‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়ানো উচিত’


93 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়ানো উচিত’
আগস্ট ২৫, ২০১৯ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

মহাকাশ দুনিয়ার সুফল পেতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বঙ্গবন্ধু-১ প্রেরণের পর ইতোমধ্যেই এক বছর পেরিয়ে গেছে। দীর্ঘ এ সময়ে টেকনোলজির ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নানা সুবিধা অর্জিত হলেও বাণিজ্যক অবস্থানের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে। বিষয়টি সমাধানে অ্যাকাডেমিক ও নন-একাডেমিক গবেষক, মহাকাশ আইন গবেষক এবং মহাকাশ বিজ্ঞানীসহ সংশ্লিষ্ট সবার এগিয়ে উচিত। এ ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষায় মহাকাশ আইন সংক্রান্ত কোর্সও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
রোববার গ্রিন ইউনিভার্সিটি আইন বিভাগের সেন্টার ফর এয়ার অ্যান্ড স্পেস ল আয়োজিত ‘কমার্শিয়াল এক্সপ্লোটেশন অব আউটার স্পেশ থ্রো স্যাটেলাইট: প্রোসপেক্টাস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে উপস্থিত বক্তারা এসব কথা বলেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বর্তমান বিশে^ উন্নত দেশগুলোর অনেকেই টেকনোলজি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে মহকাশ স্পেসের ওপর ব্যবকভাবে নির্ভরশীল। সেক্ষেত্রে ৫৭তম হিসেবে দেশ হিসেবে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে ঠিকই; কিন্তু এর সুফল পুরোপুরিভাবে পেতে শুরু করি। ‘মহাকাশ আইন’ নিয়ে গবেষণার পরিধি অনেকাংশেই অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। তাছাড়া বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বাণিজ্যক ব্যবহার তো রয়েছেই।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সামদানী ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জার্মান কোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ এয়ার এয়ার এ্যান্ড স্পেস ল’-এর অধ্যাপক স্টিফান হোবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন গ্রিন বিশ^বিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. পারভেজ আহমেদ। বক্তব্য রাখেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সামদানী ফকির, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফৈয়াজ খান, প্রফেসর ড. গোলাম আহমেদ ফারুকী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ^বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য এয়ার কমডোর শাহারুল হুদা, জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. সরকার আলী আক্কাস, আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে অধ্যাপক স্টিফান হোবে বলেন, বর্তমান বিশ্বে স্যাটেলাইটের গুরুত্ব মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্যাটেলাইটের সক্ষমতা বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও সাশ্রয়- দুটিই করা হচ্ছে। এছাড়া ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবার সম্প্রসারণ, দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনায় এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্যাটেলাইটকে কাজে লাগানো হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশও এই ধরণের সব সুযোগ-সুবিধার আওতায় আসবে। এ সময় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ট্রানসপন্ডার বা সক্ষমতা অন্য দেশের কাছে ভাড়া দিয়েও বৈদেশিক মুদ্রা আয় করার সুযোগ রয়েছে বলে জানান।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে যদি মহাকাশের সুফল পেতে চায়; তবে অবশ্যই এ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তিসমূহে অনুসাক্ষর করতে হবে। পাশাপাশি মাহাকাশ বিষয়ক দেশিয় আইন প্রণয়নও জরুরি।
বিভাগীয় চেয়ারম্যান ড. পারভেজ আহমেদ উচ্চশিক্ষায় মহাকাশ আইন অন্তর্ভুক্তি এবং এই সংক্রান্ত কারিগরি শিক্ষা প্রদানের আহ্বান জানান। সেমিনারে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এবং মহকাশে বাংলাদেশের স্পেস নিয়ে বাংলাদেশের করণীয় সক্রান্ত বিভিন্ন দিক উঠে আসে।
প্রসঙ্গত, গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে ‘স্পেস ল’-এর ওপর বিশেষ কোর্স এবং এ সংক্রান্ত ‘সেন্টার ফর এয়ার অ্যান্ড স্পেস ল’ চালু রয়েছে।