ফ্লয়েড হত্যা : পুলিশের শক্তি প্রয়োগ কমেছে কয়েকটি স্থানে


76 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ফ্লয়েড হত্যা : পুলিশের শক্তি প্রয়োগ কমেছে কয়েকটি স্থানে
জুন ৬, ২০২০ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

পুলিশের হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যার ঘটনায় টানা ১১ দিনের মতো স্থানীয় সময় শুক্রবারও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে পুলিশি নিপীড়ন, বৈষম্য ও বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। গত কয়েকদিনের মতোই এদিনের বিক্ষোভও ছিল শান্তিপূর্ণ। তবে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের শক্তি প্রয়োগের কিছু ক্ষেত্রে লাগাম টেনে দিয়েছে কয়েকটি স্থানীয় সরকার। বিক্ষোভের মধ্যেই পুলিশি নিপীড়নের কিছু ভিডিও সামনে আসার পর এমন পদক্ষেপের ঘোষণা আসে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভে স্বাস্থ্যকর্মীদের যোগ দিতে দেখা গেছে। নিউ অরল্যান্ডের মিসিসিপি নদীর তীরে বড় বিক্ষোভ হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ভাল্লেজোতে হাঁটু গেড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত এক তরুণের প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। চলমান বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ওই তরুণ নিহত হন।

বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে আটলান্টাতে। সাউথ ক্যারোলাইনার কলাম্বিয়ায় গভর্নরের বাড়ির সামনে বড় বিক্ষোভ হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিক্ষোভ করেছে আন্দোলনকারীরা। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে পুলিশের হাতে সংবাদিক নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশ একজনকে আটকও করেছে।

কয়েকটি শহরে কারফিউ বহাল থাকলেও পরিস্থিতি শান্ত হওয়ায় কিছু শহর থেকে তা তুলে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকেই মিনিয়াপোলিসে কারফিউ প্রত্যাহার করা হয়। এই শহরে গত ২৫ মে ৪৬ বছর বয়সী ফ্লয়েডকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, রাস্তার ওপর ফ্লয়েডকে ফেলে আট মিনিট ৪৬ সেকেন্ড তার ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে মাটিতে চেপে ধরে রেখেছেন এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ। এক পর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়েন ফ্লয়েড। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্বাস বন্ধ হয়ে ফ্লয়েড মারা গেছেন।

এই ঘটনার পর মিনিয়াপোলিসে শুরু হওয়া বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সেই বিক্ষোভে বেসামাল হয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সবগুলো শহর।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির গলা বা ঘাড় যাতে পুলিশ সদস্যরা লাঠি, হাত বা পা দিয়ে চেপে ধরতে না পারেন তা নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে মিনিয়াপোলিস কর্তৃপক্ষ।

সিয়াটলের মেয়র জেনি ডারকান বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের টিয়ার গ্যাস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। শুক্রবার থেকে এ নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে এবং তা এক মাস বহাল থাকবে।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গাভিন নিউসম রাজ্য পুলিশকে নতুন নির্দেশনা দিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, পেছন থেকে গিয়ে কারও গলা চেপে ধরতে পারবে না পুলিশ। এতে মস্তিস্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে মৃত্যু হতে পারে। একুশ শতকে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে দেওয়া যায় না।

এক ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভের সময় নিউইয়র্কের বাফেলোতে ৭৫ বছর বয়সী এক শ্বেতাঙ্গ বৃদ্ধকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। মাথায় মারাত্মক আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। এ ঘটনার পর ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। তবে এর প্রতিবাদে শুক্রবার বাফেলোর রায়ট পুলিশ দলের ৫৭ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন।