প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়া রোধে ডিজিটাল হাজিরার গুরুত্ব


592 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়া রোধে ডিজিটাল হাজিরার গুরুত্ব
সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮ দেবহাটা ফটো গ্যালারি শিক্ষা
Print Friendly, PDF & Email

॥ মোঃ হাফিজ-আল আসাদ ॥
সাতক্ষীরা জেলার প্রথম শতভাগ ডিজিটাল হাজিরার আওতায় এসেছে দেবহাটা উপজেলা। বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে প্রাথমিকস্তর থেকে ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহারের সাথে সাথে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। আর এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। যার ধারাবাহিকতায় শ্রেণি কক্ষে মাল্টিমিডিয়ায় ক্লাস নেওয়ার পাশাাশি নতুন যোগ হচ্ছে ডিজিটাল হাজিরার ব্যবস্থা। যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হাজিরা নিশ্চিতকরনের পাশাপাশি উপস্থিতির সংখ্যা বাড়াতে সাহায্যে করছে। সেই সাথে ঝরে পড়া শিশুর সংখ্যা কমিয়ে উপস্থিতির সংখ্যা বাড়াচ্ছে। পাঠদান ও সহজ পদ্ধতিতে শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে মাল্টিমিডিয়ায় ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি এখন মোবাইল ব্যাংক শিওর ক্যাশের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এতে অভিভাবকদের ভোগান্তি কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়তি সময় কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এমনকি বছরের প্রথম দিন শিশুদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে সক্ষম হয়েছে বর্তমান সরকার। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিতি শতভাগ হওয়া এবং তারই ধারাবাহিকতায় দেবহাটা ঝরে পড়া রোধে গত ২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর সোমবার সাবেক সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে দেবহাটা উপজেলায় ২৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন উদ্বোধন করেন এবং ৬০ প্রাথমিক বিদ্যলয়ে ১৯ ইঞ্চি মনিটর ও ১৬জিবি পেনড্রাইভ বিতরন করেন। ডিজিটাল হাজিরার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রথমে ডিজিটাল হাজিরা দিতে তারা ভয় পেলেও বর্তমানে নিজেরা হাজিরা দিতে পারে। এতে তাদের ভিতর অনেক আনন্দ ও উৎসাহ কাজ করে। এমনকি সকাল হলে ডিজিটাল হাজিরা প্রদানের আনন্দে সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে আসে। তাদের ভিতর নতুন শক্তি ও সাহস সঞ্চয় হয়েছে। ডিজিটাল হাজিরা মেশিনের বদৌলতে শিক্ষকদের পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীরা সময়মত বিদ্যালয়ে আসে। কেননা জিডিটাল হাজিরায় কোন লুকোচুরি করার সুযোগ নেই। এতে করে অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের সময়মত বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। তাতে বেড়েছে উপস্থিতির সংখ্যা। বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি হাজিরা মেশিন হওয়ায় শিশুদের মধ্যে প্রতিযোগীতা চলতে থাকে। শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিশুদের দৈনিক হাজিরা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সময় উপযোগী পদক্ষেপ এই ডিজিটাল হাজিরা। সাতক্ষীরার প্রথম দেবহাটা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে সুশৃংঙ্খলভাবে শতভাগ ডিজিটাল হাজিরার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় আগামীতে শতভাগ হাজিরার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ^াস করি।

লেখক –
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
দেবহাটা, সাতক্ষীরা।