ফের বাজারে উঠেছে রুপালী ইলিশ


658 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ফের বাজারে উঠেছে রুপালী ইলিশ
নভেম্বর ৩, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক :
ইলিশের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে গতকাল বুধবার রাত থেকে ইলিশ ধরতে উপকূলীয় এলাকাসহ নদ-নদীতে নেমে পড়েছেন জেলেরা। আবারও সরগরম হয়ে উঠেছে ইলিশের আড়তগুলো। নদী-সাগরে ভাসছে ইলিশ ধরা নৌকা-ট্রলার। এরইমধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে নদী থেকে বিভিন্ন মাছের আড়তে ইলিশ নিয়ে পৌঁছেছেন জেলেরা। আজ থেকেই আবারো বাজারে মিলছে মন ভোলানো স্বাদের ইলিশ।

এদিকে ইলিশ ধরা শুরু হলেও বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহের জন্য কয়েকটা দিন আরও অপেক্ষা করতে হবে। আড়তদাররা বলছেন, নদীর মাছগুলো বৃহস্পতিবারই বাজারে চলে এসেছে। তবে বেশিরভাগ মাছই আসে সাগর থেকে। আর সাগরের ট্রলার ফিরতে কয়েকটা দিন লেগে যাবে।

ইলিশ প্রজনননের জন্য ২২ দিন মাছ ধরা, বিক্রি ও মজুদ নিষিদ্ধ ছিল। গত বছর প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরার ওপর কড়াকড়ি আরোপের কারণে এ বছর বাংলাদেশের সকল শ্রেণির মানুষ সাধ্যের মধ্যে ইলিশ খেতে পেরেছে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ ছিল রুপালি ইলিশের। চলতি বছর কিছু অসাধু জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলেও অধিকাংশ জেলে ইলিশ রক্ষায় সরকারের আহ্বাবানে সাড়া দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী জেলেদের জেল-জরিমানাও করা হয়েছে। জেলেরা অপেক্ষায় ছিল ২ নভেম্বরের। গত মধ্যরাতেই তারা নেমে পড়েন ইলিশ ধরায়।

গতকাল বুধবার দুপুরে বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলার রাজৈর এলাকার বরফ কলের ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক ট্রলার জড়ো হয়েছে পাঁচটি বরফ কলঘাটে। শ্রমিকরা ট্রলারগুলোতে বরফ ভরছেন। জেলেরা জাল তুলছেন ট্রলারে। দীর্ঘ অবসর সময় কাটানোর পর সাগরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মাঝিমাল্লারাও যথাসময়ে হাজির হয়েছেন। রাত ১২টার পরই তারা পানিতে ভাসিয়ে দেন নৌকা-ট্রলার।

জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির শরণখোলা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মজিবর তালুকদার জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সফলভাবেই ইলিশ অবরোধ শেষ হয়েছে। শরণখোলার কোনো জেলেই অবরোধের মধ্যে নদী-সাগরে জাল ফেলেনি। অবরোধের সময় তারা জাল-ট্রলার মেরামতে সময় পার করেছে। বলতে গেলে শতভাগ সফল হয়েছে ইলিশ অবরোধ।

এ বিষয়ে মৎস্য অধিদফতরের ইলিশের প্রকল্প পরিচালক এবিএম জাহিদ হাবিব বলেন, আশ্বিন মাসের চাঁদের ওপর নির্ভর করে প্রজনন মৌসুম। আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার আগে-পরের দিনগুলো ইলিশের ডিম ছাড়ার উপযুক্ত সময়। এ কারণে এবার কিছুটা সময় পিছিয়েছে। তাছাড়া নিষেধাজ্ঞার আগে ডিমসহ ধরা পড়লেও তখন অপরিপক্ব ছিল। তিনি বলেন, প্রজনন মৌসুমে কঠোরভাবে ইলিশ ধরা বন্ধ রাখা হয়েছে।