বটবৃক্ষের প্রতি শর্তহীন শ্রদ্ধা


147 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বটবৃক্ষের প্রতি শর্তহীন শ্রদ্ধা
জুন ১৬, ২০১৯ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বিশ্ব বাবা দিবস আজ

অনলাইন ডেস্ক ::

বাবা- প্রতিটি সন্তানের চোখে প্রথম আদর্শের নাম। যার ব্যক্তিত্ব, সরলতা আকৃষ্ট করে প্রতিটি সন্তানকে। সন্তানের মাথার ওপর বটবৃক্ষের মতো ছায়ার নাম ‘বাবা’। সন্তানের মুখের হাসি, সব আবদার পালনের জন্য জীবনের প্রায় সব কিছুই নির্দি্বধায় ত্যাগ করা, আদর-শাসন আর বিশ্বস্ততার নাম বাবা। বাবার তুলনা শুধু বাবাই। বাবা চির আপন, চিরন্তন এক সম্পর্কের নাম। বছর ঘুরে আজ এসেছে সেই দিন, যেদিন বাবার পা ছুঁয়ে, বুকে জড়িয়ে ধরে বলা- ‘বাবা, তোমায় অনেক ভালোবাসি’।

আজ বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতি বছরের জুনের তৃতীয় রোববার বিশ্বব্যাপী পালন করা হয় এ দিবসটি।

পৃথিবী অনেকখানি বদলে গেছে। ভেঙে পড়েছে পারিবারিক বন্ধন। যে মানুষটির আঙুল ধরে সন্তানের প্রথম হাঁটতে শেখা, বৃদ্ধ বয়সে সেই বাবার স্থান এখন বৃদ্ধাশ্রমে। নচিকেতার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে হয়- ‘ছেলে আমার মস্ত মানুষ, মস্ত অফিসার/ মস্ত ফ্ল্যাটে যায় না দেখা এপার ওপার।/নানান রকম জিনিস আর/আসবাব দামি দামি/সবচেয়ে কম দামি ছিলাম একমাত্র আমি।/ছেলের আমার আমার প্রতি অগাধ সল্ফ্ভ্রম/ আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম!’। অথচ এ সন্তানের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানসহ সব মৌলিক চাহিদার নিরাপত্তা দেওয়ার সঙ্গে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন বাবা। অসুস্থ শরীরের ক্লান্তিকে পাত্তা না দিয়ে ছুটে চলেছেন সন্তানের হাসির সন্ধানে। অন্তত, আজকের দিনটিতে সেই সন্তানেরা বুকে টেনে নেন বাবাকে। প্রকাশ করেন কৃতজ্ঞতা।

বাবার জন্য আলাদা কোনো দিবসের প্রয়োজন নেই। তবু আনুষ্ঠানিকভাবে যদি কোনো উপায় থাকে, তাহলে মন্দ কী! এ চিন্তা থেকেই বিশ্ব মা দিবসের আদলে পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব বাবা দিবস। মায়ের পাশাপাশি বাবাও যে সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল- এটা বোঝানোর জন্যই এ দিবস পালনের শুরু।

বাবার চোখে সব সন্তানই সমান। কিন্তু মেয়ে সন্তানরা বোধহয় একটু বেশিই আদর পেয়ে থাকেন। ফলে মেয়ের বিয়ের সময় সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান বাবাই। হিন্দুরীতির বিয়েতে যখন বাবা ‘কন্যাদান’ করেন, তখন তার কান্নায় আর্দ্র হয়ে ওঠেন উপস্থিত সবাই। বাবার প্রতি মেয়েরও রয়েছে গভীর অনুভূতি। সব মেয়েই প্রথম যে পুরুষের ব্যক্তিত্বে আকৃষ্ট হয়, তিনি হলেন বাবা। আর সে জন্যই বিদায় বেলায় নিঃশব্দ অশ্রু গেয়ে ওঠে- ‘আমি যাচ্ছি বাবা, আমি যাচ্ছি/চোখ মুছে মুখ তোলো/স্নেহের বাঁধন খোলো/এবার তোমায় দিতেই যে হয়/যাবার অনুমতি,/বাবা খেয়াল রেখো/ তুমি তোমার প্রতি’।

ছেলেদের কাছেও বাবা অতুলনীয়। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার সঙ্গে ভয়ের এক অম্ল-মধুর সম্পর্ক বাবা আর ছেলের। বাবার ভয়ে মায়ের আঁচলে মুখ লুকানোর পরমুহূর্তে বাবার কাছে গিয়ে আবারও আবদার করা। একটু বড় হয়ে বাবার সঙ্গে সংসারের নানা বিষয়ে আলোচনা করা। আর যুবা বয়সে বাবার দায়িত্ব তুলে নেয় ছেলেই। বাবাকে একটু আনন্দে রাখতে ছেলেরাও বিসর্জন দেয় নিজেদের নানা শখ।

‘বাবা তোমাকে ভালোবাসি’ কথাটি বলার জন্য একটি দিন প্রয়োজন- প্রথম তা অনুধাবন করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের নিকটবর্তী ছোট্ট শহর ক্রেসটনের বাসিন্দা সোনোরা লইস ডট নামের এক তরুণী। সৎমায়ের কাছে মেয়ের অবহেলা হতে পারে- এ শঙ্কায় সোনোরার বাবা উইলিয়াম জ্যাকসন স্মার্ট স্ত্রীর মৃত্যুর পর আর বিয়ে করেননি। সোনোরাকে বড় করতে নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দেন। সোনোরা বাবার এই ত্যাগকে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। বাবার প্রতি তার গভীর ভালোবাসার কথা সবাইকে জানাতে চেয়েছিলেন। তাতেই মাথায় আসে ‘বাবা দিবস’ পালনের চিন্তা। উইলিয়াম স্মার্টের মৃত্যুবার্ষিকী ৫ জুন। প্রথম ‘ফাদারস ডে’ পালন করা হয় ১৯ জুন। পরে ১৯৫৬ সালে দিনটি যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি স্বীকৃতি পায়। ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন শুরু হয়।

পশ্চিমা সমাজে বাবা দিবস পুরোপুরি বাণিজ্যিক দিবসে রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশেও দিন দিন বাণিজ্যিক হচ্ছে। বাবার জন্য কার্ড আর উপহারের সমাহার এখন দোকানগুলোতে।

বাবার জন্য প্রতিটি দিবস, তবু বিশেষ এই দিনটিতে আসুন বলে দিই- ‘বাবা, তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তোমার কারণে আজকের এই আমি’। আর যারা বৃদ্ধাশ্রমে বাবাকে ফেলে এসেছেন, তারা একটু দেখুন না ‘মস্ত বাড়ি’তে ওই মানুষটির কোনো স্থান হয় কি-না? না হলে একটু মনে করে দেখেন বাবা কী কষ্ট করে আপনাকে ‘মস্ত অফিসার’ বানিয়েছেন। সবশেষে বিশ্ব বাবা দিবসে পৃথিবীর সব বাবার প্রতি রইল শ্রদ্ধাবনত শুভেচ্ছা।