ফাঁসির আগে যা যা করেছিলেন মেমন


483 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ফাঁসির আগে যা যা করেছিলেন মেমন
আগস্ট ২, ২০১৫ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বিদেশ ডেস্ক।।
ভারতে গত বৃহস্পতিবার ভোরে ফাঁসি হয় ইয়াকুব মেমনের। ১৯৯৩ সালে মুম্বাইয়ে বোমা বিস্ফোরণের মামলায় তাকে এই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তার আইনজীবী বলেন, ‘ভাইয়ের দোষে সাজা হলো মেমনের’। ভারতের বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এই ফাঁসির বিরোধিতা করেছিলেন। তবে দেশটির আদালত বৃহস্পতিবার ভোরেই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন মেমন।

কারাগার সূত্র জানায়, বুধবার রাত দুইটার দিকে ঘুমিয়ে পড়েন মেমন। সেসময় কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি তিনবারের চেষ্টায় তার ঘুম ভাঙান। তখন রাত দুইটা। তাকে গরম পানির একটি বালতি দেওয়া হয় যাতে গোলাপজল মেশানো ছিল। গোসল করতে করতে মেমন সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করেন।

এরপর চিকিৎসক তার শরীর পরীক্ষা করেন। সেসময়ও রক্তচাপ স্বাভাবিক ছিল মেমনের। এরপর তিন সেপাই এবং একজন সিনিয়র জেলার তাকে ফাঁসি কাষ্ঠের দিকে নিয়ে যান। তখন মেমন বলন, ‘আমি নিরাপরাধ, এটা অবিচার।’ যখন নিয়মানুযায়ী একজন ধর্মীয় ব্যক্তি তাকে নিজের দোষ স্বীকার করতে বলেন, তখনও মেমন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

মেমন কোরআনের বিভিন্ন আয়াত পড়তে শুরু করেন। যার অর্থ করলে দাঁড়ায়, তিনিই তোমাকে জীবন দিয়েছেন, তিনিই পারেন তোমার জীবন কেড়ে নিতে,  তিনিই তোমার বিচারক।

হাঁটতে হাঁটতে তিনি আরও বলেন, কোনও জীবন কেড়ে নেওয়া যায় না আল্লাহর অনুমতি ছাড়া। তার আদালতেই সঠিক বিচার হবে যা ‘সর্বোচ্চ আদালত’।

কালো কাপড়ে যখন তার মুখ ঢেকে দিতে চাওয়া হয় তখন মেমন বলেন তিনি সূর্যোদয় দেখবেন। তবে জেলের নিয়মানুযায়ী সূর্য ওঠার আগেই ফাঁসি কার্যকর করতে হয়। এরপর তার মুখ কালো কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়। তখনও মেমন উচ্চস্বরে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত পড়তে থাকেন।

ফাঁসির দড়ি গলায় থাকা অবস্থায় যখন তার পায়ের নিচের পাটাতন সরে যাচ্ছিল তখনও মেমন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং সুরা পড়তে থাকেন।

এর আগে বুধবার কারাকর্তৃপক্ষ একখণ্ড সাদা কাগজ দেয় ইয়াকুব মেমনকে। তাতে জীবনের শেষ ইচ্ছার কথা লিখে দিতে বলা হয়। ইয়াকুব তাতে নিজের সম্পত্তির বণ্টননামা লেখেন। নিজের মোট সম্পত্তি সমান তিনভাগ করে তার একটি স্ত্রী রাহিন, কন্যা জুবাইদা এবং তৃতীয় ভাগ ভাই সুলেমানের নামে লিখে দেন। এসময় ইয়াকুব মেমনের কাছে থাকা সাড়ে ছয় হাজার রূপি কারা কর্তৃপক্ষ তার পরিবারকে বুঝিয়ে দেন।

কারাগারের একটি সূত্র জানায়, সোম এবং মঙ্গলবার রাতে ঘুমাতে চাননি মেমন। তাকে ঘুমাতে বললেও তিনি তা নাকচ করেন। বলেন, যে এরপর আর ঘুম থেকে জাগবে না যে তার এখন ঘুমানোর কী দরকার?

এই দুইদিন কয়েক ব্যক্তি খাবার নিয়ে আসলে তিনি তা খেয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। ‘আল্লাহ যেন তাদের সহায় হন’ প্রত্যেককে এই দোয়া করেন তিনি।

এর আগে নিজের মেয়েকে ‘শুভ জন্মদিন; জানান টেলিফোনে। তিনি আর কখনও তার জন্য সুখস্মৃতি বয়ে আনবেন না বলেও মেয়েকে জানান মেমন।

সূত্র; এনডিটিভি।