প্রাথমিক শিক্ষায় উপস্থিতির হার বাড়াতে শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীর পরিবার পরিদর্শন


1238 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
প্রাথমিক শিক্ষায় উপস্থিতির হার বাড়াতে শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীর পরিবার পরিদর্শন
সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ দেবহাটা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

মোঃ হাফিজ-আল আসাদ ::
প্রাথমিক শিক্ষা সকল শিক্ষার মূল ভিত্তি। সারা দেশে প্রায় ২কোটি শিক্ষার্থী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে। এই বিপুল পরিমান শিক্ষার্থীর মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্য নির্ভর করে বহুবিধ উপাদানের উপর। তার মধ্যে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর নিয়মিত উপস্থিতি অন্যতম। শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের পাঠদানকালে উপস্থিত থেকে পাঠদানে অংশগ্রহণ না করলে তার পাঠ উন্নতি অসম্ভব। বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি শিক্ষাগ্রহণে ও প্রদানে অত্যাবশকীয় হওয়ার পরও অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে।
বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার রয়েছে নানাবিধ কারণ। তার মধ্যে নিম্নোক্তগুলো প্রধান : ১। বিদ্যালয়ে নিরানন্দকর পাঠদান। ২। বিদ্যালয়ের পরিবেশ শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা অনুযায়ী নয় এবং শিশুবান্ধব না হওয়া। ৩। শিশুর শারীরিক অসুস্থতা। ৪। মা-বাবার অসচেতনতা।
৫। যাতায়াত ব্যবস্থার অসুবিধা (স্কুল সংযোগ সড়ক না থাকা, খালের উপর পুল না থাকা, রাস্তা ভাঙ্গা ও কর্দমাক্ত হওয়া)
৬। সহপাঠীদের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে না পারা।
৭। শিক্ষা উপকরণ : বই, খাতা, পেন্সিল, রাবার, পেন্সিল কাটার ইত্যাদির অভাব।
৮। শিশুর পোশাক-পরিচ্ছদের অভাব।
৯। শিশুর বিদ্যালয়-এর নির্ধারিত পোশাক এবং বই পরিবহনে ব্যাগের ঘাটতি।
১০। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষুধার সময় খাদ্য ঘাটতি।
১১। মৌসুমী ফসলাদির কাজে পরিবারের সহযোগিতার জন্যে বাড়িতে থাকা।
১২। দারিদ্র্যতার কারণে বাড়িতে বাবা-মাকে কাজে সহযোগিতা করা।
উপরোক্ত অসুবিধাগুলো দূরীকরণের মাধ্যমে শিশুকে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আনা, ধরে রাখা, তার প্রাথমিক শিক্ষা চক্র (প্রাক-প্রাথমিক-পঞ্চম শ্রেণি) সমাপ্ত করার লক্ষ্যে বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের ঐ সব অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত করানো শিক্ষকদের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ । আর এই চ্যালেঞ্জিং কাজটি সানন্দে করে চলেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে সকল শিক্ষার্থীর এক নাগাড়ে ৩ (তিন) দিনের অধিক বিদ্যালয়ে আসে না, তার বাড়িতে গিয়ে মা-বাবাকে, ছেলে মেয়ের অনুপস্থিতি, অনুপস্থিতির কুফল ইত্যাদি সম্পর্কে অবহিত করে বিদ্যালয়ে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। দুর্বল শিক্ষার্থীদের পাঠ উন্নতির জন্যে ঐসব অভিভাবকদের সাথে কথা বলতে হবে। শিক্ষক কর্তৃক হোম ভিজিটের-এর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, স্কুল শুরুর আগে ও স্কুল ছুটির পরে। হোম ভিজিটের-জন্য রয়েছে নির্ধারিত ফরম। উক্ত ফরম পূরণ পূর্বক শিক্ষক হোম ভিজিটের কাজ সম্পন্ন করবেন। মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শনের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বলা চলে যে, হোম ভিজিটের-অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাগজ কলমে সীমাবদ্ধ। এক্ষেত্রে আমাদের অনেকেরই আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে। বাম হাতে হোম ভিজিটের-ফরমে অভিভাবকদের স্বাক্ষর করা, ব্যবসায়ী পিতার-দোকানে গিয়ে হোম ভিজিটের-ফরমে অভিভাবকের স্বাক্ষর করানো, স্কুলে বসেই হোম ভিজিটের-ফরম পূরণ থেকে বিরত থেকে বাস্তবে বাড়িতে গিয়ে হোম ভিজিটের-করতে পারলে প্রকৃত উদ্দেশ্য সাধন সম্ভব। এক্ষেত্রে মাসে ১ জন শিক্ষক ১টি বাড়ি হোম ভিজিটর করবেন। হোম ভিজিটের জন্য অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের বাড়ির আশে-পাশের কোনো শিক্ষার্থীকে নিয়ে শিক্ষক হোম ভিজিট করতে পারেন। প্রয়োজনে শিক্ষক অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর বাড়িতে যাওয়ার কথা ১/২ দিন আগে ও অভিভাবকদের জানাতে পারেন। যাতে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর অভিভাবক ঐ সময় বাড়িতে থাকেন। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে সকল শিক্ষক একই সাথে হোম ভিজিটট না যান। এক এক শিক্ষক এক এক দিন এক এক সময় প্রধান শিক্ষকের সাথে আলাপ করে হোম ভিজিট করতে পারেন। অন্যদিকে যে সব শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে তাদের অভিভাবকদের বাড়ী পরিদর্শন করে সে সকল শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার অগ্রগতি সম্পর্কে অভিভাবকগণের সাথে মত বিনিময় করার নির্দেশনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি হার প্রায় শতভাগ নিশ্চিত হচ্ছে বলে আমাদের বিশ^াস। আর এর সুফলগুলো ইতিমধ্যে আমরা পেতে শুরু করেছি।

লেখক : মোঃ হাফিজ-আল আসাদ,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবহাটা, সাতক্ষীরা।