বঙ্গপোসাগরে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিনাঞ্চলের প্রায় এগারো হাজার জেলে


332 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বঙ্গপোসাগরে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিনাঞ্চলের প্রায় এগারো হাজার জেলে
অক্টোবর ৫, ২০১৬ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

শেখ আসাদুজ্জামান মুকুল :

হিন্দুদের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব সার্বজনীন শারদীয় দূর্গা পূজা। পূজা শেষ হওয়ার সাথে সাথে জীবন ও জীবিকার তাগিদে দক্ষিনাঞ্চলের প্রায় এগারো হাজার জেলেদেরকে মাছ ধরার জন্য পাড়ি জমাতে হবে বঙ্গপোসাগরে।

মূলত কার্তিক মাসের শুরু থেকে মাঘ মাসের শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি থেকে ফ্রেব্রুয়ারির মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে জেলেদের বঙ্গপোসাগরের উপকূলে মাছ ধরার মৌসুম। আর মাত্র দশ দিন পর কার্তিকমাস। মাঝখানে দূর্গা  পূজা। তাই পূজার আগেই সব কিছু গুছিয়ে রাখতে না পারলে সময় মত সাগরে যাওয়া যাবে না। কারণ পূজার সময় সকলে উৎসবে মেতে থাকবে, কাজ করা সম্ভব হবে না। সেই জন্যই জেলে পল্লীগুলো সকাল থেকে সন্ধা এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত জেলেদের কর্মব্যাস্ততায় মুখোর হয়ে উঠেছে। জেলেরা সাগরে উপকূল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে মাছ ধরতে যাবেন। সেখানে প্রয়োজনীয় আনেক কিছুই পাওয়া যায় না। তাই তারা মাছ ধরার জাল, নৌকা, নৌকার মেশিন সবকিছুকেই ঠিকঠাক মত সারিয়ে গুছিয়ে রাখছেন। এমন কি খাবার ও ঔষধ সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় সব কিছুই তারা গোছানোতে ব্যাস্ত রয়েছেন। জানা যায় খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা, দাকোপ, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, কয়রা সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি, শ্যামনগর, তালা, দেবহাটা, মুন্সীগঞ্জ, কালীগঞ্জ উপজেলা, বগেরহাট জেলার শরণখোলা, রামপাল, মোল্লাহাট, কচুয়া, চিতলমারি, মোংলা, ফকিরহাট উপজেলা এবং পিরোজপুর, বরগুনা, বরিশাল জেলাসহ সব মিলায়ে দক্ষিনাঞ্চলের প্রায় এগারো হাজার জেলে ২০১৬ সালে মৎস্য শিকার করা জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। খুলনা ও সাতক্ষীরার জেলেদের নলিয়ান ফরেষ্ট স্টেশন হয়ে সাগরে যাবার কথা থাকলেও বিভিন্ন সমস্যার কারণে এবার প্রায় ১০০ শত কিলোমিটার বেশি ঘুরে জেলেরা মংলা হয়ে  যাবেন অর্থাৎ সময় মত সাগরে মাছ ধরতে চাইলে এই দুই জেলার জেলেদের ৩-৪ দিন আগে রওনা দিতেই হবে। নইলে লোকসান হয়ে যাবে। তাই খুলনা ও সাতক্ষীরার জেলেরা ব্যাস্ত দিন পার করছেন। সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগ, খুলনা এর ডি.এফ.ও সাইদ আলীর বরাত দিয়ে জানা যায় যে, এবার জেলেরা যাতে নির্বিঘেœ সাগরে মাছ ধরতে পারে তার জন্য সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করেছে বন বিভাগ। তবে জেলেরা দাবী করেছেনে যে, কোন প্রকার অতিরিক্ত ফিস আদায় না করে, সরকারী নির্ধারিত ফিসে যেন তাদেকে পাশ দেওয়া হয় এবং বনদস্যু ও ডাকাতরা যেন তাদের সর্বস্ব লুট ও অপহরণ করতে না পারে সেই জন্য তারা বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী ও কোষ্টগার্ড এবং যথাযথ কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সব ঠিক থাকলে পূজার পরেই জীবনের ঝুকি নিয়ে জেলেরা বঙ্গপোসাগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন।