প্রাণভিক্ষা চাইলেন মুফতি হান্নান


379 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
প্রাণভিক্ষা চাইলেন মুফতি হান্নান
মার্চ ২২, ২০১৭ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত মুফতি আব্দুল হান্নান ও শরীফ শাহেদুল বিপুল।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেল সুপার মিজানুর রহমান তাদের রায়ের কপি পড়ে শোনান। এসময় তারা জানান, প্রাণ ভিক্ষার জন্য সময় চেয়ে তারা আবেদন করবেন।

জেল সুপার মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানের ফাঁসির রায়ের রিভিউ খারিজের রায়ের অনুলিপি কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছায়। বুধবার তা দুই আসামিকে পড়ে শোনানো হলো। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল বিপুল কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তৃতীয় আসামি দেলোয়ার হোসেন রিপন সিলেট জেলা কারাগারে রয়েছে।

সিলেটে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী হত্যাচেষ্টা মামলায় ১৯ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মুফতি হান্নানসহ তিনজনের করা পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করেন। তাদের দণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে আর আইনত কোনো বাধা নেই। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো রিভিউ খারিজের রায়ের অনুলিপি বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছে। এ ছাড়া বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সিলেট বিচারিক আদালতসহ সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে রায়ের অনুলিপি পাঠানো হয়।

এর আগে গত ৭ ডিসেম্বর আসামিদের আবেদন খারিজ করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন সর্বোচ্চ আদালত।

এই মামলায় পাঁচ আসামি কারাগারে রয়েছে। গোপালগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা ও ভয়াবহ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলারও অন্যতম আসামি মুফতি হান্নান।

২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে সেখানেই পুলিশের এএসআই কামাল উদ্দিন নিহত হন। এ ছাড়া পুলিশ কনস্টেবল রুবেল আহমেদ ও হাবিল মিয়া নামের আরও দুই ব্যক্তি মারা যান হাসপাতালে।

আনোয়ার চৌধুরী ও সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ কমপক্ষে ৪০ জন ওই ঘটনায় আহত হন। পুলিশ ওই দিনই সিলেট কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করে। তদন্তের পর ২০০৭ সালের ৭ জুন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান, তার ভাই মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার ওরফে রিপনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সামীম মোহাম্মদ আফজাল আসামি মুফতি হান্নান, বিপুল ও রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদ অনুমোদনের আবেদন) শুনানি শেষে গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বেঞ্চ মুফতি হান্নানসহ তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং দু’জনের যাবজ্জীবন দণ্ড বহাল থাকে।