প্রয়োজনে থানায় গিয়ে ওসিগিরি করব : ডিএমপি কমিশনার


167 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
প্রয়োজনে থানায় গিয়ে ওসিগিরি করব : ডিএমপি কমিশনার
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

ডিএমপির নতুন কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কোনো থানায় যদি জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা ও ভালো আচরণ না পায়, তাহলে সিনিয়র অফিসারদের থানায় বসাবো। তারা থানায় বসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। থানাকে জনমুখী করতে প্রয়োজনে আমি নিজে থানায় বসে ওসিগিরি করবো।

রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর রোববার প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলনে করেন ডিএমপি কমিশনার।

তিনি বলেন, থানায় গিয়ে অপরাধের শিকার মানুষ যেন হয়রানি ছাড়া জিডি বা মামলা করতে পারে সেই ব্যবস্থা করব। থানা থেকে ফেরার পথে যেন মানুষের মধ্যে এ আস্থা জন্মায় যে, “আমি সম্পদ ও সম্মান ফিরে পাব”—এই একটা বিশ্বাস নিয়ে সে যেন ফেরত আসতে পারে। দায়িত্ব নেওয়ার পর ডিএমপির সব ওসিকে ডেকেছি। তাদের বলা হয়েছে, থানায় কোনো পুলিশ সদস্যের মাধ্যমে কেউ যদি অন্যায় আচরণের শিকার হন, তবে তাকে রক্ষার কোনো চেষ্টা ডিএমপি কমিশনার করবেন না। নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানি ও চাঁদাবাজির শিকার না হয়, সেই চেষ্টা করব।

ঢাকার ওসিরা বার বার ঢাকাতেই বদলি হন— এর কারণ কী, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, ‘মেট্রোপলিটন পুলিশে কাজ করার একটি আলাদা অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। মেট্রোপলিটন ও জেলায় কাজ করার পার্থক্য ব্যাপক। ওসিদের আচরণ যেন হয়রানিমূলক না হয়, তার জন্য নজরদারি রয়েছে। যদি তাদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ না থাকে, তাহলে ঢাকার এক থানার ওসি আরেক থানায় দিতে সমস্যা নেই।’

কমিশনার বলেন, ‘কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ থাকলে আমাদের জানাবেন, ব্যবস্থা নেবো। কোন অফিসার দিয়ে কোন কাজ হয় আমরা জানি, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাদের পোস্টিং দেওয়া হয়।’

রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সিনিয়র অফিসারদের মাঠে থাকতে হবে। অন্তত অফিস আওয়ার সকালে তিন ঘণ্টা ও বিকেলে তিন ঘণ্টা ট্রাফিকের ডিসি থেকে শুরু করে সবাইকে মাঠে থাকতে হবে। এসময় কেউ অফিসে থাকতে পারবেন না। এ নির্দেশনা ঠিকমত প্রতিপালিত না হলে রাস্তার বিভিন্ন পয়েন্ট নির্দিষ্ট করে আট ঘণ্টা করে সিনিয়র অফিসারদের দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে আমরা কঠোর থাকবো। জানিনা এভাবে কতটুকু পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে। তবে দৃশ্যমান একটা পরিস্থিতি উপস্থাপন করতে চাই।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সবকিছুই পুলিশের হাতে নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাস্তাজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে, নির্মাণ কাজ হচ্ছে, গাড়ি বাড়ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত রাস্তা নেই। চাইলেই আমরা সবকিছু পরিবর্তন করতে পারবো না। তবে যানজট মানুষের সহনীয় পর্যায়ে আনার চেষ্টা করবো। জেব্রা ক্রসিংয়ের সামনে গাড়ি থামানোর সংস্কৃতি চালু করতে অফিসারদের নির্দেশ দিয়েছি। আমরা আমাদের মত চেষ্টা করবো। মানুষকেও সচেতন হতে হবে।

রাজনৈতিকভাবে পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন ‘রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কখন কে কী করেছে বলুন, কখন কী করা হয়েছে বলুন? পুলিশ আইনের মধ্যে থেকেই কাজ করে।’

জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম বলেন, জঙ্গিবাদ এমন একটি মতবাদ, এর থেকে ফিরিয়ে আনা দুরূহ। মানুষকে বোঝানোর জন্য বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছি। নতুন জঙ্গি যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি আছে। যারা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে গেছে, তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের উপর আক্রমণের বিষয়ে আমরা কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছি এবং জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, মাদকের সাপ্লাই চেইন বন্ধে পুলিশ কাজ করছে। কিন্তু চাহিদা বন্ধ করা না গেলে পৃথিবীর কোথাও মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। আপনার সন্তান যেন মাদকে না জড়িয়ে যায়, সেজন্য আপনাকেই নজর রাখতে হবে। আপনার সন্তান মাদকে জড়িয়ে গেলে আমাদের সহযোগিতা নিন। আমরা তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবো। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স রয়েছে। পুলিশের কোনো সদস্য যদি মাদক সংশ্লিষ্টতায় কোনোভাবে অংশীদার হয়ে থাকে, তাহলে তাকে আমরা মাদক ব্যবসায়ীর মতই ট্রিট করবো। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় হেলমেটধারীদের হাতে সাংবাদিক নির্যাতন প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্য, তদন্ত রিপোর্ট দেখি আগে। অনেক পুরোনো বিষয়।