বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরে ৩ বছরে ৭৬ হাজার শিশুর জন্ম


188 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরে ৩ বছরে ৭৬ হাজার শিশুর জন্ম
আগস্ট ২৬, ২০২০ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

সুভাষ চৌধুরী

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মায়ানমারের বর্বর সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে জীবন রক্ষায় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা এখন ১১ লাখেরও বেশী। বাংলাদেশ সরকার তাদের আশ্রয়, খাদ্য সহায়তা ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

বুধবার বাংলাদেশে রোহিঙ্গা প্রবেশের ৩ বছর পূর্তি ছিল। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সরকার তাদের প্রতি মানবিক আচরন যতটুকু করা সম্ভব তা করেছেন। আন্তর্জাতিক সংগঠন সেভ দ্য চিলড্রেন এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব নারী অন্তসত্ত্বা ছিলেন তারা বাংলাদেশে আসার কিছুদিনের মধ্যে সন্তানের জন্ম দেন। এদের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ। এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরে আরও ৭৫ হাজার ৯৭১ টি শিশু জন্মগ্রহন করেছে। কোন শিশুর জন্মগ্রহন যেমন আনন্দদায়ক তেমনি তা ওই পরিবারের বাবা মায়ের কাছে হাসির ঝলক। বর্তমান সময়ে রোহিঙ্গা জনসংখ্যার ৯ শতাংশ শিশু বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবিরগুলিতে রয়েছে।

রোহিঙ্গাদের নিয়ে সরকার এমনিতেই বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। এ রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমারের সাথে বারবার সমন্বয় মিটিং করে এখন পর্যন্ত সেদেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক রোহিঙ্গা পাঠাতে পারেনি। বর্তমান চলমান করোনা পরিস্থিতিতেও সরকার রোহিঙ্গাদের কাছে ৬ লাখেরও বেশী তালিকা পাঠিয়েছে। কিন্তু তারও কোন সমাধানের লক্ষন দেখা যাচ্ছে না। দেশের ৬ হাজার একর জমিতে ১০ লাখ রোহিঙ্গার অবস্থান বাংলাদেশকে আসলেই একটি সংকটাপন্ন অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। সরকার বিভিন্ন মহল থেকে চাপ দিয়েও এর কোন স্থায়ী সমাধানে আসতে পারছেন না।

মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা শরনার্থীরা এমনিতেই দরিদ্র। তারা অসচেতন। তাদের বাসস্থান ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাও যথেষ্ট স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এছাড়া জন্মনিয়ন্ত্রন সম্পর্কে তারা সচেতন নয়। এজন্য ঘরে ঘরে অনিরাপদ পরিবেশে শিশুরা জন্ম নিচ্ছে। এর ফলে বাড়তি চাপ আসছে সরকারের ওপর। আমরা মনে করি অনতিবিলম্বে এই সংকট দূরীকরনে তাদের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রনের হার স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরিয়ে আনতে হবে। দুটি সন্তানই যথেষ্ট, একটি হলে ভাল হয়, বাংলাদেশ সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গির সাথে তাদের সমন্বিত করতে হবে। একই সাথে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাল্যবয়সে বিবাহ রোধে সব ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের মধ্যে অস্বাভাবিক দৈহিক সম্পর্ক রোধে সরকারের নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে। ৩ বছরে যেসব শিশু জন্মগ্রহন করেছে আমরা তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করি। এখন থেকে নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা আরও জোরদার না করা গেলে তা একটা বোঝা হয়ে দাড়াতে পারে। যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

#

—————- সুভাষ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব