বাংলাদেশের ১৮ রুট দিয়ে প্রতি বছর ২০ হাজার নারী শিশু ভারতে পাচার হচ্ছে


853 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বাংলাদেশের ১৮ রুট দিয়ে প্রতি বছর ২০ হাজার নারী শিশু ভারতে পাচার হচ্ছে
মার্চ ২৫, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ইব্রাহিম খলিল ::
বাংলাদেশের ১৮ টি রুট দিয়ে প্রতি বছর ২০ হাজার নারী ও শিশু অবৈধ পথে ভারতে পাচার হচ্ছে। পাচারের  শিকার এসব কিশোরীর ৬০ ভাগের বয়স ১২ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভারতীয় একটি চক্র তাদের দালালদের মাধ্যমে নারীদের সংগ্রহ করছে। প্রতিটি নারীর জন্য দেওয়া হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। পরে এসব নারীদের ভারতের মুম্বাই হায়দারাবাদ কলকাতায় নারী পাচারকারিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির গবেষনায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গত ২৪ মার্চ সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব তথ্য তুলে ধরেন। তথ্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সমন্বয়কারী মালিহা সুলতানা।

গবেষনায় বলা হয়, ২০১৬ সালে বিদেশে পাচারের পর উদ্ধার হওয়া ৬৫০ নারী ও শিশুর মধ্যে ১৬৫ জনকে পুনর্বাসন করেছে মহিলা আনইজীবী সমিতি। এছাড়া চলতি ২০১৭ সালে বিদেশ থেকে উদ্ধার হওয়া ৪১ জনের মধ্যে ১১ জনকে পরিবারে পূনর্বাসন করা হয়েছে। তারা আরও বলেন পাচারের পর দেশে ফিরিয়ে এনে নারী ও শিশুদের মনোসামাজিক সেবা দেওয়া হয়ে থাকে। তবে অনেক ক্ষেত্রে পরিবার প্রতিবেশি ও সমাজের অনেকের সহযোগিতা না পাওয়ায় এসব নারীকে করুণ পরিণতি বরন করতে হয়। অনেকে তার জীবন নিয়ে হতাশা ও বিষন্নতায়  পড়ে আত্মহত্যা করে । তারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় পড়ে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পতিতালয় খুলে সেখানে নারী ও শিশু বিক্রির বিশাল এক হাট তৈরি হয়েছে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের বরাত দিয়ে এ সব তথ্য বলা হয়।

ভারতের কেরালা রাজ্যের কোচি জেলা পুলিশ এক বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধারের তার কাছ থেকে জানতে পেরেছে যে একটি ভারতীয় চক্র বাংলাদেশ থেকে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় নারী কেনাবেচা করে তাদেরকে পতিতালয়ে দিয়ে দিচ্ছে।  ভারতে কলকাতা , মুম্বই ও হায়দরাবাদে নারী পাচার সিন্ডিকেট তৎপর রয়েছে। বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের ১১ টি রুট দিয়ে ভারতে নারী ও শিশু পাচার হয়ে থাকে। সাতক্ষীরার কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে একইভাবে নারী শিশু পাচার হয়ে থাকে বলে উল্লেখ করেন তারা।

এসব তথ্য তুলে ধরে তারা বলেন শিশুদের সুরক্ষায় সরকার একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এই নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নারী ও শিশু পাচারের মতো ঘৃণ্য অপরাধ দমন করা সম্ভব। তারা জানান জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি এই অপরাধ দমনে সারাদেশে নেটওয়ার্কিং গড়ে তুলেছে। এর মাধ্যমে পাচার রোধ, পাচারকৃতদের উদ্ধার ও পূনর্বাসন করছে বলে জানান তারা।
###