বন্যায় ভেসে গেছে ৭০০ পুকুরের মাছ, ১২ কোটি টাকা ক্ষতির দাবি


131 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বন্যায় ভেসে গেছে ৭০০ পুকুরের মাছ, ১২ কোটি টাকা ক্ষতির দাবি
জুন ২১, ২০২২ জাতীয় দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

সিলেট-সুনামগঞ্জের পর বন্যায় প্লাবিত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিন্মাঞ্চলের অনেক জায়গা। তার মধ্যে জেলার নাসিরনগর অন্যতম। এই উপজেলার কুন্ডা ইউনিয়নের তিতাস পাড়ের বাসিন্দা নরেশ চন্দ্র দাস। একটি এনজিও থেকে ছয় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে নয়টি পুকুরে মাছ চাষ করেছিলেন। পুকুরের মাছ বিক্রি করে এনজিওর ঋণ শোধ করে পরিবার নিয়ে সুখে থাকার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ছয়টি পুকুরের মাছ, সঙ্গে ভেসে গেছে পরিবার নিয়ে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্নটুকুও। এখন এনজিও থেকে ঋণ আনায় প্রতিমাসে ৪৫ হাজার টাকা কিস্তি দেবেন কীভাবে সেই চিন্তার ভাঁজ নরেশের কপালে।

সম্প্রতি ভারি বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে সৃষ্ট বন্যায় নাসিরনগরের মেঘনা ও তিতাসসহ বেশ কিছু নদীর পানি ফুঁসে উঠেছে। নরেশ চন্দ্র দাসের মতো উপজেলার আরও ৭০০ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। মাছচাষিদের দাবি এবার বন্যায় তাদের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি টাকা হবে।

মাছচাষিরা বলছেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই বন্যার পানি সব পুকুরের মাছ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। তবে এখনও পুকুরের চারপাশে জালের বেড়া দিচ্ছেন অনেক চাষি, যদি কিছু মাছ রক্ষা করা যায় সেজন্য।

তরুণ মচাছাষি প্রবাস ফেরত মো. জিয়া চৌধুরী বলেন, ‘বিদেশে কষ্ট করে যে টাকা আয় করছিলাম সেই টাকা দিয়ে ১০টি পুকুর লিজ নিয়ে মাছচাষ করছিলাম। কিন্তু কপাল এত খারাপ যে, কষ্টের সব টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে।’

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভারি বৃষ্টিপাত আর উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে অধিকাংশ ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এতে ওই এলাকার পুকুরে পানি ঢুকে পুকুরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মৎস্য অফিসের তথ্য মতে- উপজেলায় মোট পুকুরের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। এর মধ্যে সোমবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক পুুকুরের মাছ ভেসে গেছে। তবে পানি বৃদ্ধি-বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এ ক্ষতির পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়তে পারে। এসব পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও পোনা ছিল। টাকার অঙ্কে এ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ছয় কোটি টাকা।

আরও জানা যায়, উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নে ৫০টি, চাপরতলা ৯০টি, ধরমন্ডলে ১২০টি, গোকর্ণ ইউনিয়নের ২০টি, কুন্ডা ইউনিয়নে ৪০টি, ভলাকুট ইউনিয়নের ৯০টি, ফান্দাউকে ৩০টি, নাসিরনগরে ১২০টি, চাতলপাড়ে ৩০টি ও বুড়িশ্বরে ১২০টি পুকুরের মাছ ও পোনা ভেসে গেছে।

বুড়িশ্বর ইউনিয়নের মাছচাষি রতন সাহাজি বলেন, ‘খুব কষ্ট কইরা চাইরটা পুকুরে মাছ চাষ করছিলাম। কিন্তু সব পানির নিচে গেছেগা। একটা মাছও ধরতাম পারছি না। আমার প্রায় ছয় লাখ টাকার মাছ ভাইস্যা গেছে।’

মৎসজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, ‘বন্যার কারণে মৎস্যজীবী মানুষজন মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। এরই মধ্যে উপজেলার নিন্মাঞ্চলের সবকটি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। সরকারিভাবে কোনো প্রণোদনা না পেলে জেলেদের বেঁচে থাকাটা কষ্টকর হবে।’

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শুভ্র সরকার বলেন, পানি বৃদ্ধির যে হার সেটা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে উপজেলার সবকটি পুকুর পানির নিচে তলিয়ে যাবে। এই পর্যন্ত ১৩টি ইউনিয়নের মাছচাষিদের দেওয়া তথ্য মতে প্রায় ৭০০ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি টাকা। তবে এর পরিমাণ বাড়তে পারে বলে তিনি যোগ করেন।