বাংলাদেশে এইচআইভি ভাইরাসে সংক্রমিত ৫,৫৮৬ জন


315 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বাংলাদেশে এইচআইভি ভাইরাসে সংক্রমিত ৫,৫৮৬ জন
ডিসেম্বর ১, ২০১৮ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

॥ নাজমুল আলম মুন্না ॥

মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের ধারায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নিয়ামক দ্বারা আমাদের বিকাশ ও অগ্রগতির পথ বাধাগ্রস্থ হয়েছে। নানান প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ ও মহামারী অনেক সময় আমাদের অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করেছে। ঠিক তেমনি ভাবে বিংশ শতাব্দির শেষভাগে অর্থাৎ ৮০ দশকে “এইডস” নামে একটি ভয়াবহ রোগ পুরো মানব সভ্যতাকে প্রশ্নের মুখোমুখি দাড় করিয়েছে। যার কোন নিরাময়ক ঐষধ এখনও সৃষ্টি করা সম্ভব হয়নি। প্রশ্নবিদ্ধ করেছে আমাদের জীবনের অর্ন্তনিহিত নানা আচার ও আচরণকে। এইচআইভি ভাইরাস সংক্রমের ফলে মানুষের শরীরে এই রোগের বিস্তার ঘটায়- যার ফলে সে আস্তেআস্তে সকল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে হারিয়ে ফেলে। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে বিশ্বব্যাপী আমরা এর বিস্তারের গ্রতিকে কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি। তবুও এখনও কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারিনি। সমাজের সচেতন নাগরিক হিসাবে আমাদের আরও রেশী দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। বাংলাদেশে এইচআইভিতে আক্তান্ত প্রথম ব্যক্তি সনাক্ত হয় ১৯৮৯ সালে। বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থাণ এবং প্রতিবেশী দেশ সমূহে এইচআইভি ও এইডস এর আধিক্য আমাদেরকে অত্যন্ত ঝুকির মধ্যে ফেলেছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় দেশে প্রতিবছর এইচআইভি ও এইডস এ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। জাতীয় এইড্স (এসটিডি) কর্মসূচী কর্তৃক প্রকাশিত ১ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখের তথ্য মতে- বাংলাদেশে ২০১৭ সালে এইচআইভি ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে ৫,৫৮৬ জন। তাদের মধ্যে শুধুমাত্র ২০১৭ সালে নতুন এইচআইভি সংক্রমণের সংখ্যা ৮৬৫ জন যাদের মধ্যে নারী-২১৩ জন, পুরুষ ৬৩৯ জন এবং হিজড়া ১৩ জন। ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছে ৯২৪ জন এবং শুধুমাত্র ২০১৭ সালে মৃত্যুবরণ করেছে ১২৫ জন। ইউএনএইড্স ২০১৬ এর তথ্যমতে বাংলাদেশে অনুমিত ১১,৭০০ জন এইচআইভিতে আক্রান্ত ব্যক্তি রয়েছে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বে মোট এইচআইভি পজেটিভের সংখ্যা ৩.৬৭ কোটি। যার মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে ৩.৪৫ কোটি, নারী রয়েছে ১.৭৮ কোটি, ১৫ বছরের শিশু রয়েছে ২১ লক্ষ, ২০১৬ সালে এইচআইভিতে সংক্রমিত হয়েছে ১৮ লক্ষ এবং ২০১৭ সালে মৃত্যুবরণ করেছে ৩.৫ কোটি। এছাড়া শুধুমাত্র ২০১৬ সালে মৃত্যু বরণ করেছে ১০ লক্ষ।


১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও জেলা সিভিল সার্জন অফিসের আয়োজনে এবং উন্নয়ন সংগঠন লাইট হাউজ কনসোর্টিয়াম, বরসা, ব্র্যাক, সুর্যের হাসি ক্লিনিক, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, সিএনআরএস, অর্জন ফাউন্ডেশন, ডিআরআরএ, স্বদেশ, ক্রিসেন্ট, ঋশিল্পীর সহযোগীতায় বর্নাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “এইচআইভি পরিক্ষা করুন নিজেকে জানুন” এই প্রতিপাদ্যকে ধারন করে শনিবার সকাল ৯ টায় জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক চত্তর হতে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী আরম্ভ হয়ে র‌্যালীটি সাতক্ষীরা শহর প্রদক্ষিন করে সদর হাসপাতাল সংলগ্ন জেলা নার্সিং ইনষ্টিটিউট হলরুমে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়। জেলা সিভিল সার্জন অফিসের জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার শাহানারা খাতুনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস,এম মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন সর্বপ্রথমে আমাদের এইডস সম্পর্কে জানতে হবে এবং সবাইকে জানাতে হবে। এজন্য সরকারী ও বেসরকারী ভাবে অনেক বেশী প্রচার প্রচারণার ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি অনুরোধ করে বলেন যারা বা যেসমস্থ সংগঠন মরণব্যাধী এইডস নিয়ে কাজ করছে তাদের এইডস এর ভয়াবহতা সম্পের্কে সাধারন জনগণকে অবগত করার জন্য শহরে এবং শহরের বাইরের এলাকায় সাইন বোর্ড এবং বিলবোর্ড স্থাপনের দরকার এতে মানুষ আরও বেশী জানতে পারবে এবং সচেতন হবে। সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরা হওয়ার ফলে এই এলাকার মানুষ অনেক বেশী এইডস এর ঝুকিতে রয়েছে। এইডস যদি একবার হয় তাহলে সেটা মানুষের শরীরে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা চিরতরে হারিয়ে ফেলে যার ফলে তার মৃত্যু নিশ্চিত। এছাড়া যতদিন সে বাচবে সামাজিকভাবে তাকে হেও প্রতিপন্ন, ঘৃনা এবং অবহেলার পাত্র হতে হয়ে বেচে থাকতে হয়। এইডস রোগে আক্রান্ত হবার আগে বা কাউকে সন্দেহ হলে তাকে অবশ্যই পরিক্ষা করানো দরকার এক্ষেত্রে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এইডস পরিক্ষার সুব্যবস্থা রয়েছে। অজান্তেই একজন ইনোসেন্ট ব্যক্তি বিশেষ করে নারী বা মেয়েরা এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে কারণ যারা নিয়মিত বিদেশ ভ্রমন করে বা এইচআইভি ভাইরাস বহন করে তাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবব্ধ হলে, এইচআইভি পজেটিভ ব্যক্তির সাথে একই সিরিঞ্জ ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য নিলে বা আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে দুধপানে শিশুরাও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। অত্রএব আমরা যারা সুস্থ্য-সুন্দর জীবন চাই তারা আরও বেশী সচেতন হই, অন্যদেরকে সচেতন করি এবং নিরাপদ জীবনের জন্য অনিরাপদ যৌনমিলন থেকে সরে আসার আহবান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন যারা এইডস রোগে আক্রান্ত হয়েছে তাদের জীবন খুবই দুর্বিসহ যন্ত্রনা দায়ক এবং সম্মানহানীর কারন হয়ে দাড়ায়। তবে এই রোগে আক্রান্ত ৯০ ভাগ রোগীকে প্রকৃত স্বাস্থ্যসেবা ও সুচিকিৎসায় অনেকটা নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব। এইড্স রোগে যারা সবচেয়ে ঝুকিতে রয়েছে তারাহলো-যৌন পল্লীতে অবস্থানকারী যৌনকর্মী, ভাসমান যৌনকর্মী, বাসাবাড়ীতে এবং হোটেলে অবস্থানকারী যৌনকর্মী, শিরায় ও মুখে মাদকগ্রহনকারী, পুরুষ যৌনকর্মী, হিজড়া এবং যৌনকর্মীদের খদ্দের।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইলতুৎমিশ, সহকারী কশিশনার ইন্দ্রজিৎ সাহা, সহকারী কমিশনার মোঃ আজাহার আলী ও লিখন বনিক। এনজিওদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন লাইট হাউজ কনসোর্টিয়ামের ডিআসি ম্যানেজার মোঃ সঞ্জু মিয়া। দিবসটি উপলক্ষ্যে লাইট হাউজ কনসোর্টিয়াম সদর হাসপাতালের সম্মুখে দিনব্যাপী এইচআইভি এবং এইড্স দিষয়ক তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্র স্থাপন করেন।

##