ফরিদপুরের চম্পা হত্যা মামলায় ৪ জনের প্রাণদণ্ড


303 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ফরিদপুরের চম্পা হত্যা মামলায় ৪ জনের প্রাণদণ্ড
নভেম্বর ১৭, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডেস্ক :
ফরিদপুরে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা চম্পাকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে চারজনের ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুর রহমান সরদার তিন বছর আগের আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- শামীম মণ্ডল (২৪),  বাবুল হোসেন ওরফে রাজিব হোসেন ওরফে বাবু হোসেন মাতুব্বর (২২), জাহিদুল হাসান ওরফে জাহিদ সর্দার (২৪) ও আকাশ মণ্ডল (২৪)।

হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা; অনাদায়ে আরও তিন বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মৌসুমী নামের এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে আকাশ ও বাবুল হোসেন পলাতক। বাকিরা রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, “দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি ঠাণ্ডা মাথায় ভিকটিম চম্পাকে ধর্ষণ এবং পরে খুবই নির্মম-নির্দয়, নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ মেহগনি গাছে ঝুলিয়ে রাখে। এ ধরনের মামলায় আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে এ জাতীয় অভিশাপ থেকে সমাজ ও জাতিকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয়।”

এ ঘটনায় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি থেকে শুরু করে মামলার বিভিন্ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কথাও উল্লেখ করেন বিচারক।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

চম্পা ফরিদপুর সদর উপজেলার কাশিমাবাদ গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়ার মেয়ে এবং পুরদিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। ২০১২ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাতে নিজ বাড়ির পাশে সোহরাব শেখের মেহগনি বাগান থেকে চম্পার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, আসামি শামীম ‘প্রেমের প্রস্তাবে ব্যর্থ হয়ে’ চম্পাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করত। ২০১২ সালের ১৩ ডিসেম্বর চম্পার চাচাতো বোন পপির গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের সময় আসামিরা শামীমের ভাগ্নে বাবু ও পারভীনের মাধ্যমে চম্পাকে বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে ডেকে নেয়।

রাত ৯টার পরেও চম্পা গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে ফিরে না আসায় তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। ওই বাগানে পাওয়া যায় তার ঝুলন্ত লাশ। সে সময় ২/৩টি মোটর সাইকেলে শামীমসহ অন্যদের ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।

এ ঘটনার পরে ১৫ ডিসেম্বর চম্পার ভাই হাসিবুল ইসলাম বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে ফরিদপুর কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। ২০১৩ সালের ২০ মে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহ আলম।

আলোচিত এ মামলাটি ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর ফরিদপুর থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে স্থানান্তর করা হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, “মামলা হওয়ার পর থেকেই অদৃশ্য এক শক্তি তদন্ত সহ অন্যান্য জায়গায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে, যাতে অভিযোগ প্রমাণ করা না যায়। মামলার বিচারের সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরাও তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেননি। বেশ কতগুলো আলামত বিচারকালে আদালতে উপস্থাপন করেননি।

“সুরতহাল প্রতিবেদনে পুলিশ এবং ময়নাতদন্তে ফরিদপুরের চিকিৎসকরা ধর্ষণ ও হত্যার আলামত দেখতে পাননি বলে মত দিয়েছেন। কিন্তু ভিসেরা প্রতিবেদনে ও রাসায়নিক প্রতিবেদনে ধর্ষণসহ হত্যার বিষয়টি উঠে এসেছে। ”

ধর্ষণের পর চম্পা ঘটনাটি সবাইকে বলে দেওয়ার হুমকি দিলে আসামিরা তাকে কাপড়ের গিঁট দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে বলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে স্বীকার করেছিলেন আসামি বাবুল হোসেন। এ বিষয়টিও বিচারক রায়ের সময় উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন ট্রাইবুনালের বিশেষ কৌঁসুলি মাহফুজুর রহমান লিখন; আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী দুলাল মিত্র, শরীফুল ইসলাম, আহছানউল্লাহ।

মামলার বিচারকালে রাষ্ট্রপক্ষে ৩২ জনের মধ্যে ৩০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।