বছরের সর্বোচ্চ তাপদাহ বইছে : অতিষ্ট জনজীবন


475 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বছরের সর্বোচ্চ তাপদাহ বইছে : অতিষ্ট জনজীবন
এপ্রিল ১২, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক ::
এ বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হচ্ছে জনজীবন। গত এক সপ্তাহ ধরে জেলার তাপমাত্রা বাড়ছে। এতে করে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে নগরীর জনজীবন।  ভ্যাপসা গরমের কারণে সবচেয়ে বিপদে আছেন নগরীর খেটে খাওয়া মানুষগুলো। সারাদিন রোদে পুড়ে রাস্তাঘাটেই যাদের ঠাই হয় দিন শেষে তাদের দুর্দশার শেষ নাই। জেলা আবহাওয়া অফিস বলছে, তাপমাত্রা আরো বাড়বে। মঙ্গলবার ছিলো জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
আবহওয়া অধিদপ্তরের জানান, সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ১ এপ্রিল ৩৩.৪ ডিগ্রি, ২ এপ্রিল, ৩৩.৫ডিগ্রি, ৩ এপ্রিল ৩৫.২ডিগ্রি, ৪ এপ্রিল ৩৩.২ডিগ্রি, ৫ এপ্রিল ৩৩.১ডিগ্রি, ৬ এপ্রিল ৩০.৫ডিগ্রি, ৭ এপ্রিল ৩৩.৬ডিগ্রি, ৮ এপ্রিল ৩৩.৮ডিগ্রি, ৯ এপ্রিল তাপমাত্রা বেড়ে দাড়িয়েছিলো৩৫.০ডিগ্রি, ১০ এপ্রিল ৩৫.২ডিগ্রি। আর মঙ্গলবার ছিলো এ বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি।
সূত্রগুলো আরো জানায়, গত বছরে এ সময়ে যে তাপমাত্রা ছিল সে তুলনায় এবছর বেশি মনে হচ্ছে। বৃষ্টিপাত নাই বলে আবহাওয়া উষ্ণ হয়ে আছে। যার ফলে বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভ্যাপসা গরমটাও বেড়ে যাচ্ছে। বৃষ্টিপাত না হওয়া পর্যন্ত আবহাওয়া ঠান্ডা হচ্ছেনা।
শহরের পলাশপোল এলাকার রবিউল ইসলাম রবি বলেন, গরমে রাস্তায় বের হওয়াই অসহ্যকর হয়ে যাচ্ছে। ক্লান্তিকর দিনে কাজের ভীষণ অসুবিধা হচ্ছে। এদিকে ঘাম বসে নানা অসুখ বিসুখ হচ্ছে।
রিকশা চালক মুস্তফা বলেন, গরমে সারাদিন রিকশা নিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে। গরমে প্যাসেঞ্জারও তেমন বের হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে সারাদিন রোদে ঘুরে ৩ থেকে ৪ টা ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আর শরীরে রোদ লেগে অসুখ হচ্ছে কিন্তু কিছু তো করার নাই। পেট চালাতে তো হবেই।
এদিকে গরমে রাস্তায় ভ্যানে করে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন পানীয় শরবত। ক্লান্তিকর দিন ছেড়ে পিপাসা মেটাতে পথচারীরা সেসব শরবত খেতে ভীড় জমাচ্ছেন। শরবত বিক্রেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, ইদানিং গরমটা একটু বেশি হওয়ায় লোকজন পিপাসা মেটাতে শরবত বেশি খাচ্ছেন। সারা দিনে এমনকি সন্ধ্যার পরও শরবত বিক্রি হয়। কিন্তু চাহিদানুযায়ী সরবরাহ করা যায় না। প্রতিদিনই শরবত শেষ হয়ে যায়।
কদর বেড়েছে ডাবের পানিরও। ডাব বিক্রেতারা, প্রতিদিন পুঠিয়ার বানেশ্বর এলাকা থেকে ডাব নিয়ে এসে তিনি ভ্যানে ফেরী করে বিক্রি করেন। প্রতিটি ডাব ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করেন। বিকেল হতে না হতেই সব ডাব বিক্রি হয়ে যায় তার। তিনি বলেন, গরমে ডাবের পানি খুব উপকারী। অনেকে বাড়ির জন্য তিনটা চারটা করে নিয়ে যায়। আবার অনেকে দাড়িয়ে এখানেই ডাবের পানি খায়। লোকজন ভালোই হয়,বিশেষ করে দুপুর ১১ টার পর থেকে ডাবের পানির চাহিদা বাড়ে, কারণ সে সময় রোদ বেশি থাকে।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার আব্দুল গফফার জানান, তাপমাত্রা বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত ধীরে ধীরে বাড়বে। বৃষ্টি হলে কমবে। তবে মঙ্গলবার ছিলো বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
তবে গরমে চিকিৎসকরা ঠান্ডা পানীয় জাতীয় খাবার খাওয়ার বেশি পরামর্শ প্রদান করেন।