বাংলাদেশে ডেঙ্গু দমনে যে পরামর্শ দিলেন কলকাতার ডেপুটি মেয়র


80 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বাংলাদেশে ডেঙ্গু দমনে যে পরামর্শ দিলেন কলকাতার ডেপুটি মেয়র
আগস্ট ৫, ২০১৯ জাতীয় প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

এডিস মশার নিয়ন্ত্রণে ওষুধের মাধ্যমে উড়ন্ত মশা মারার পাশাপাশি উৎসস্থল ধ্বংস করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে (ডিএনসিসি) বেশি গুরুত্ব আরোপের পরমার্শ দিয়েছেন কলকাতার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ। তিনি বলেছেন, এডিস মশার নিয়ন্ত্রণে ওয়ার্ড পর্যায়, আঞ্চলিক পর্যায় এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়- এই তিন স্তরে মনিটরিং করা প্রয়োজন। তাহলে ডেঙ্গু আর মহামারি আকার ধারণ করবে না।

সোমবার ডিএনসিসি নগরভবনে এই ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়। কলকাতা সিটি করপোরেশন থেকে যোগ দেন অতীন ঘোষ। তার সঙ্গে ছিলেন কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রধান ভেক্টর কন্ট্রোল কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মনিরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য বিষয়ক মুখ্য পরামর্শক তপন মুখার্জি প্রমুখ। ঢাকা থেকে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলাল উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক খলিলুর রহমান, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই, সচিব রবীন্দ্রশ্রী বড়ূয়া, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মমিনুর রহমান মামুন, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মঞ্জুর হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালযের কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার প্রমুখ।

ডিএনসিসির পক্ষ থেকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কলকাতা কি কি পদ্ধতি অবলম্বন করে তা জানতে চান মেয়র। পাশাপাশি ডিএনসিসির কী করণীয় সে পরামর্শও চান। জবাবে নিজ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন অতীন ঘোষ বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলার ধাপ দুটি। এক. প্রিভেনটিভ (প্রতিরোধমূলক)। দুই. কিউরেটিভ (প্রতিকারমূলক)। তবে সবচেয়ে বেশি কার্যকর এবং গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। অতীন ঘোষ বলেন, তারা এডিস মশার প্রজননস্থল খুঁজে বের করে ধ্বংস করেন। তৃণমূল পর্যায়ে বা ওয়ার্ড পর্যায়, আঞ্চলিক পর্যায় ও সিটি করপোরেশনের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে এটি মনিটরিং করা হয়।

অতীন ঘোষ বলেন, এডিস মশা নিধন করতে হলে আগে উৎসস্থল জানতে হবে। উৎসস্থল জানার জন্য কলকাতা সিটি করপোরেশনের ১৪৪টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে একজন করে মোট ১৪৪ জন কর্মী আছেন। তাদের কাজই হচ্ছে প্রতিদিন তথ্য দেওয়া। মশার উৎসস্থল খুঁজে বের করা। এমনকি তারা হাসপাতাল থেকে প্রতিদিন নতুন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর তথ্য নেন এবং তার বাসায় গিয়ে এডিস মশার প্রজননস্থল খোঁজেন। এভাবেও উৎসস্থল চিহ্নিত করা হয়। তারপর সেটা ধ্বংস করা হয়। যেসব এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হয়, সেসব এলাকায় গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হয়।

খতিব-ইমামদের সঙ্গে আলোচনা আতিকুলের

ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে খতিব- ইমাম-মুসল্লিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

সোমবার রাজধানীর মিরপুরে জামিউল উলুম মাদ্রাসা ও মসজিদ কমপ্লেক্সে খতিব, ইমাম, আলেম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু সচেতনতা বিষয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। মেয়র তাদের মসজিদে বয়ানে এলাকাবাসীকে সচেতন করতে তাগিদ দেন।

জামিউল উলুম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মো. আবুল বাশার নোমানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, কারিগরী ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুনশী সাহাবুদ্দীন আহমেদ, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ জয়নুল বারী এবং ঢাকা জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান প্রমুখ।