বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় জেলেরা অবৈধভাবে প্রবেশ করে ইলিশ শিকারের মহোৎসবে নেমেছে !


314 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় জেলেরা অবৈধভাবে প্রবেশ করে ইলিশ শিকারের মহোৎসবে নেমেছে !
অক্টোবর ৪, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস.এম সাইফুল ইসলাম কবির, সুন্দরবন থেকে ফিরে:
বিশ্বের অন্যতম মৎস্যসম্পদম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের বঙ্গোপসাগরে প্রজনন মৌসুমে বাংলাদেশি জেলেদের ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকে প্রতিবছর। কিন্তু এ নিষেধাজ্ঞাকালে ভারতীয় জেলেরা বঙ্গোপসাগরে অবৈধভাবে প্রবেশ করে ইলিশ শিকারের মহোৎসব শুরু করে বলে অভিযোগ রয়েছে।  এ বছরও ২৫সেপ্টম্বর থেকে ৯ অক্টোবার পর্যন্ত ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। দেশের জেলে সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বাংলাদেশ সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে বঙ্গোপসাগরের জলসীমায় প্রবেশ করে ইলিশ শিকার করছে ভারতীয় জেলেরা। এদিকে অনেক দেশি জেলেও এ সময়ে অতিমুনাফার আশায় লুকিয়ে ইলিশ শিকার করছে বলে জানা গেছে। এতে ইলিশের বংশবৃদ্ধির সরকারি পরিকল্পনা মাঠে মারা যাচ্ছে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

সূত্র জানায়, সরকার ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের উপকূলীয় ৪টি অভয়াশ্রম সংলগ্ন এলাকায় ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ করেছে। এ সময় ইলিশ ডিম ছাড়ে। সুস্বাদু মাছটির বংশবৃদ্ধির জন্যই এ পরিকল্পনা। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে ইলিশ বিপণন, পরিবহন ও সংরক্ষণ দন্ডনীয় অপরাধ। এ আদেশ অমান্য করলে অভিযুক্তদের এক মাস থেকে এক বছর কারাদন্ড ও ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে। কিন্তু ভারতীয় জেলেরা নিষিদ্ধ সময়েই বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে একচেটিয়া ইলিশ শিকার করে থাকে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় দেশের জেলে সংগঠনগুলোর নেতারা ভারত ও মিয়ানমারের যৌথ আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনায় সাগরাঞ্চলে ইলিশ মাছের মজুদ বৃদ্ধির জন্য অভয়াশ্রম ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় এক দেশ ইলিশ সংরক্ষণে কাজ করে গেলে আর অন্য দেশ অতি আহরণ করলে দেশগুলোর জেলেদের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দেবে বলে জানান তারা।

সম্প্রতি বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, ভোলা,  পিরোজপুর ,পটুয়াখালী,  ও বরগুনা সহজেলেরা প্রজনন মৌসুমে ভারতীয় জেলেদের মাছ শিকার বন্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি নেওয়ার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন। এদিকে বাগেরহাট জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি অভিযোগ করেন, প্রতিবছর প্রজনন মৌসুমে বাংলাদেশি জেলেদের ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞার সুযোগে ভারতীয় জেলেরা বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ অংশ ঢুকে একচেটিয়া মাছ শিকার করে। এতে প্রজনন মৌসুমে বাংলাদেশের ইলিশ শিকারের নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা ও উপকারিতা ব্যাহত হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বাগেরহাটের-৪, মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন বলেছেন, বলেন, বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে শিগগির লিখিতভাবে জানানো হবে, যেন বাংলাদেশে সরকারিভাবে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধের সময় ভারত বা অন্য কোনো দেশের জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে অবৈধভাবে ইলিশ শিকার করতে না পারে।

বাংলাদেশের মতো ভারতের গঙ্গা অববাহিকায় হুগলি-মাতলা মোহনা অঞ্চল, গোদাবরী, দয়া নদীতে ইলিশ মাছের প্রজনন ক্ষেত্র চিহ্নিত করে ভারত সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। শুধু ডিমওয়ালা মা-ইলিশরাই যথেষ্ট নয়, পুরুষ ও স্ত্রী ইলিশ মাছের অনুপাতের ভারসাম্য রাখাও জরুরি। গবেষকরা বলেন, সম্প্রতি ইলিশ মাছের ডিম ধারণক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।