প্লাষ্টিক সামগ্রী ও জুতার ব্যবসা করে স্বাবলম্বী মর্জিনা


1765 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
প্লাষ্টিক সামগ্রী ও জুতার ব্যবসা করে স্বাবলম্বী মর্জিনা
মার্চ ৩০, ২০১৭ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

মাসুদুর রহমান মাসুদ, আশাশুনি::

বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম উপকূলবর্তী জেলা সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি উপজেলা আশাশুনি। অত্র উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের বড়দল গ্রামে বসবাস মর্জিনা খাতুনের। বয়স ৪৪ বছর। মাত্র ১২ বছর বয়সে তার বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী দরগাহপুর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে।

স্বামীর সংসারে ছিল চরম অভাব। এরই মধ্যে সংসারে আসে দুটি সন্তান । অভাব আর শ্বশুর বাড়ির নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ৩ বছর পর স্বামীসহ বাবার বাড়ীতে চলে আসে মর্জিনা। স্বামী কুলির কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ একদিন ঘাড়ে আঘাত লাগলে তার ঘাড় বেঁকে যায়। আর কাজ করতে পারে না সে।

সংসার চালানোর দায়িত্ব বর্তায় মর্জিনার উপর। অসুস্থ্য স্বামী আর ২ সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। স্বামী সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে অন্যের বাড়ীতে কাজ শুরু করে মর্জিনা।

সন্তানদের খাবার আর পড়ালেখার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে থাকে সে। হঠাৎ একদিন জানতে পারে বড়দল ইউনিয়নে স্বপ্ন প্রকল্পে বিধবা, তালাক প্রাপ্তা, স্বামী পঙ্গু এ রকম শর্তসাপেক্ষে লোক নিয়োগ করা হবে। সংবাদ শুনে মর্জিনা নির্দিষ্ট দিনে পরিষদে যায় এবং লাইনে দাঁড়ায়।

ভাগ্যক্রমে লটারীর মাধ্যমে তার চাকুরী হয়। প্রকল্পে কাজ পাওয়ার পর সে সরকারী সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে। প্রকল্পের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনেক কিছু জেনেছে সে। জেনেছে। কিভাবে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হয় । এই প্রকল্পে কাজ করে প্রতিদিন ২০০ টাকা করে পায়। তার মধ্যে ৫০ টাকা নিজের সঞ্চয় হিসাবে জমা করে।

এখন সে তিন বেলা খাবার খায়। ছেলেমেয়েদের নিয়মিত স্কুেল পাঠায়। পরিশ্রমী মর্জিনা জানায়, একসময় ৫০০০/- টাকা দিয়ে সে প্লাষ্টিক সামগ্রী ও জুতার ব্যবসা শুরু করে। প্রতিদিন বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ২০০ থেকে ৩০০/- টাকা আয় করে সে।

আয়ের টাকা থেকে সে সংসার খরচ ও ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খরচ নির্বাহ করে। বর্তমানে তার ব্যবসায় ১৪০০০/- টাকা পুঁজি আছে। এখন তার সংসার চালাতে সমস্যা হয় না। পরিবারের সবাই এখন ভাল পোশাক পরে। স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করে।

এই ব্যবসা তাকে অনেক দূরে এগিয়ে নিয়েছে। এই ব্যবসার মাধ্যমে সে স্বাবলম্বি হয়েছে। এই ব্যবসযাই এখন তার বেঁচে থাকার প্রেরণা বলে জানায় মর্জিনা। তাকে দেখে অনেকেই কাজে প্রেরণা পাচ্ছে বলে জানা গেছে।
##