ফরটিস এসকর্টস সেভেন টু সেভেনটীন : সুভাষ চৌধুরী


1207 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ফরটিস এসকর্টস সেভেন টু সেভেনটীন : সুভাষ চৌধুরী
মে ২, ২০১৭ ফটো গ্যালারি স্বাস্থ্য
Print Friendly, PDF & Email

ভয়ংকর এক ব্যাধির নাম হৃদরোগ। হৃদরোগের ছোবল থেকে রক্ষা পাওয়া আসলেই কঠিন। তবু চিকিৎসা শাস্ত্র হৃদরোগীদের রক্ষায় অনেক ব্যবস্থার  প্রবর্তন করেছে। হৃদরোগ তাই অনেকটাই চিকিৎসকদের হাতের মুঠোয়। কিন্তু হৃদরোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যে যেন তেন কাজ নয় এ কথা স্বীকার করতেই হবে।  তবু আমরা কখনও রক্ষা পাই আবার কখনও পাইনা।  সবকিছুই নির্ভর করে স্থান  কাল পাত্রের ওপর। এ নিয়ে আমার এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হয়েছে। ২০০৫ সালে আমি হৃদরোগে আক্রান্ত হই।  সে যাত্রা আমার দেহে বাই পাস সার্জারি করা হয়। ২০১১ সালে আমি ফের আক্রান্ত হই হৃদরোগে । এবার আমার দেহে বসানো হয় একটি রিং। ২০১৫ সালে আমি আক্রান্ত হই আরও একবার । এবার ওষুধপত্রেই আমি রক্ষা পাই। ২০১৭ সালের ৭ এপ্রিল আমি চতুর্থবারের মতো হৃদরোগের সবচেয়ে ভয়ংকর ছোবলের মুখে পড়ি। প্রথম তিনবার আমাকে ঢাকায় পাঠিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এসবের পরও আমাকে  চতুর্থ দফার ছোবল থেকে রক্ষা করার জন্য রাজধানী ঢাকায় নিয়ে যাবার কোনো সুযোগই ছিল না।
দেশের সর্বশেষ দক্ষিন পশ্চিম সীমান্তের মানুষ আমরা । সাতক্ষীরা শহর থেকে রাজধানী ঢাকার দুরত্ব চারশ’ কিলোমিটার। দেশে উন্নত চিকিৎসা বলতে কেবলমাত্র ঢাকাতেই ছিল তখন। সাতক্ষীরার মতো গ্রাম এলাকা থেকে ঢাকায় একজন হৃদরোগীকে কতো দ্রুত নেওয়া যায় সে অভিজ্ঞতা ভুক্তভোগীদের রয়েছে। এমনিতেই সাতক্ষীরা থেকে ঢাকা পৌঁছাতে  পরিবহন সময় নেয় আট ঘন্টা থেকে বারো ঘন্টা । কখনও কখনও তার বেশি সময়। কিছুদিন আগে হৃদরোগে আক্রান্ত এক নারীকে দুই লাখ টাকা ব্যয়ে সাতক্ষীরা থেকে হেলিকপ্টারে করে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হলেও উড়ন্ত কপ্টারে তার মৃত্যু ঘটে।  এমন অবস্থায় কোনো হৃদরোগীকে প্রাণে বাঁচানোর  সব চেষ্টা  অনেক সময় পথিমধ্যেই শেষ হয়ে যায় অনেক হতভাগ্যের। তবে বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে হৃদরোগীর  সফল চিকিৎসা হচ্ছে। দেশের  দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল বিশেষ করে খুলনা এর ব্যতিক্রম নয়। এখানেও চিকিৎসকরা জীবন রক্ষা কবচ দিচ্ছেন।  এ অবস্থা অনেকটাই  আশাব্যঞ্জক। এতে প্রকৃতপক্ষে আমরা রোগীরা বাঁচার জন্য আশাবাদী হয়ে উঠি।  আগেই বলেছি আমি একজন হৃদরোগী।   এ প্রসঙ্গে আমার নিজের অভিজ্ঞতা একটু ভাগাভাগি করে নিতে  চাই। ৭ এপ্রিল বিকালে হৃদরোগের ছোবলে পড়তেই আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় সাতক্ষীরার হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কাজী আরিফ আহমেদ এর কাছে।  শুনেছি  প্রায় ৪০ মিনিট যাবত আমার ডাক্তারি ভাষায় নন লাইফ সিচুয়েশন ছিল। আমরা যাকে বলি নির্জীব, অসাড়। ডা. আরিফ ও ডা. সঞ্জয় সরকার আমাকে বাঁচাতে সাধ্যমত চেষ্টা করেও অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েন।  ওই মূহুর্তে ডা. আরিফের  পরামর্শে আমাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় নিতে না পারায় নিয়ে যাওয়া হয় খুলনায়। খুলনার ফরটিস এসকর্টস হাসপাতালে ভর্তি করে সেখানেই দেওয়া হয় জরুরি চিকিৎসা। চিকিৎসাদানকারী সেখানকার ডা. মামুন ইকবাল, ডা. কাজী আনিসুজ্জামানসহ অন্যান্য ডাক্তার ,  আমার স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের কাছে যে বর্ননা  শুনেছি তাও অত্যন্ত ভয়ংকর । সবাই তখন প্রায় নিশ্চিতভাবে ধরেই নিয়েছিলেন  আমার না ফেরার বিষয়।  ফরটিসের  এসব ডাক্তাররা  আমাকে দেহে প্রথমে অস্থায়ী ও পরে স্থায়ী পেস মেকার বসিয়ে আমাকে সুস্থ করে তোলেন। আমি এ যাত্রা প্রাণে রক্ষা পাই। আমি নিজের এই অভিজ্ঞতা সবার সামনে তুলে ধরতে আগ্রহী এ কারণে যে এক সময় ঢাকায় ছাড়া উন্নত চিকিৎসা পাবার সুযোগ বাংলাদেশে আর কোথাও ছিল না। অথচ এখন তার ব্যতিক্রম ঘটছে। দক্ষিনের এই খুলনাতেও যে হৃদরোগ থেকে জীবন রক্ষা সম্ভব তা প্রমান করেছে ফরটিস এসকর্টস। সেখানে চিকিৎসা ব্যস্থা যে অতি উন্নত তা স্বীকার করতেই হবে। আমার চিকিৎসাগ্রহনকালে শুভকাংখী হিসাবে আমাকে দেখতে যাওয়া খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ,  খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান, সাংবাদিক নেতা শেখ আবু হাসান, একে হিরু, আবু তৈয়ব, এসএম হাবীব, মোস্তফা কামালসহ অনেক সুধীজন  হাসপাতালটির চিকিৎসার তারিফ করেছেন। বিষয়টি সবার গোচরে আনা দরকার এজন্য যে দুই লাখ টাকা ব্যয়ে হেলিকপ্টারে রোগীকে ঢাকায় নিতে যে সময়টুকু লাগে তার মধ্যে হৃদরোগীকে খুলনায় নিতে পারলে অন্ততঃ বেঁচে থাকার প্রাথমিক ধকলটি সামলানো সম্ভব। দিল্লীর বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরিচালিত  ফরটিস এসকর্টস তাই  জীবন রক্ষা কবচ হিসাবে কাজ করতে পারে এ বিশ্বাস আমার হয়েছে।
নানাভাবে অবহেলিত এই খুলনায় অনেক সংকট রয়েছে। যে সংকট থেকে উত্তনের প্রচেষ্টাও রয়েছে সরকার ও সর্বমহলের। পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন ও খুলনায় বিমান বন্দর প্রতিষ্ঠা দক্ষিনের চলমান সংকটে নতুন আলো যেমন দেখাতে পারবে তেমনি  সংকটের মধ্যেও হৃদরোগের কবল থেকে খুলনা যে আমাদের রক্ষা করছে এটা কম পাওয়া নয়। এজন্য দশ দিনের চিকিৎসা ফরটিস আমাকে নতুন জীবনের আলো দেখাতে পারায় শুধুই কৃতজ্ঞতা আমার ও আমার স্বজনদের পক্ষ থেকে। আর দক্ষিনের মানুষ এ অভিজ্ঞতার শরিক হবেন এ প্রত্যাশা আমার।

লেখক :
সুভাষ চৌধুরী , সাতক্ষীরা ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্ট , দৈনিক যুগান্তর ও এনটিভি। ই মেইল chowdhury.ntv@gmail.com