‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদেরকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে’


1632 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদেরকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে’
জুলাই ৩০, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আশরাফুল আলম :
বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার এর প্রধান উপদেষ্টা ড. প্রশান্ত কুমার রায় বলেছেন, অবিনশ্বর এই পৃথিবীতে কোন মানুষই চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু তাঁর কর্ম স্থায়ী। যদি সেটা মানুষের কল্যাণ সাধনের মাধ্যমে মনোরাজ্যে জায়গা করে নিতে পারে বা আসন গেঁড়ে বসতে পারে। আর এই স্থিতি হেতু প্রজন্ম হতে প্রজন্মান্তরে গণমানুষের মধ্যে বেঁচে থাকা সম্ভব। ঠিক তেমনই একজন মানুষ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’ যিনি স্বাধীন বাংলার স্থপতি, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, লাল- সবুজ পতাকা প্রদানকারী প্রবাদ পুরুষ যিনি জন্ম গ্রহণ না করলে সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হতো না, বাঙালি তার পরিচয় হারাতো। সেই মহান ব্যক্তির স্বপ্ন ও আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকে অম্লান তথা সংরক্ষণার্থে এবং তাঁর জীবনাদর্শ তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার মানসে প্রতিষ্ঠিত সংগঠক“বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার” উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে চলেছে। জাতির পিতার অবদানসহ তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের মহৎ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সংগঠন দুটি এ মহতী কার্যক্রম পরিচালিত করছে।

শনিবার সকাল ১১টায় আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্র সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার’র জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথি বক্তব্যেব তিনি এসব কথা বলেন।

DSC05854

তিনি আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ও তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারে পরিচালিত এই সংগঠন দুটি সার্বক্ষণিক মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণসহ তা প্রচার ও প্রসারে তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধ তথা ৭১’ এর চেতনাকে সর্বসাধারণের সামনে তুলে ধরতে উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম পরিচালিত করছে।

তাছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক স্বাধীন ও সার্বভৌম গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হেতু ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত সোনার বাংলা’ এবং গণতন্ত্রের মানস কন্যা, ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত  বাংলাদেশ গঠনে এই সংগঠন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশাবাদী।

এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য জঙ্গিবাদ নিমূল করা। ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলামে জঙ্গিবাদ হারাম। যারা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে জঙ্গিবাদের নেতৃত্বে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আপনারা আপনাদের এলাকায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তুলুন। একটি শান্তিপূর্ণ নিরাপদ স্বদেশ, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত অসাম্প্রদাকি গণতান্ত্রিক সোনার বাংলা গড়ে তোলার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান তিনি।

সম্মেলনে উপস্থিত দেশের ৬৪ জেলার নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশ রতœ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এই সংগঠন প্রতিষ্ঠাতা। প্রতিটি জেলায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ এর স্থানীয় কার্যালয় নির্মান করা হবে। সেখানে বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শের উপর প্রমান্যচিত্র প্রদর্শনী, গবেষণাগার এবং সারাদেশে মুরাল স্থাপন করা হবে। তিনি আরো বলেন, আগামী ৩ মাসের মধ্যে বঙ্গবন্ধু আদর্শে অনুপ্রাণিত সৈনিকদের নিয়ে সারা দেশে পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি উপজেলা কমিটি এবং ইউনিয়ন কমিটি গঠন করার দিক নিদের্শনা দেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক তত্বাবধায়নে জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ’র চেয়ারম্যান ডা: এস এম বাদশা মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ সচিব ড. প্রশান্ত কুমার রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিশিষ্ট সাংবাদিক রবিউল ইসলাম, ডা. এস এম আব্দুর রব, ডা. মোস্তফা জামান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন, তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলার প্রতিনিধি মামুনুর রশিদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. মাসুম বিল্লাহ, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. পঞ্জানন মহলী, সাতক্ষীরা জেলার সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা নূরুল আমিন, নৌ কমান্ডার আব্দুল কাদির, সংগঠনের একান্ত সচিব জাহানুর হুসাইন সাগর, কক্সবাজার সভাপতি নাসিম, ঝিনাইদহের সভাপতি মফিজুর রহমান, জয়পুর হাটের নিয়ামত হাসান, নাটরের ফজলে দেওয়ান, ফরিদপুরের ফিরোজ আহমেদ, চট্টগ্রামের ডা. এম জি ভুইয়া, হবিগঞ্জের কাজল নাথ, গাজীপুরের আমানুল্লাহ, যশোরের আলমগীর হোসেন, খুলনার ডা. জাফর ইকবাল, সিরাজগঞ্জের জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।