বরিশালের কাছে হেরে ঢাকার বিদায়


364 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বরিশালের কাছে হেরে ঢাকার বিদায়
ডিসেম্বর ১৩, ২০১৫ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

16_BPL+32_Barisal+vs+Dhaka_sANGAKARA+OUT_121215_0004
ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
ঝড় তোলা ক্রিস গেইল, বিপিএলে প্রথমবারের মত রান পাওয়া সাব্বির রহমান আর মাহমুদউল্লাহর অধিনায়কোচিত ব্যাটিংয়ে লড়াইয়ের পুঁজি গড়া বরিশাল বুলস সহজ জয় পেয়েছে। এলিমিনেটর ম্যাচে ঢাকা ডায়নামাইটসকে ১৮ রানে হারিয়েছে তারা।

রোববার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের মুখোমুখি হবে বরিশাল, যাদের গ্রুপ পর্বে দুবারই হারিয়েছিল মাহমুদউল্লাহরা।

শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৩৫ রান করে বরিশাল। জবাবে ৮ উইকেটে ১১৭ রানে থেমে যায় ঢাকার ইনিংস।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ঢাকার। দশম ওভারে ৫২ রানে ব্যাটিং ভরসা কুমার সাঙ্গাকারাসহ চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি।

টুর্নামেন্টের শেষে এসেও উদ্বোধনী জুটি খুঁজে পায়নি ঢাকা। নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে এদিন ইনিংস উদ্বোধন করতে নামেন আবুল হাসান। তার সঙ্গে ফরহাদ রেজার উদ্বোধনী জুটি ভাঙে চতুর্থ ওভারেই। হাসানকে ফেরানোর পর মোহাম্মদ হাফিজকেও বিদায় করেন কেভন কুপার।

পরপর দুই ওভারে ফরহাদ রেজা ও সাঙ্গাকারাকে ফিরিয়ে ঢাকাকে বিপদে ফেলেন আল আমিন। উইকেটরক্ষক রনি তালুকদারের গ্লাভসবন্দি হন রেজা (২০)। ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান সাঙ্গাকারা।

ভীষণ বিপদে পড়া ঢাকা তাকিয়ে ছিল নাসির হোসেনের দিকে, কিন্তু হতাশ করেছেন তিনিও। আল আমিনের বলে উড়িয়ে সীমানা ছাড়া করতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান নাসির (১৬)।

পর পর দুই বলে ম্যালকম ওয়ালার ও মোসাদ্দেক হোসেনকে ফিরিয়ে ঢাকার ক্ষীণ আশাটুকু শেষ করে দেন তাইজুল ইসলাম। ১০ বলে ১৮ রান করা ওয়ালার সীমানায় আর মোসাদ্দেক (২৬) কাভার পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন।

ওয়ালার-মোসাদ্দেকের বিদায়ের পর বেশি দূর এগোয়নি ঢাকার ইনিংস।

বরিশালের আল আমিন ও কুপার তিনটি করে উইকেট। দুটি উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল।

07_BPL+32_Barisal+vs+Dhaka_Gayle+out_121215_0001
এর আগে দুই অফ স্পিনার অলরাউন্ডার নাসির ও মোসাদ্দেককে দিয়ে বোলিং আক্রমণ শুরু করান সাঙ্গাকারা। নাসির প্রথম ওভারে রনিকে ফিরিয়ে শুরুটা ভালো করেন।

কিন্তু তরুণ মোসাদ্দেক পড়েন গেইলের তোপের সামনে। মোসাদ্দেকের প্রথম দুই ওভার থেকে ৩০ রান নেন তিনি। এক প্রান্তে গেইল ঝড় তুললেও অন্য প্রান্তে তখন নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন টুর্নামেন্টে নিজের ছায়া হয়ে থাকা সাব্বির।

নাসিরকে একটি ওভার মেডেনও দেন সাব্বির। মুস্তাফিজুর রহমানও মেডেন নেওয়ার পথে ছিলেন, শেষ বলে গিয়ে এক রান নেন তিনি। রানের খাতা খোলার পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি সাব্বিরকে। রানের গতি বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেন তিনিও।

গেইল ঝড় থামান মুস্তাফিজ। তরুণ এই বাঁহাতি পেসারের মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই বোল্ড হন গেইল (১৯ বলে ৩১)। অনেক ভেতরে ঢোকা স্লোয়ার বুঝতে পারেননি তিনি।

গেইলের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টেকেননি সর্বোচ্চ ৪১ রান করা সাব্বিরও। নাবিল সামাদের বলে মোসাদ্দেককে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। তার ৩৯ বলের ইনিংসটি ৩টি করে ছক্কা-চারে গড়া।

গেইল-সাব্বিরের বিদায়ের পর দলকে ১৩৫ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বড় অবদান অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর। শেষ ওভারে মুস্তাফিজের শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ৩৩ বলে ৩৭ রানের ভালো একটি ইনিংস খেলেন তিনি।

শেষের দিকে বেশি রান না হলেও শুরুর ঝড়ে লড়াইয়ের পুঁজি পেয়ে যায় বরিশাল। দিনের প্রথম ম্যাচের পর সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজা জানিয়েছিলেন, এই পিচে ১৩০/১৩৫ রানই লড়াই করার জন্য যথেষ্ট। দ্বিতীয় ম্যাচে তারই প্রমাণ দিলেন বরিশালের বোলাররা।