কারও কোনো টেলিফোন পেয়ে বিচারকের স্বাধীনতা নষ্ট করবেন না : সাতক্ষীরায় প্রধান বিচারপতি


465 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কারও কোনো টেলিফোন পেয়ে বিচারকের স্বাধীনতা নষ্ট করবেন না : সাতক্ষীরায় প্রধান বিচারপতি
অক্টোবর ১৩, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

কাজী জাহিদ আহম্মেদ :

‘ কারও কোনো টেলিফোন পেয়ে বিচারকের স্বাধীনতা নষ্ট করবেন না’ উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন ‘ বিচারকাজে বিএনপি, জামায়াত , আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির হয়ে পক্ষপাতিত্ব করা হয়না’।তিনি বলেন আমি আপনাদের চাকুরি ও প্রমোশনসসহ সবকিছুর নিশ্চয়তা দিয়েই বলছি ‘আপনারা  সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে নির্ভয়ে কাজ করুন’।  বিচার প্রার্থী হিসাবে যার যা রায় হবে সেটাই  তাকে দিতে হবে ।  তিনি বলেন এভাবেই বিচারালয় ও  বিচারকের প্রতি  যে আস্থা  আছে তা রক্ষা করতে হবে।
প্রধান বিচারপতি  মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবি সমিতির দেওয়া এক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন ।
সারা দেশে বিচারক সংকট রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন সরকার  এবং নির্বাহী বিভাগের অসহযোগিতার কারণে এই সংকট দুর করা যাচ্ছে না । ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিচারক স্বল্পতা থাকলে সবার অসুবিধা হয়।আইন মন্ত্রনালয়ের অসহযোগিতার কারণে যথেষ্ট সংখ্যক বিচারকও নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।তিনি আরও বলেন বাংলাদেশে জনসংখ্যার তুলনায় বিচারকের সংখ্যা বিশ্বে সবচেয়ে কম ।অথচ বাংলাদেশে মামলার সংখ্যাও বেশি । তিনি বিচারকের সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান ।
পুরনো আমলে প্রনীত কিছু আইনে এখন মরিচা ধরেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন এসব আইন বর্তমান সময়ে  অকার্যকর । এ আইন সংস্কার করে যুগোপযোগী করতে ভূমি সচিব সম্মত হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি । বিচারপ্রার্থীদের কষ্ট লাঘবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন আদালত প্রাঙ্গনে সাক্ষীদের সুরক্ষা এবং মহিলা আসামি ও মহিলা সাক্ষীদের জন্য পৃথক ঘর নির্মানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । নারীদের বিশ্রামাগার তৈরির ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি ।  তিনি বিচারকদের  দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করার আহবান জানান ।
জেলা আইনজীবি সমিতি মিলনায়তনে এড. আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন জেলা ও দায়রা জজ জোয়ার্দার আমিরুল ইসলাম, আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এড. এসএম হায়দার , পিপি এড. ওসমান গনি,  সরকারি কৌশুলি এড. লুৎফর রহমান প্রমুখ ।
ডিজিটালাইজেশনের ওপর গুরুতত্ব আরোপ করে তিনি বলেন বর্তমান পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে আদালতের রেকর্ডসমূহ ডিজিটালাইজ করা হবে ।
এর আগে সকালে প্রধান বিচারপতি সাতক্ষীরা জেলা জজশীপ ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহ  পরিদর্শন করেন ।
এর আগে সোমবার রাতে তিনি সাতক্ষীরা সার্কিট হাউসে বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে বলেন ‘ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব কেবলমাত্র বিচারকদের ওপর বর্তায় না।এর সাথে আইনজীবি , পুলিশ , স্বাস্থ্য বিভাগসহ অনেকেই সম্পৃক্ত রয়েছেন’ ।  তিনি আরও বলেন বংলাদেশে এখন ৩১ লাখ মামলা যানজটের মতো চেপে আছে।নির্ধারিত সময়ে এজলাসে বসা এবং নির্ধারিত সময়ে এজলাস থেকে বিচারক নামলে বিচার কাজ নিষ্পত্তি সহজতর হয়ে ওঠে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি ঔপনিবেশিক আমলের আইন  দিয়ে কল্যান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা যায়না বলে জানান ।

সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবি সমিতি ভবনে মঙ্গলবার দুপুরে আইনজীবিদের দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এড. আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা ও দায়রা জজ জোয়ার্দ্দার আমিরুল ইসলাম,জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এড. এস এম হায়দার আলী, পিপি এড. ওসমান গনি, জিপি এড. গাজী লুৎফর রহমান প্রমুখ। এর আগে মঙ্গলবার সকালে সাতক্ষীরা আদালতের বিচারিক কার্যক্রম তিনি সরেজমিনে পর্যবেক্ষন করেন।

প্রধান বিচারপতি সোমবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা সার্কিট হাউসে পৌছান। সেখানে অনুষ্ঠিত বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে তিনি বলেন ,আমাদের দেশের অনেক আইনেই মরিচা ধরেছে। ১৮৬০ সালের ঔপনিবেশিক আইনের মাধ্যমে  আধুনিক কল্যাণকর রাস্ট্র গঠন সম্ভব নয়। এসব সিআরপিসি আইনের ৪০ ভাগই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তিনি মামলা জটকে যানজটের চেয়ে বেশী ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেন।