায় বিঘ্ন সৃষ্টি করে না বরং এসব ত্রাণ সরবরাহে বিলম্ব বিপর্যয়কে আরও প্রলম্বিত করে তোলে। এ বিষয়ে প্রতিবেদনের বৈজ্ঞানিক পরিচালক এবং ইউএনইউ-ইএইচএসের প্রধান বিজ্ঞানী ম্যাথিয়াস গারশ্যাজেন বলেন, ‘দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই অবকাঠামো স্থাপন ও উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, জনগণের নিজেদের রক্ষার সক্ষমতা যখন গুঁড়িয়ে যায় তখনই কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিপর্যয়ে রূপ নেয়। দুর্বল অর্থনীতি ও সামাজিক অবস্থার দেশগুলোতে এ ঘটনা বেশি দেখা যায়।

প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়ার উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, দেশটি খরা, ভূমিকম্প ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো ঝুঁকির মধ্যে থাকা সত্ত্বেও ঝুঁকি সূচকে ১২১তম অবস্থানে রয়েছে। কারণ যথেষ্ট বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশটি এসব ঝুঁকি প্রশমনে সফল হয়েছে। জাপানকে (১৭তম) প্রতিনিয়ত ভূমিকম্প ও বন্যার মতো দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হলেও উন্নত ব্যবস্থাপনার কারণে দেশটি কম ঝুঁকিপূর্ণ। আর কম দুর্যোগপ্রবণ হয়েও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় ওপরের দিকে রয়েছে লাইবেরিয়া (৫৬তম), জাম্বিয়া (৬৬তম) ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র (৭১তম)।