বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রচারনায় বাধাদানকারীদের আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিহত করা হবে


411 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রচারনায় বাধাদানকারীদের আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিহত করা হবে
সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আশরাফুল আলম ::
প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রচারণায় বাঁধাপ্রদানকারি সাবেক সচিব ড. মিহির কান্তি মজুমদারের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগার নের্তৃবৃন্দ জাতীয় প্রেসক্লাব ঢাকার ভিআই পি লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলন এবং প্রেসক্লাবের প্রধান ফটকে মানববন্ধনের আয়োজন করেন। বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও বঙ্গবন্ধু পাঠাগারের প্রতিষ্ঠা চেয়ারম্যান ডা: বাদশা মিয়া তার লিখিত বক্ত্যবে বলেন, আপনারা অবশ্যই অবগত আছেন যে, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বজ্রকঠিন ও সুমহান নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্যদিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। আপনারা এটাও অবগত আছেন যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অক্লান্ত পরিশ্রম করে ও সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে আজ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দেশের স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি বিভিন্নভাবে সরকারের এ অর্জন ও উন্নয়নকে নস্যাৎ করার ষঢ়যন্ত্রে লিপ্ত যার সাথে সরকারের সুবিধাভোগী অনেক কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদও জড়িত। তেমনই একজন ব্যক্তি হচ্ছেন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিহির কান্তি মজুমদার যিনি সরকারী চেয়ারে বসে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের চাবিকাঠি দারিদ্র্যবিমোচনকে নস্যাৎ করতে ষড়যন্ত্র করছেন। একইসাথে ড. মিহির কান্তি মজুমদার, সরকারী চেয়ারে বসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অবদান, মহান কীর্তি, আদর্শ, দশর্ণ ও নাম-নিশানা মুছে দেবার মানষে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও স্মৃতি পাঠাগারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। মজুমদার তার ক্ষমতা প্রকাশের জন্য বিভিন্ন জায়গায় দুর্ণীতি দমন কমিশনের সম্মানিত কমিশনারবৃন্দ তার কথায় ওঠে-বসে, অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ইত্যাদি বলে থাকেন। এমনকি তিনি কোথাও কোথাও নিজেকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার এর এজেন্ট হিসাবে পরিচয় দিয়ে নানাবিধ অনিয়ম, দুর্ণীতি, সরকারের ক্ষতি, প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তিসহ জাতির পিতার নাম-নিশানা মুছে দেয়ার ন্যায় রাষ্ট্রদ্রোহীতামূলক কাজকর্মে লিপ্ত রয়েছেন। আমরা বঙ্গব›ধুর সৈনিকরা অতিকষ্টে জেল জুলুম অত্যাচার সহ্য করে গত ১৫-২০ বছরে এ সংগঠনকে দাড় করিয়েছি। আমাদের কার্যক্রম দেশের সকল জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড পর্যন্ত বিস্তৃত। ইতোমধ্যে ৮টি মহানগর, ৬৪ টি জেলা, ৪৮১ টি উপজেলা ও প্রায় সকল ইউনিয়নে আমাদের সংগঠনের কমিটি গঠিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে শুধুমাত্র ২০১৬ সালেই ঢাকায় ২টি কেন্দ্রীয় সম্মেলন, ৮ বিভাগে ৮টি বিভাগীয় সম্মেলন ও ৬৪টি জেলায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা সংগঠনের নামে িি.িনসঢ়সষ.পড়স.নফ ওয়েব পোর্টাল চালু করেছি যেখানে বঙ্গবন্ধুর কর্মজীবনের ধারাবাহিক বর্ণনা ও রচিত গ্রšে’র অনলাইন কপি রয়েছে । মজুমদার তার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গত ২৭/০৭/২০১৭ তারিখ ৩৫ নং ডিওর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদের কার্যযক্রম বন্ধের জন্য পুনরায় পুলিশ হেড কোয়ার্টারে চিঠি দিয়েছেন (কপি সংযুক্ত)। ড. মজুমদার এলজিআরডি মন্ত্রীর কাছেও আমাদের সংগঠনের বিরুদ্ধে নানা কল্পিত অভিযোগ তুলে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদের নামে সমবায় অধিদপ্তরের দেয়া বৈধ নিবন্ধন বাতিলের জন্য অনুরোধ করেছেন (কপি সংযুক্ত)। অত্যন্ত দুখের বিষয়, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও স্মৃতি পাঠাগার সমবায় সমিতি হতে সমবায় অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৬৪ টি জেলা ও ১০০টি উপজেলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার ¯’াপন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মূরাল ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জীবন আলেখ্য ডিসপ্লে সেন্টার ¯’াপনের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পেশ করা হয়েছে সেটাও তিনি উক্ত অভিযোগ ও উক্ত মন্ত্রনালয়ের সাবেক সচিব হিসেবে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটায়ে বন্ধ করে দিয়েছেন। এছাড়াও ড. মজুমদার এসংগঠনের কাজকে বিতর্কীত করতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ নামে একটি ভূয়া সংগঠন দাড় করিয়েছেন এবং বিভিন্ন দপ্তরে তাদের নামে পত্র লিখেছেন (কপি সংযুক্ত)। জনাব মজুমদারের সৃষ্ট ভূয়া বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদের সভাপতি মোঃ জালাল আহমেদ দুলাল যিনি ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী হিসাবে এলাকায় ফেন্সী দুলাল নামে অধিক পরিচিত ও সেক্রেটারী এস.এম কামরুজ্জামান একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী, পেশায় ডাকাত ও ছিনতাইকারী তাই তিনি ডাকু নামে এলাকায় অধিক পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে অনুরুপ মাদক ব্যবসা, চোরাচালান, ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি ইত্যাদি বিষয়ে বিভিন্ন থানায় প্রায় ২০ টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। উক্ত ভূয়া সম্পাদক জনাব কামরুজ্জামান ডাকু ৫০০০ পিচ ইয়াবাসহ গত ০৮/০২/২০১৭ ইং তারিখে হাতে নাতে গ্রেপ্তার হয় এবং ঢাকার কদমতলী থানায় প্রধান আসামী করে স্মারক নংÑ১৯ মূলে তার বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে এবং তিনি কারাগারে আছেন। এ বিষয়ে পত্রিকায় “মাকদ সম্রাট কামরুজ্জামান গ্রেপ্তার, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান জড়িত থাকার অভিযোগ” শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়। পত্রিকায় জনাব মিহির কান্তি মজুমদার মাঝে ও দুই পাশে তার দুই প্রিয়ভাজন কথিত সভাপতি জনাব জালাল আহমেদ ( ফেন্সি দুলাল) ও কথিত সাধারণ সম্পাদক ও ইয়াবা মামলার আসামী কামরুজ্জামান ডাকুর ছবি প্রকাশিত হয় । জাতির পিতার আদর্শ ও চেতনাকে স্তব্ধ করার অপচেষ্টা যা ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট ঘাতক চক্রের নির্মম বুলেটে জাতির জনকের নৃশংস হত্যার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল। ড. মজুমদারের ন্যায় সুবিধাবাদী ও ষড়যন্ত্রকারী একজন সাবেক আমলা নতুন করে পুলিশী সহায়তায় জাতির পিতা ও স্বাধীনতার মহান স্থাতির স্মৃতি ও দর্শন প্রচারনায় নিয়োজিত সৈনিকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত যা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। আপনাদের অবগতির জন্য জানাই, মিহির কান্তি মজুমদার গত ০৭/০৮/২০১৬ তারিখ বরিশালের উজিরপুরের প্রকল্পের মাঠসহকারী জসিম উদ্দিনকে “নন্দিত জননেত্রী শেখ হাসিনার উপহার পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক” লেখা পোষ্টারে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিসহ কিছু পোষ্টকে কেন্দ্র করে অশ্লীল ভাষায় গালা-গালি করেন এবং ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন ‘‘এই কোন কুত্তার বা”চায় এগুলো বলেছে আপনাকে?” যা ফোনে রেকর্ড হয়।৩Ñ৪ মিনিটের কথোপকথনে ড. মজুমদার ৪ বার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ‘‘শেখ হাসিনা” ‘‘শেখ হাসিনা” বলে উল্লেখ করলেও একবারও সম্মান সূচক ‘‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী” শব্দটি বলেননি। এমনকি ড. মজুমদার জসিমের চাকরি থাকবে না বলেও হুমকী দিয়েছেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত পোস্টার ভর্তা বানায়ে খেতে বলেন। একারনেই বঙ্গবন্ধুর সৈনিকরা ড. মজুমদারের বিরুদ্ধে প্রথমে মানব বন্ধন ও পরে বিভিন্ন জেলায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অবমাননার জন্য ৪০টির অধিক মামলা করেছে। একারণে জনাব মজুমদার ক্ষিপ্ত হয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শন প্রচারকারী এ সংগঠনকে নস্যাৎ করার মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ও চিহ্ন মুছে দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত । ড. মজুমদার সুÑকৌশলে অতি চতুরতার সাথে তার কৃত অপরাধকে ধামাচাপা ও বিজ্ঞ আদালতের বিচার কার্যকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করতে তার পদ পদবী ও তার ভাই বনোজ কুমার মজুমদার (ডিআইজি) এর প্রভাব খাটায়ে পুলিশ প্রশাসনকে ইমোসনালী ব্লাক মেল করে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অপচেষ্টা করছেন। মজুমদারকে সরকার ৩ কোটি মানুষকে দারিদ্রমুক্ত করার মাধ্যমে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার যে দায়িত্ব অর্পন করেছে তা গত তিন বছরে আদৌ বাস্তবায়িত হয়নি; পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের একটি শাখাও চালু করেননি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধোকা দিয়ে ২২-৬-১৬ তারিখ ১০০টি শাখা উদ্বোধন করলেও অদ্যাবধি একটি শাখাও আলোর মুখ দেখেনি। দরিদ্র জনগোষ্ঠির ৮ জন প্রতিনিধি এই ব্যাংকের পরিচালক হবে যা তিনি ৩ বছরেও নিয়োগ দেন নাই। উপরন্ত গরিব জনগণকে সরকার যে অনুদান দিয়েছে তা ফেরৎ আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে যে, ড. মজুমদার প্রধানমন্ত্রীর ক্ষুদ্র সঞ্চয় মডেল ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কফিনের কাপড় পরিয়ে ছাড়বেন বলে আমি মনেকরি । এ সকল বিষয়ে পূর্বেই আমি মাননীয় অর্থমন্ত্রীসহ সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। মজুমদার ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষুদ্র সঞ্চয় মডেল‘‘Honarable Prime Minister philosophy: Sustainable proverty alleviation” মডেল প্রচার নিষিদ্ধ করে পত্র জারী করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষুদ্র সঞ্চয় মডেল নষ্ট করে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের দেশ গড়ার অঙ্গীকারকে নস্যাৎ করে আগামী জাতিয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে বিপদে ফেলতেই ড. মজুমদারের এই অপচেষ্টা। মজুমদারের বিএনপি আমলে প্রাইজ পোস্টিং হিসেবে ২ জেলায় জেলা প্রশাসক থাকার সাথে তার এসকল ষড়যন্ত্র ও কুকাজ সম্পর্কীত। আমলাকুলের সকলেই জানে তিনি একজন হিন্দু হলেও বিএনপির দালাল, যখন কোন হিন্দুরই চাকুরী থাকে না অথচ তখন তিনি হন ডিসি সেটিও ২ জেলায়- স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী শক্তির সাথে এ নিবিড় সখ্যতা সত্যই দু:খজনক । স্বাধীনতা বিরোধী এ রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রকারীর বিরুদ্ধে আমাদের দাবী: প্রধানমন্ত্রীর কটুক্তি ও অবমাননার জন্য দায়েরকৃত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করে মিহির কান্তি মজুমদারের উপযুক্ত শাস্তি বিধান নিশ্চিত করতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কর্ম, দর্শণ ও চেতনা প্রচারের বাঁধা প্রদান ও হয়রানী অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং একইসাথে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রকারী জনাব মিহির কান্তি মজুমদারের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে গ্রেপ্তার করত উপযুক্ত শাস্তি বিধান করতে হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ও কর্মময় জীবন প্রচারের নিমিত্ত অতিদ্রুত প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার, বঙ্গবন্ধুর মূরাল স্থাপন ও ডিসপ্লে সেন্টার নির্মান নিশ্চিত করতে হবে স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী ও ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিরোধ করার জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে অতিদ্রুত একটি বিশেষ সেল গঠন করে নিবিড় তদারকি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বর্ণীত সকল ষড়যন্ত্র রুখতে আমরা সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং একইসাথে আমাদের দাবী বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চালিয় যাবার ঘোষণা দিচ্ছি।