বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত এই কুয়াকাটা


319 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত এই কুয়াকাটা
জানুয়ারি ১২, ২০২০ জাতীয় দেবহাটা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আর কে বাপ্পা, কুয়াকাটা থেকে ফিরে ::

কুয়াকাটা বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের একটি সমুদ্র সৈকত ও পর্যটনকেন্দ্র। পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটা “সাগর কন্যা” হিসেবে পরিচিত।বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত এই কুয়াকাটা।
পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নে কুয়াকাটা অবস্থিত।
১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সৈকত বিশিষ্ট কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম নৈসর্গিক সমুদ্র সৈকত। এটি বাংলাদেশের একমাত্র সৈকত যেখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়।কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের তিন দিকে বঙ্গোপসাগর। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে সমুদ্রের দিকে মুখ করে দাঁড়ালে সামনে সীমাহীন সমুদ্র, পিছনে গোটা বাংলাদেশ।উপকূলজুড়ে বনভূমির শীতল পরশ, সমুদ্র সৈকতের মায়াবী পরিবেশ এক অপূর্ব শিহরণ জাগিয়ে তোলে সবার মনে। ঠিক এ রকমই স্বপ্নময় রহস্য ঘেরা স্থান কুয়াকাটা।বিকেলে সৈকতের যেকোনো স্থান থেকে সূর্যাস্ত দেখা যায়। তবে সূর্যোদয় দেখতে হলে যেতে হবে পূর্বে দিকের ঝাউবনের কাছে।

কুয়াকাটার অপার নৈসর্গিক সৌন্দর্য নিজের চোখে না দেখলে বোঝানো কঠিন। যা শুধু দেখলেই উপভোগ করা যায়। সূর্যোদয়ের সময় মনে হয় বিরাট এক অগ্নিকুণ্ড আস্তে আস্তে সাগর ভেদ করে আসমানের উপরে দিকে উঠে যাচ্ছে। আবার সূর্যাস্তের সময় মনে হয় ক্লান্ত পরিশ্রান্ত সূর্য সাগরের ঢেউয়ের মধ্যে আস্তে আস্তে মুখ লুকাচ্ছে। মনে হয় সাগরের মধ্যেই সূর্যের বাড়ি ঘর। পূর্ণিমার রাতে সী-বিচের সৌন্দর্য সবকিছুকে হার মানায়। চাঁদের আলোয় বিশাল বিশাল ঢেউগুলো যেন কাছে ডাকে। কুয়াকাটার সী-বিচের সৌন্দর্য লিখে শেষ করা সত্যিই খুব কঠিন ব্যাপার।

সমুদ্র সৈকতের পাশেই দেড় শতাধিক একর জমিতে অবস্থিত নারিকেল বাগান যা “নারিকেল কুঞ্জ” নামেই পরিচিত। ১৯৬০ সালে ১৬৭ একর খাস জমি লীজ নিয়ে জনাব ফয়েজ মিয়া ‘ফার্মস এন্ড ফার্মস’ নামে এ বাগান করেন। সৈকতের পূর্ব দিকে রয়েছে মনোরম ঝাউ বাগান। ১৯৯৭/৯৮ অর্থ বৎসরে বন বিভাগ ১৫ হেক্টর জমিতে সি বিচ সংলগ্ন ঝাউ বাগান গড়ে তোলেন।

আদমশুমারি অনুযায়ী কুয়াকাটার মোট জনসংখ্যা প্রায় ১০০০০ জন এবং পরিবার সংখ্যা ২,১০০টি।
কুয়াকাটা নামের পেছনে রয়েছে আরকানদের এদেশে আগমনের সাথে জড়িত ইতিহাস। ‘কুয়া’ শব্দটি এসেছে ‘কুপ’ থেকে। ধারণা করা হয় ১৮ শতকে মুঘল শাসকদের দ্বারা বার্মা থেকে বিতাড়িত হয়ে আরকানরা এই অঞ্চলে এসে বসবাস শুরু করে। তখন এখানে সুপেয় জলের অভাব পূরণ করতে তারা প্রচুর কুয়ো বা কুপ খনন করেছিলেনে, সেই থেকেই এই অঞ্চলের নাম হয়ে যায় কুয়াকাটা ।

উল্লখ্যে,দেবহাটা প্রেসক্লাবের উদ্যেগে বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ ও শিক্ষা সফর বৃহস্পতিবার দুপুরে যাত্রা শুরু করে। বার্ষিক এই কর্মসূচিতে দেবহাটা প্রেসক্লাবের ৩০জন সদস্য ও ৫জন বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিদের অংশ গ্রহনের মধ্যে দিয়ে যাত্রা করে। ৩দিন ব্যাপী এই আনন্দ ভ্রমণটি খুলনা, বরিশাল বিভাগের অসংখ্য দর্শণীয় স্থান পরিদর্শণ করে ।